Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯, ২৯ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

ইতালি-পর্তুগালের টিকে থাকার লড়াই

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৪ মার্চ, ২০২২, ১২:০১ এএম

রাশিয়া বিশ্বকাপে না খেলতে পারার হতাশা কাটিয়ে গত কয়েক বছরে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ইতালি। জিতে নেয় ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি। তবে কাতার বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে রয়ে গেছে শঙ্কা। প্লে-অফে যে আটকে গেছে তাদের বিশ্বকাপ-ভাগ্য! পরপর দুবার বিশ্বসেরার মঞ্চে দেখা যাবে না ইতালিকে, মানতেই পারছেন না দেশটির সাবেক তারকা ডিফেন্ডার ফাবিও কানাভারো।
কাতার বিশ্বকাপের ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইয়ে ‘সি’ গ্রুপে রানার্সআপ হওয়ায় ইতালিকে প্লে-অফে খেলতে হচ্ছে। এই অঞ্চলের বাছাইয়ে ১০ গ্রুপের শীর্ষ ১০ দল সরাসরি পেয়েছে কাতার বিশ্বকাপের টিকেট। ১০ গ্রুপের রানার্সআপ ও নেশন্স লিগের সেরা দুই গ্রুপ জয়ী মিলে হবে ১২ দলের প্লে-অফ। সেখান থেকে আরও তিনটি দল সুযোগ পাবে বিশ্বকাপে। প্লে-অফের ‘সি’ গ্রুপে ‘সেমি-ফাইনাল’ নামের প্রথম ধাপে বাংলাদেশ সময় আজ রাত পৌনে ২টায় নর্থ মেসিডোনিয়ার বিপক্ষে খেলবে ইতালি। এই ম্যাচের বিজয়ী দল পাঁচদিন পর খেলবে আজ রাতের পর্তুগাল ও তুরস্কের মধ্যকার আরেক সেমি-ফাইনালে জয়ী দলের বিপক্ষে। ওই ম্যাচের বিজয়ীরা পাবে বিশ্বকাপের টিকেট। প্লে-অফের এই গ্রুপ থেকে ইতালি বা পর্তুগালের মধ্যে একটি দলের বাদ পড়াটা তাই নিশ্চিত। ফলে বিশ্বসেরার মঞ্চে দেখা যাবে না ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সবশেষ দুই আসরের যেকোনো এক চ্যাম্পিয়নকে।
রাশিয়া বিশ্বকাপে ইতালি খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর ২০১৮ সালে কোচ হিসেবে নিয়োগ পান মানচিনি। তার হাত ধরেই ইউরো-২০২০ এর শিরোপা জেতে দলটি। বিশ্বকাপের বাছাইয়ে ভালোভাবেই শীর্ষে থেকে লক্ষ্য পূরণের পথে ছিল ইতালি। কিন্তু শেষ ম্যাচে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে গ্রুপ সেরা হতে ব্যর্থ হয় তারা। ইতালির হয়ে ২০০৬ বিশ্বকাপ জেতা কানাভারো মনে করেন, পরপর দুটি বিশ্বকাপে না খেলতে পারাটা তাদের জন্য হবে বড় এক বিপর্যয়। সম্প্রতি ইতালির এক সংবাদমাধ্যমে সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ডিফেন্ডার আশা প্রকাশ করেন, কোচ মানচিনি ঠিকই ইতালিকে বিশ্বকাপে তুলতে পারবেন, ‘আমাদের কাতার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে পর্তুগাল, তবে তুরস্ককেও হিসাবের বাইরে রাখা যাবে না। তবে তার আগে আমাদের অবশ্যই (নর্থ) মেসিডোনিয়াকে হারাতে হবে। আমরা রোমে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে (গ্রুপ পর্বে) একটি সুযোগ নষ্ট করেছিলাম। আট বছর আমরা বিশ্বকাপে খেলব না, এমনটা হতেই পারে না।’
খেলোয়াড়ি জীবনে কানাভারো ছিলেন তার সময়ের সেরা ডিফেন্ডারদের একজন। ২০০৬ বিশ্বকাপে ইতালির অধিনায়ক ছিলেন তিনি। দেশকে বিশ্বসেরার মুকুট জেতানোর বছরে জিতেছিলেন ফিফা বর্ষসেরার পুরস্কার ও ব্যালন ডি’অর। ক্যারিয়ারে খেলেছেন ইন্টার মিলান, জুভেন্টস (দুই মেয়াদে) ও রিয়াল মাদ্রিদের মত জায়ান্ট ক্লাবে।
এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে জোর ধাক্কা খেল পর্তুগালও। কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়ে ছিটকে গেছেন তাদের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার পেপে। ৩৯ বছর বয়সী পোর্তোর এই খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতির অর্থ হলো আসছে প্লে-অফে মূল দুই সেন্টার-ব্যাককে ছাড়াই খেলতে হবে ২০১৬ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাজয়ীদের। আরেক সেন্টার-ব্যাক ম্যানচেস্টার সিটির রুবেন দিয়াস হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে আগেই ছিটকে গেছেন। শেষ সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ের জন্য পেপের পরিবর্তে লিল ডিফেন্ডার তিয়াগো দিয়ালোকে ডেকেছেন পর্তুগাল কোচ ফের্নান্দো সান্তোস।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইতালি-পর্তুগালের টিকে থাকার লড়াই
আরও পড়ুন