Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০৩ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

মন্ত্রণালয়ের তদন্ত দলের দিনভর পরিদর্শন ফেঁসে যাচ্ছেন খুলনা সিএসডি’র কর্মকর্তা-ডিলার-কালোবাজারীরা

প্রকাশের সময় : ১১ নভেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

আশরাফুল ইসলাম নূর, খুলনা থেকে : চাল কালোবাজারে বিক্রির ঘটনা তদন্তে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দু’সদস্যের টীম গতকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল সোয়া ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চষে বেড়িয়েছেন খুলনা সিএসডি খাদ্যগুদাম। সরেজমিন পরিদর্শনে- গুদাম ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতি, ডিলারদের সাথে সখ্যতা ও গুদামে নিম্নমানের চাল থাকার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছেন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আতিকুল ইসলাম, খাদ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মামুন আল মোর্শেদ নেতৃত্বাধীন এ টীমের তদন্তের সময়ে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রক ড. এসএম মুহসিন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এসএম মাহবুবুর রহমান, খুলনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মেহেদী মোর্শেদ, সিএসডি খুলনার ব্যবস্থাপক আব্দুল মান্নান তালুকদার, র‌্যাব-৬’র স্পেশাল কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সরেজমিন দেখা গেছে- ওপেন মার্কেট সেল’র (ওএমএস) চাল নিয়ে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির রহস্য উদ্ঘাটনে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের টীম বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে খুলনা সিএসডি খাদ্য গুদামে পৌঁছান। সেখান থেকে গত ১ নভেম্বরে জব্দ এক ট্রাক (১৩ হাজার ৭৫০ কেজি) চাল চুরির ঘটনায় প্রথমেই নিরাপত্তা প্রহরী ও কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। পরে সীলগালাকৃত ২৬নং গুদাম খুলে দেন জেলা প্রশাসন। ঢুকেই তদন্ত টীমের চোখে পড়ে চাল ও গমের খামাল কার্ড ঝুলানো না থাকা। পরে রেকর্ড ও খামালের সংখ্যা অমিল পান তারা। এঘটনায় গুদাম ইনচার্জ মোঃ ইলিয়াসকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন তারা। সংশ্লিষ্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কপি করে নেন তদন্ত কর্মকর্তারা। তদন্ত টীমের সদস্য খাদ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মামুন আল মোর্শেদ বলেন, দুই শ’র মতো বস্তাই অর্ধেক চাল। খামাল কার্ড ঝুলানো নেই একটিতেও। দেশের অর্ধশতাধিক খাদ্য গুদাম পরিদর্শন করেছি; এটার মতো গাফিলতি কোথাও দেখিনি। এ গুদামের প্রত্যেকটি খামালের চাল ও গমের স্যাম্পল সংগ্রহ করে নিয়েছি।
পরে দুপুরে ১৮নং গুদামের সীলগালা খুলে নিম্নমানের চাল দেখে হতবাক হন কর্মকর্তারা। চলতি বছরের সংগ্রহকৃত বোরো চালের এ অবস্থা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন তারা। এসব চালের নমুনা ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছেন তারা। এসময়ও গুদাম ইনচার্জ মোঃ জাহাঙ্গীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শেষে ৩২নং গুদামে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে চালের নমুনা সংগ্রহ করেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আতিকুল ইসলাম বলেন, তদন্তাধীন বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক না। চালের নমুনা সংগ্রহ করেছি। দু’টি গুদামে চাল নিম্নমানের সেটা দেখেছি। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে; সেখানেই বিস্তারিত তুলে ধরবেন বলে জানান তিনি।
সূত্র জানায়, গত ২ নভেম্বর খুলনার ফুলতলার ১৪ মাইল এলাকা থেকে ১৩ হাজার ৬০০ কেজি চালসহ একটি ট্রাক জব্দ করেছিল র‌্যাব। ওই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত রয়েছেন সাবেক সভাপতি মরহুম নাজিম সরদারের ছেলে শ্রমিক নেতা নাসির (৩৫), মৃত আঃ কুদ্দুসের ছেলে আজগর (৬০), আব্দুল লতিফের ছেলে ভুট্টু (৪৮), ২৬নং গোডাউনের ইনচার্জ ইলিয়াস হোসেন (৫৪), সিএসপি গোডাউনের ম্যানেজার আব্দুল মান্নান তালুকদার। সিএসডি গুদাম থেকে চাল চুরির ঘটনায় গত ২ নভেম্বর রাতে খালিশপুর থানায় র‌্যাব-৬ এস আই খোন্দকার হোসেন আহমেদ বাদী হয়ে ৮ জনকে আসামি করে মামলা করেন। খুলনার সিএসডিতে ৮৯টি খাদ্য গুদাম রয়েছে। র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, কালোবাজারে চাল বিক্রিতে কর্মকর্তা, ডিলার ও মিল মালিকদেরও যোগসাজশ রয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ