Inqilab Logo

রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯, ০৩ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

বরেন্দ্র অঞ্চলে তীব্র তাপাদহে পুড়ছে মানুষ পুড়ছে প্রকৃতি

বিশেষ সংবাদদাতা, রাজশাহী | প্রকাশের সময় : ১৭ এপ্রিল, ২০২২, ১:৫৫ পিএম

তীব্র তাপাদহে পুড়ছে রাজশাহী তথা বরেন্দ্র অঞ্চল। গ্রীস্ম মওসুমটা শুরু হয়েছে খরতাপ দিয়ে। তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠা নামা আর চারমাস ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় আবহাওয়ায় বিরাজ করছে রুক্ষতা। সকালের সূর্য উঠছে যেন আগুনের হল্কা নিয়ে। তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রী সেলসিয়াসে ছুঁইয়েছে। আবহাওয়া অফিসের ভাষায় এখন এখানে মাঝারী তাপাদহ বিরাজ করছে। আবহাওয়া উঠানামা করছে ৩৯ থেকে ৪১ ডিগ্রীর ঘরে। বইছে লু হাওয়া। বিশেষ করে নগরীর পাশদিয়ে বয়ে যাওয়া মরা পদ্মার বিশাল বালিচর থেকে ভেসে আসা তপ্ত বালির ঝাপটা চোখে মুখে জ্বালা ধরাচ্ছে। মাইলের পর মাইলজুড়ে থাকা বালিচর দুপুরের আগেই তপ্ত বালির কড়াইয়ে পরিনত হচ্ছে। রোদ্রে মানুষের চেহারার রংয়ে পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। ফর্সা মুখগুলো পুড়ে তামাটে বর্ণ ধারন করেছে। সবচেয়ে বেশী বিপাকে পড়েছে শ্রমজীবী মানুষ। বিশেষ করে রিক্সা, ভ্যান চালক দিন মজুররা। ঈদের পশরা নিয়ে ফুটপাতে বসা মানুষগুলোর দূর্ভোগের শেষ নেই। প্রচন্ড খরতাপ মাথায় নিয়ে রাস্তার ধারে বসে থাকছে ক্রেতার আশায়। ক্রেতা বিক্রেতা উভয় পুড়ছে।

আগুন ঝরা রোদ্র ও ভ্যাপসা গরমে মানুষ পশু পাখি কাহিল হয়ে পড়েছে। পুড়ছে মানুষ পুড়ছে প্রকৃতি। ফসলের ক্ষেত, পুকুরের মাছের আবাদ, মুরগির খামার সবকিছুতেই বিরুপ প্রভাব। এবার আম নিয়ে আম চাষীরা স্বপ্ন দেখলেও গরমের তীব্রতা সইতে না পেরে গুটি ঝরে পড়ছে। সেচের পর সেচ দিয়ে গুটি রক্ষার চেষ্টা করছে চাষীরা। ইতোমধ্যে চল্লিশ শতাংশ গুটি ঝরে পড়েছে।
সবচেয়ে বেশী অস্বস্তিতে আছে নদী পাড়ের বাসিন্দারা। বিশেষ করে টিনের ঘরে বসবাস করা মানুষ। খরতাপ যেন টিনের চাল চুঁইয়ে চুঁইয়ে নামছে। জানালা খোলার উপায় নেই তপ্ত বাতাসের কারনে। ফলে ঘরের মধ্যে দম বন্ধকর অবস্থায় বসবাস। দিনের বেলা লু হাওয়া আর রাতের বেলা ভ্যাপসা গরম মানুষকে কাহিল করে ফেলেছে।
প্রচন্ড খরতাপ থেকে মুক্তির জন্য মানুষ পশু খুজছে পুকুর। নগরায়নের দাপটে আর পুকুর খেকোদের কারনে বিপুল সংখ্যক দীঘি পুকুর ভরাট করে ফেলা হয়েছে। এখনও তা অব্যাহত আছে। পুকুর ভরাট ঠেকাতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছেনা। যাদের এসব দেখভাল করার কথা তাদের সাথে সমঝোতা আর রাজনৈতিক ক্ষমতায় সব ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এলাকার মানুষ প্রতিবাদ করে উল্টো হয়রানীর শিকার হচ্ছে। এক সময়ের পুকুরের শহর এখন পুকুর শূন্য নগরীতে পরিনত হয়েছে। বিভিন্ন বিল্ডার্স কোম্পানীর নজর পুকুরের দিকে। যে কটি টিকে আছে সেগুলো নানা কোম্পানীর ভরাটের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। ফলে আবহাওয়া ও পরিবেশ আরো রুক্ষ হচ্ছে। মানুষ পশু পাখিরা একটু গা ভেজানোর স্থানের বড্ড অভাব। একদিকে মরা পদ্মা আর ভেতরের পানির আধারগুলো ভরাট এক অসনীয় অবস্থার সৃষ্টি করেছে। ভূগর্ভস্ত পানির স্তর নেমে যাওয়ায় টিউবওয়েলে পানি উঠছেনা। চলছে পানির সংকট। সব মিলিয়ে প্রকৃতি তার নির্মম প্রতিশোধ নিচ্ছে। তীব্র দবাদহের প্রভাব পড়েছে মানব শরীরে। দাবাদহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিভিন্ন রোগ। ডায়রিয়া, জন্ডিস, রক্তচাপ, হিটস্ট্রোক, ডায়াবেটিক্সসহ বিভিন্ন চর্মরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানায়, গত কয়েকদিন ধরে রাজশাহীর তাপমাত্রা বাড়ছেই। সাধারণত তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ হলে মৃদু তাপপ্রবাহ, ৩৮ থেকে ৪০ হলে মাঝারি তাপপ্রবাহ এবং ৪০ থেকে ৪২ হলে তীব্র তাপপ্রবাহ বলে ধরা হয়। এছাড়া সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠলে তাকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। ফলে রাজশাহীর ওপর দিয়ে এখন তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। যদিও এখন তাপমাত্রা সামান্য কমেছে কিন্তু গরম কমেনি। বৃষ্টিপাত না হলে স্বস্তি নেই।
মানুষ চেয়ে আছে আল্লাহর রহমতের বৃষ্টির দিকে। নামাজ শেষে মোনাজাতে মসজিদে মসজিদে আল্লাহর রহমত কামনা করে দোয়া করা হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আবহাওয়া


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ