Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট ২০২২, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯, ১২ মুহাররম ১৪৪৪
শিরোনাম

দেশে মাছ চাষে ঔষধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার হচ্ছে : বাকৃবি গবেষক

বাকৃবি প্রতিনিধি | প্রকাশের সময় : ৩১ মার্চ, ২০২২, ৬:১২ পিএম

বাংলাদেশে মাছ চাষে ঔষধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার হয় ব্যাপক পরিমাণে। অধিকাংশ ঔষধ ব্যবহার করা হয় পানির গুনাগুণ রক্ষা এবং রোগ প্রতিরোধের জন্য। কিন্তু বেশিরভাগ কৃষকই ঔষধ ব্যবহারবিধি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকায় তারা অনিয়ন্ত্রিত ভাবে ঔষধ ব্যবহার করে থাকেন। এমনকি ঔষধের ব্যবহার নিয়ন্ত্রনের জন্য কোন প্রণোদনার এবং সরকারি তদারকি নেই।

‘মাছ চাষে ঔষধের ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন’ শীর্ষক একটি গবেষণা শেষে এসব তথ্য দিয়েছেন প্রকল্পের প্রধান গবেষক ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একোয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল হক। প্রকল্পটির আওতায় বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, বাংলাদেশে মাছ চাষিরা ঘনঘন মাছের রোগের প্রাদৃর্ভাবের জন্য আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন। তাই রোগ নিরাময়ে ঔষধের ব্যবহার অপরিহার্য। কিন্তু ঔষধের সঠিক ব্যবহার প্রণালি না জানা, সামাজিক প্রেক্ষাপট ও প্রভাবকগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় মাছ চাষে ঔষধের ব্যাপক অপব্যবহার হচ্ছে। এর ফলে পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাক ঝুঁকিতে পড়ছে। সামগ্রিকভাবে মাছ চাষে ঔষধ প্রয়োগের ক্ষেত্রে ৬১ শতাংশ সঠিক ডোজ ব্যবহার করে এবং ৮২ শতাংশ ক্ষেত্রে চিকিৎসার সঠিক সময়সীমা মেনে ঔষধ ব্যবহার করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পুকুরের পানি ও মাটি ব্যবস্থাপনায় এসব ঔষধ প্রয়োগ করা হয় বিধায় ঔষধের প্রোবায়োটিক কার্যকারিতা সবচেয়ে কম। তাই এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রন্তিক পর্যায়ের চাষিদের কাছে ঔষধের ভ্যালু চেইন ম্যাপ তৈরি, বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা এবং বিচক্ষণতার সাথে ঔষধের ব্যবহার নিশ্চিত করতে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

তিনি আরো বলেন, প্রকল্পের আওতায় ময়মনসিংহ জেলার তিনটি উপজেলায় জরিপ করা হয়। মৎস্য চাষি, দোকান মালিক, কোম্পানির এজেন্ট ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে যে, মাছ চাষে ঔষধের অপব্যবহারের প্রধান সমস্যা তিনটি। এগুলো হলো শিক্ষার অভাব, আইনের দুর্বল বাস্তবায়ন ও রোগ নির্ণয়ে অপ্রতুলতা। মাছ চাষিরা ঔষধের প্রাপ্যতা, আগ্রহ ও পছন্দের ক্ষেত্রে ঔষধের দোকানদারদের ইচ্ছা ও পছন্দ দ্বারা বেশি প্রভাবিত হয়।

তাই ভালো মানের মাছ উৎপাদনের জন্য তরল ঔষধের যথার্থ প্রয়োগ, ঔষধ শিল্প পর্যবেক্ষণে জাতীয় নীতি প্রণয়ন এবং ব্যবহারবিধি ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মাছ চাষি ও দোকান মালিকদের প্রশিক্ষণ দেয়ার উপর তিনি জোর দেন।

বাকৃবির মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ আবুল মনসুরের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ আবু হাদী নূর আলী খান। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ মাৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) পরিচালক ড. মো. খলিলুর রহমান, মৎস্য অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগ উপ-পরিচালক ড. মোঃ আফতাব হোসেন। এছাড়া অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণ, ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তাবৃন্দ ও মাছ চাষিরা কর্মশালায় অংশ নেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বাকৃবি


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ