Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯, ০৫ চৈত্র ১৪২৫, ১১ রজব ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

হুমায়ূন আহমেদ

প্রকাশের সময় : ১৩ নভেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

গোলাম আশরাফ খান উজ্জ্বল
বাংলাভাষার সবচেয়ে পাঠকপ্রিয় সাহিত্যিক ছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। এ স্বার্থক কথা সাহিত্যিক শিশু, কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ সব বয়সী পাঠকের কাছে ছিলেন সমান জনপ্রিয়। হুমায়ূন আহমেদ নাটক, গল্প, উপন্যাস, রম্যরচনা ও  সিনেমার চিত্রনাট্য পর্যন্ত লিখেছেন। বাংলা সাহিত্যের সকল শাখায় তিনি পেয়েছিলেন সাফল্য। সব মিলিয়ে হুমায়ূন আহমেদ একটি কালের ¯্রষ্টা। ১৩ নভেম্বর ১৯৪৮ সালে হুমায়ূন আহমেদের জন্ম। জন্মস্থান নেত্রকোনার কুতুবপুর গ্রামে। তার লেখা গ্রন্থের চাহিদা আকাশ ছোঁয়া। তার লেখা পাওয়ার জন্য প্রকাশকরা বছরের পর বছর ঘুরতে থাকত। এক সময় প্রকাশকরা লেখকদের টাকা দিত না। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদ দেখিয়ে দিলেন কিভাবে প্রকাশকরা লেখকদের পিছনে ঘুরে টাকা নিয়ে। একটি বিশাল পরিবর্তন নিয়ে এলেন লেখকদের জীবনে। কর্ম জীবন শুরু অধ্যাপনার মধ্য দিয়ে। প্রথম ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিষ্টির অধ্যাপক। হুমায়ূন আহমেদ লেখালেখিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। ছেড়ে দিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি। একদিকে বই লেখা অন্য দিকে নাটক নির্মাণ। হুমায়ূন আহমেদ লিখলেন বাংলা সাহিত্যের এক বিখ্যাত উপন্যাস নন্দিত নরকে। ১৯৭২ সালে গ্রন্থটি প্রকাশ পায়। এ গ্রন্থটির মাধ্যমে ঝড়ের বেগে জনপ্রিয়তার আসনে চলে আসেন  হুমায়ূন আহমেদ। একে একে লিখলেন শংখনীল কারাগার, আগুনের পরশমনি, যশোহা বৃক্ষের দেশে, এলেবেলে, মজারভূত, মিছির আলী, হিমুর মতো কালজয়ী উপন্যাস ও গল্প। তার বিখ্যাত নাটকগুলো হলো এসব দিনরাত্রী, ঢাকায় থাকি, সকাল সন্ধ্যা ও অয়োময়। শ্রাবণ মেঘের দিনে হুমায়ূন আহমেদের একটি বিখ্যাত চলচিত্র। এলেবেলে একটি বিখ্যাত হাসির গ্রন্থ। মজারভূত এ লেখকের একটি চমৎকার শিশুতোষ গ্রন্থ। তোমার জন্য ভালোবাসা হুমায়ূন আহমেদের একটি বিখ্যাত সায়েন্স ফিকশন গ্রন্থ। শঙ্খনীল কারাগার পড়লে মনে হবে তিনি একজন কবি। এ গ্রন্থটিতে রয়েছে “দিত পারো একশ ফানুস এনে। আজ সলজ্জ সাধ একদিন আকাশে ফানুস ওড়াই”। আসলেই একটি কবিতা এটি। একটি বিষয় লক্ষণীয় হুমায়ূন আহমেদ তার বেশ কিছু বই রবীন্দ্রনাথের কবিতার লাইন থেকে নাম রেখেছেন। এগুলো হলো শ্যামল ছায়া, সে আসে ধীরে, সে দিন চৈত্র মাস, তুমি আমায় ডেকে ছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে। এ থেকে বুঝা যায় হুমায়ূন আহমেদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অনেক পছন্দ করতেন। বাংলা সাহিত্যের এ স্বার্থক ও পাঠকপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন তার সাহিত্য কর্মের মধ্যদিয়ে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: হুমায়ূন আহমেদ

২৭ জুলাই, ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন