Inqilab Logo

শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ১৭ আষাঢ় ১৪২৯, ০১ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

নির্বাচনী সহিংসতার জেরেই খুন জয়পুরহাটের ইউপি চেয়ারম্যান

প্রকাশের সময় : ১০ নভেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

হত্যাকা-ে অংশ নেয় ৭ জন : গ্রেফতার মুন্না এসব তথ্য দিয়েছে বলে পুলিশের দাবি
স্টাফ রিপোর্টার : আধিপত্য বিস্তার আর নির্বাচনী সহিংসতার জের ধরেই জয়পুরহাটের ইউপি চেয়ারম্যান এ কে আজাদ খুন হয়েছেন। এ হত্যাকা-ে অংশ নেয় সাত জন। আজাদ হত্যার আসামি মুন্না পারভেজকে রাজধানীর তুরাগ এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিকভাবে এ সব তথ্য দিয়েছে। গতকাল (বুধবার) বিকেলে রাজধানীর র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক তুহিন মুহাম্মদ মাসুদ।
তিনি বলেন, গত ৪ জুন জয়পুরহাট জেলা সদরের ভাদশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১২ জুন তিনি মারা যান। আজাদের খুনের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে সৈকত আহম্মেদ ও সাদ্দাম হোসেন নামে দুই জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় তারা। এর দু’দিন পর গত ১৪ জুন সৈকত এবং আরও এক যুবক মুনির পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান।
র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তুরাগের রানাভোলা এলাকা থেকে আজাদ হত্যাকা-ের প্রধান আসামি মুন্না পারভেজকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার দিন দুর্গাদহ বাজারের কাছে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মুন্না, মুনির, নাজিমসহ অন্যান্য আসামীরা মিটিং করে। সেই মিটিংয়ে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়। এই হত্যাকা-ের জন্য চেয়ারম্যান হাতেম (সাবেক)-এর কাছ থেকে দুই লাখ টাকাও নেয় ঘাতকরা।
তিনি জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী মুন্না ও সৈকত আজাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে। তারই ধারাবাহিকতায় সৈকত দুর্গাদহ বাজারে অবস্থান করে। রাত ৯টা ১৫ মিনিটে সৈকত মোবাইলে চেয়ারম্যানের গতিবিধি সম্পর্কে মুন্নাকে জানায়। চেয়ারম্যানের মোটরসাইকেল গোপালপুর বাজার অতিক্রম করার সময় অন্ধকারে আড়ালে থাকা আসামি সাইফুল মোটরসাইকেলের হেড লাইট জ্বালায় এরই মধ্যে অন্য আসামি মুন্না, নাজিম, সোহেল, সৈকত, রাজু, সাইফুল, হাকিম চেয়ারম্যানের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেই অতর্কিত হামলা করে। তারা প্রথমে চেয়ারম্যানের হাতে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয়। চেয়ারম্যানের মোটরসাইকেলে থাকা পবিত্র কুমারকে জখম করে চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে আসামি মুন্না ও নাজিম তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় পথচারী শ্রী নয়ন এগিয়ে আসলে মুন্না ও নাজিম তাকেও গুলি করে। চেয়ারম্যান আজাদ পেটে গুলিবিদ্ধ হবার পরও আত্মরার্থে পালানোর সময় দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজান আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে প্রথমে জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতালে পরে উন্নত ছিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১২ জুন মারা যান চেয়ারম্যানে আবুল কালাম আজাদ।
জানা গেছে, গত ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত ভাদসা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ জয়ী হন। আজাদের হত্যা ঘটনায় তার ছোট ভাই এনামুল হক সদর থানায় দুইটি মামলা করেন।
র‌্যাব জানায়, মুন্না পারভেজ নিজেকে একই ইউনিয়নের মেম্বার হিসেবে দাবি করছে। মুন্না পারভেজ পূর্বেও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়ে আসছিল এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সহিংসতা চালিয়ে আসছিল। ধারণা করা হচ্ছে, আধিপত্য বিস্তার ও নির্বাচন সহিংসতার কারণে আবুল কালাম আজাদকে খুন করা হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: নির্বাচনী সহিংসতার জেরেই খুন জয়পুরহাটের ইউপি চেয়ারম্যান
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ