Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯, ০৬ চৈত্র ১৪২৫, ১২ রজব ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

রিজার্ভ ভেঙে তিন কোম্পানির ডিভিডেন্ড বিনিয়োগকারীরা বেজায় খুশি

প্রকাশের সময় : ১৩ নভেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : ‘এ’ ক্যাটাগরি ধরে রাখতে ন্যূনতম ডিভিডেন্ড দিয়েছে বস্ত্র খাতের ডেল্টা স্পিনার্স এবং সায়হাম টেক্সটাইল। তাও মুনাফা থেকে দিতে পারেনি। এর জন্য রিজার্ভ ভাঙতে হয়েছে তাদের। এদিকে চলতি বছরে তালিকাভুক্ত হওয়া ইভিন্স টেক্সটাইল বিনিয়োগকারীদের খুশি করতে রিজার্ভ ভেঙে ডিভিডেন্ড দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. আবু আহমেদ বলেন, দুঃসময় মোকাবেলার জন্য কোম্পানি অবণ্টিত মুনাফা রিজার্ভ করে। আর রিজার্ভ ভেঙে ন্যূনতম ডিভিডেন্ড দেয়ার মানে কোম্পানি পর্যাপ্ত মুনাফা করতে পারেনি। অর্থাৎ তার আর্থিক ভিত দুর্বল। তবে কোম্পানিগুলোর কর্তৃপক্ষ আর্থিক দুর্বলতার কথা মানতে নারাজ। তাদের দাবি, টাকা না থাকা সত্ত্বেও রিজার্ভ ভেঙে বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ড দেয়া হয়েছে। যা পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক।
জানা যায়, গত ৩০ জুন ২০১৬ সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য বস্ত্র খাতের সায়হাম টেক্সটাইল বিনিয়োগকারীদের পাঁচ শতাংশ নগদ এবং পাঁচ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দেয়ার ঘোষণা করেছে। ডিভিডেন্ড পরিশোধের জন্য কোম্পানির খরচ হবে আট কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু কোম্পানির মুনাফা হয়েছে সাত কোটি ৬৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ইপিএস হয়েছে ৮৯ পয়সা। দেখা যাচ্ছে, ডিভিডেন্ড পরিশোধের জন্য রিজার্ভ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা যাচ্ছে। এর আগের বছরও কোম্পানিটি রিজার্ভ ভেঙে বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ড দিয়েছিল। কোম্পানিটির বর্তমান রিজার্ভ রয়েছে ৮১ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে সায়হাম টেক্সটাইলের কোম্পানি সেক্রেটারি নেয়ামত উল্লাহ বলেন, পর্যাপ্ত টাকা না থাকা সত্ত্বেও রিজার্ভ ভেঙে আমরা ডিভিডেন্ড দিয়েছি।
যা অন্য কোম্পানিগুলো কমই করে। পরপর দুই বছর রিজার্ভ ভেঙে ডিভিডেন্ড দেয়া হয়েছে। এতে আপনাদের আর্থিক ভিতের দুর্বলতা প্রকাশ হয় কিনা এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের ব্যবসা বর্তমানে নেতিবাচক প্রবণতার মধ্যে যাচ্ছে। তবে এ অবস্থা কেটে যাবে। কারণ আমরা ব্যবসা বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছি। সামনে আমাদের কোম্পানি ঘিরে সুখবর আসছে। এদিকে ৩০ জুন ২০১৬ সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ডেল্টা স্পিনার্স ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দিয়েছে। এর জন্য কোম্পানির খরচ হবে ১৩ কোটি ৭৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। কিন্তু মুনাফা হয়েছে চার কোটি ৬৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ৩৪ পয়সা। দেখা যাচ্ছে ডিভিডেন্ড পরিশোধের জন্য রিজার্ভ থেকে ৯ কোটি টাকা যাচ্ছে। ডিএসইর দেয়া তথ্যমতে, কোম্পানির বর্তমান রিজার্ভের পরিমাণ ৮১ কোটি টাকা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানি সেক্রেটারি মাসুদুর রহমান বলেন, আমি খুবই ব্যস্ত। শনিবারের আগে কথা বলতে পারব না। এদিকে চলতি বছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইভিন্স টেক্সটাইল বিনিয়োগকারীদের খুশি করতে রিজার্ভ থেকে টাকা নিয়ে মুনাফা থেকেও বেশি ডিভিডেন্ড দিয়েছে। আলোচিত সময়ের জন্য বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ এবং ২০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দেয়ার ঘোষণা করেছে। ডিভিডেন্ড পরিশোধের জন্য কোম্পানির খরচ হবে ৩৬ কোটি টাকা। কিন্তু কোম্পানির মুনাফা হয়েছে ২৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং ইপিএস হয়েছে দুই টাকা ২৪ পয়সা। দেখা যাচ্ছে, ডিভিডেন্ড পরিশোধের জন্য রিজার্ভ থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা যাচ্ছে। কোম্পানির বর্তমান রিজার্ভ রয়েছে ৭৮ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে ইভিন্স টেক্সটাইলের কোম্পানি সেক্রেটারি মোস্তাফা কামাল বলেন, আইপিওর কারণে আমরা গত কয়েক বছর ডিভিডেন্ড দিতে পারিনি। তাই এ বছর বেশি ডিভিডেন্ড দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আশানুরূপ মুনাফা না হওয়ায় রিজার্ভ থেকে টাকা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের ভালো ডিভিডেন্ড দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, আইপিও টাকা আমরা ব্যবসা বাড়াতে বিনিয়োগ করেছি। সামনে আমাদের মুনাফা আরও বাড়বে। আশা করছি, রিজার্ভ না ভেঙে মুনাফার টাকা দিয়েই আমরা বিনিয়োগকারীদের ভালো ডিভিডেন্ড দিতে পারব।
সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির এই উদ্যোগে দারুণ খুশি। তারা জানান, আমরা এই দুঃসময়ে ডিভিডেন্ড পেয়েছি এটাই বড় কথা। রিজার্ভ তো বিপদের সময়ের জন্যই রাখা হয়। কাজেই তারা যে পর্যাপ্ত মুনাফা না করা সত্ত্বেও আমাদের ডিভিডেন্ড দিয়েছে, এটি অন্যান্য কোম্পানির ক্ষেত্রেও উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারে। -ওয়েবসাইট



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ