Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

ঐতিহ্যের লড়াইয়ে জয়ী ব্রাজিল

প্রকাশের সময় : ১২ নভেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্পোর্টস ডেস্ক : ব্রাজিল মিডফিল্ডার রেনাতো আগুস্তোর ভাষ্যটাই তাহলে সত্যি হল। আগেই কষে রাখা মেসিকে আটকানোর ছক কাজে দিল পুরোপুরি। ফলাফল : তিন ম্যাচ পর লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনা দলে ফিরলেও ফেরাতে পারলেন না দলের ভাগ্য। উল্টো চিরপ্রতিদ্ব›দ্বীদের কাছে ৩-০ গোলে হেরে অনিশ্চয়তার সুতোঁয় ঝুলছে রাশিয়া বিশ্বকাপের ভাগ্য।
বেলো হরিযন্তের গতকালের গল্পটা যতটা না আর্জেন্টাইনদের ব্যার্থতার তার চেয়েও যেন বেশি ব্রাজিলিয়ানদের সফলতার। ‘সুপার ক্লাসিকোর’ উত্তাপ মাঠে ছিল ম্যাচের সিকি সময়টুকু মাত্র। বাকি সময়টা বিশাল মাঠকে ক্যানভাস বানিয়ে তাতে হলুদের ছোঁয় দিলেন নেইমার-কোতিনহো-পাওলিনহোরা। ছন্নছাড়া আর্জেন্টিনাকে শেখালো ফুটবলের মন্ত্র। দুই বছর আগে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হারের পর যারা ব্রাজিলের ফুটবলকে মৃতপ্রায় ঘোষণা করেছিলেন, সেই মাঠেই এবার তারা দেখল সেলেসাওদের সেই হলুদের ছন্দ। এই তারুণ্যপ্রধান দল যেন ঘোষণা দিল ফুটবলের সেই পুরোনো দিনগুলোকে ফিরিয়ে আনার। যাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখা যায়। যে স্বপ্নে সেলেসাওরা সারথী হিসেবে পেয়েছেন একজন নেইমারকে। কি দুর্দান্তই না খেললেন এদিন। বয়স তো মাত্রই ২৪। অথচ এখনি নিজেকে নিয়ে গেছেন অভাবনীয় উচ্চতায়। গতকাল তার পাস থেকেই ফিলিপ কোতিনহো ২৫তম মিনিটে চোখ ধাঁধানো এক গোলে দলকে এগিয়ে নেন। বিরতির আগ মুহূর্তে প্রায় একই ধরণের নিখুত আক্রমণ থেকে ব্যাবধান ২-০ করেন নেইমার নিজে। হলুদ জার্সিতে এটি তার ৫০তম গোল। এর আগে ফুটবলের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী জার্সিতে গোলের হাফ সেঞ্চুরি করেছেন মাত্র তিনজন। রোমারিও (৫৫), রোনালদোঁ (৬২) ও ফুটবল গ্রেটেস্ট পেলে (৭৭)। সর্বকালের সেরাকে পেরিয়ে যেতে আর মাত্র ২৮ গোল দরকার নেইমারের। চলতি বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ৭ ম্যাচে নেইমারের গোল ৪টি।
প্রথম গোলের পর থেকেই খেই হারিয়ে ফেলে আর্জেন্টিনা। জাতীয় দলে আবারো বিবর্ণ বিশ্বের সবচেয়ে খরুচে স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুয়েইন। সার্জিও আগুয়েরোকে প্রথমার্ধে বসিয়ে রাখার ভুলটা দ্বিতীয়ার্ধে করেননি আর্জেন্টিনা কোচ। আগুয়েরোর কল্যাণে খেলার গতি কিছুটা ফিরে পেলেও ৫৮তম মিনিটে পাওলিনহোর গোলে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে পড়ে আর্জেন্টিনা। এর ঠিক ৩ মিনিট আগে গোললাইন থেকে পাওলিনহোর শট ফিরিয়ে নিশ্চিত গোল বাঁচান পাবলো জাবালেতা। ব্রাজিল ফরোয়ার্ডরা ডি বক্সে আরেকটু নিখুত হলে অন্ততঃ আধা ডজন গোল হজম করতে হত মেসির দলকে। ম্যাচ জুড়ে স্বাগতিক ডিফেন্ডাররা কড়া পাহারায় রাখেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়, স্বখাবতই খুশির চরমে ব্রাজিল কোচ তিতি। এরপরও দলের আরো উন্নতি আশা করেন তিনি, ‘আমার অধীনে পাঁচটি ম্যাচ হয়েছে। দলের পারফর্মেন্সে আমি খুশি ও সুখীও। আসলে পাঁচ ম্যাচে পাঁচ জয় প্রত্যাশিত ছিল না। এটা আমার কল্পনারও বাইরে। এই দল এখনো অনেক উন্নতি করতে পারে।’
তিতে যখন কোচ হয়ে আসেন ব্রাজিল তখন পয়েন্ট টেবিলের ছয় নম্বরে। সেই দলই এখন পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। ঠিক এর উল্টো চিত্র আর্জেন্টিনায়। নতুন কোচ এদোগার্দো বাইজার অধীনে পাঁচ ম্যাচ থেকে জয় মাত্র একটি, দুটিতেই হার। ১১ রাউন্ড শেষে পয়েন্ট টেবিলের ছয়ে আর্জেন্টিনা। চাকরিটাই এখন অনিশ্চয়তার মুখে বাউজার। তিনি নিজেও বললেন, ‘এটা আমার ক্যারিয়ারের কঠিনতম হারগুলোর একটি।’ মেসির কন্ঠেও ছিল হতাশার সুর, ‘আমরা এই ফল আশা করিনি। প্রথম গোলের আগে ম্যাচটি সমানে সমান ছিল, আমরা ভালো খেলছিলাম।’ তবে এই ভুলগুলোই তিন দিন পর কলম্বিয়ার ম্যাচে কাজে লাগাতে চান এই বিশ্বসেরা, ‘আমাদের এখন কলম্বিয়া ম্যাচ নিয়ে ভাবতে হবে আর যে ভুলগুলো করেছি সেগুলোর পুনরাবৃত্তি করা যাবে না।’
এক নজরে ফল
কলম্বিয়া ০-০ চিলি
উরুগুয়ে ২-১ ইকুয়েডর
প্যারাগুয়ে ১-৪ পেরু
ভেনিজুয়েলা ৫-০ বলিভিয়া
ব্রাজিল ৩-০ আর্জেন্টিনা



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।