Inqilab Logo

শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ০৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৮ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

জিলা পরিষদে অভিযোগ দিয়ে কোন লাভ হয় না

প্রকাশের সময় : ১৩ নভেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

বগুড়ার গোহাইল-দুর্গাপুর রাস্তার দুই ধারের সরকারি গাছ কেটে সাবাড়
মাহফুজ মন্ডল, বগুড়া থেকে : বগুড়া জিলা পরিষদের মালিকানাধিন কাহালু উপজেলার গোহাইল-দুর্গাপুর রাস্তার দুই ধারে সরকারি গাছ কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। এক মাসে কেটে নেয়া হয়েছে প্রায় শত গাছ। এ ঘটনার মূল হোতা জিলা পরিষদের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী মো: আব্দুস সালাম। তার গ্রামের বাড়ি ওই এলাকায় হওয়ার সুবাদে তিনি জিলা পরিষদের সরকারি সম্পত্তি এবং গাছপাালা নিজের মনে করে সব কিছুই করে থাকেন। জিলা পরিষদের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর লিখিতভাবে ইজারা প্রদান না করিয়া রাস্তার দুই ধারে নয়ন জলি মৌখিক ইজারা প্রদান, ফলদ গাছের ফল সংগ্রহ এবং বনজ গাছ বিক্রি করে থাকেন তিনি। এ ব্যাপারে জিলা পরিষদ কর্মকর্তাদের লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন কাজ হয় না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
এলাকাবাসীর অভিযোগ সরকারের বনায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে নন্দীগ্রাম উপজেলার দুর্গাপুর এলাকায় রাস্তার দুই ধারে বিগত ১০/১২ বছর আগে নানা জাতের বনজ গাছ লাগানো হয়। পাশাপাশি নয়ন জুলির আইলের উপর দিয়ে জমির মালিকরাও নানা জাতের গাছ রোপন করেন। জমির মালিকরা নিজেদের প্রয়োজনে গাছ কাটতে গেলে বাধা হয়ে দাড়ান জিলা পরিষদের কর্মচারী মো: আব্দুস সালাম। তিনি জমির মালিকদের গাছ কাটার অপরাধে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে মামলায় জড়ানোর ভয় দেখান। তবে গাছ বিক্রির অর্ধেক বা তার বেশি পরিমাণ টাকা তাকে দিলে মামলা থেকে জমির মালিকদের রেহাই দেয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন। মামলার ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ গাছ বিক্রির অর্ধেক পরিমান টাকা আব্দুস সালামকে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে জমির মালিকরা গাছ বিক্রির অনুমতি পায়।
গত শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় গোহাইল-দুর্গাপুর রাস্তার দুই ধারে নয়ন জুলির আইলের উপরে বেশ কিছু কেটে নেয়া গাছের গোড়া দেখা যায়। কিছু কিছু গোড়া আবর্জনা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এছাড়া কোন কোন গাছের গোড়া মাটি খুঁড়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
জামগ্রাম ইউনিয়নের শান্তা সুন্দরগাড়ী গ্রামের মৃত আজিম উদ্দিন সরকারের ছেলে ফজর আলী কাঠুরিয়া অভিযোগ করে বলেন, এসব গাছ কাটার মূল হোতা হলেন বগুড়া জিলা পরিষদের কর্মচারী মো: আব্দুস সালাম। জিলা পরিষদের একজন প্রভাবশালী কর্মকচারীর সাহসে তিনি লোকজন দিয়ে গাছ কেটে বিক্রি করেছেন। এব্যাপারে এলাকার বেশ কিছু লোক জিলা পরিষদের নির্বাহী কমকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কিন্তু কোন ফল হয়নি। তিনি আরও জানান, ভুমিহীন হওয়ায় তিনি রাস্তার দুই ধারের নয়ন জুলি ইজারা নেয়ার প্রস্তাব দেন। গত বছর নয়ন জুলি ইজাহার দেয়ার কথা বলে আব্দুস সালাম তার বাড়ি থেকে ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ষাঁড় নিয়ে যান। এছাড়া নগদ ২২ হাজার টাকাও নেন তাদের কাছ থেকে। এরপরেও তাকে নয়ন জুলি ইজারা না দিয়ে মালঞ্চা মাগুড়া গ্রামের মৃত মমতাজ এর ছেলে সামছুলকে এক বছরের জন্য উক্ত নয়ন জুলি ইজারা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেন আব্দুস সালাম।
একই উপজেলার অন্তাহার গ্রামের মৃত ইসমোতুল্ল্যাহ প্রামাণিকের ছেলে আলহাজ্ব খোরশেদ আলম ও তার ছেলে স্কুল শিক্ষক মো: জাহাঙ্গীর আলম জানান, সুন্দরগাড়ী এলাকায় জমির আইলের উপর দিয়ে তারা ১০ বছর আগে কিছু গাছ লাগিয়েছিলেন। ছেলে মেয়েদের স্কুল-কলেজের খরচ যোগাতে না পারায় তারা পিতা-পুত্র নয়ন জুলির আইলের উপরের গাছগুলো বিক্রির উদ্যোগ নেন। খবর পেয়ে জেলা পরিষদের কর্মচারী আব্দুস সালাম বাধা হয়ে দাড়ান। এক পর্যায়ে তিনি ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন। ৩০ হাজার টাকা না দিলে আব্দুস সালাম উক্ত আলহাজ্ব খোরশেদ অলম ও তার ছেলে স্কুল শিক্ষক মো: জাহাঙ্গীর আলমকে সরকারি গাছ কাটার অপরাধে মামলা জড়ানোর ভয় দেখান। বাধ্য হয়ে তারা আব্দুস সালামকে ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করে দেন। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে আব্দুস সালাম তাদের পুনরায় মামলায় জড়ানোর ভয় দেখান।
কাহালু উপজেলা এলাকায় সরকারি গাছ কর্তনের ব্যাপারে কাহালু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার চার্জে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এম জহিরুল হায়াত এর সাথে সেল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। তবে সরকারী গাছ টেন্ডার ছাড়া বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে ঘটনার সাথে জড়িতেদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে এ প্রতিবেদককে তিনি জানিয়েছেন।
জিলা পরিষদের কর্মচারী আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত একাধিক অভিযোগ বিষয়ে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিয়েছেন জানতে চাওয়া হলে বগুড়া জিলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আনোয়ার হোসেন জানান, একটি অভিযোগ তিনি পেয়েছেন তবে সেটা ২০১৪ সালের ঘটনা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জিলা পরিষদে অভিযোগ দিয়ে কোন লাভ হয় না
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ