Inqilab Logo

শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯, ২৪ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

আমদানি করা সরকারের’ ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন ইমরান খান

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৮ এপ্রিল, ২০২২, ১২:০০ এএম

পিটিআই চেয়ারম্যান এবং পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দাবি করেছেন যে, ‘আমদানি করা’ সরকার বিদেশী তহবিল মামলার মাধ্যমে তার দলকে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে দূরে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করছে। তাই ন্যায্যতার স্বার্থে, পিপিপি, পিটিআই এবং পিএমএল-এন এর বিরুদ্ধে আদালতের মামলা একসাথে শুনানি করতে হবে।

শনিবার সন্ধ্যায় করাচির বাগ-ই-জান্নাতে একটি বিশাল জনসমাবেশে ভাষণ দেয়ার সময়, ইমরান মহানগরের জনগণকে তাদের সমর্থন জানাতে তাদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন যে, করাচি সফরের উদ্দেশ্য পিটিআই-এর স্বার্থে নয়, কিন্তু এটা ছিল পাকিস্তানের স্বার্থে এবং তার সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য। তার ভাষণের শুরুতে, ইমরান তার সমর্থকদের তার কথা মনোযোগ সহকারে শুনতে বলেছিলেন যাতে তারা নির্ধারণ করতে পারে তার ক্ষমতা থেকে উৎখাত একটি ‘হস্তক্ষেপ’ নাকি ‘ষড়যন্ত্র’

ইমরান খান বলেন, ‘আমি সবার সাথে বন্ধুত্ব চাই কিন্তু আমাদের দেশকে কারো দাস হতে দিতে পারি না।’ তিনি জানান, করাচিতে যাওয়ার আগে তার জীবনের উপরে ‘হুমকি’ দেয়া হয়েছিল। ‘তবুও, আমি এখানে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি কারণ আমার জীবন আপনাদের স্বাধীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ নয়। আপনাদের বিদেশী শক্তির দাস বানানোর এই ষড়যন্ত্র। একজন মীর জাফরকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে,’ প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন।

ইমরান খান জানান, তিনি তিন থেকে চার মাস আগে জানতে পেরেছিলেন যে, মার্কিন কর্মকর্তারা আমেরিকান দূতাবাসে পিটিআইয়ের অসন্তুষ্ট এমপি এবং সাংবাদিকসহ তৎকালীন বিরোধী দলগুলির নেতাদের সাথে দেখা শুরু করেছিলেন। তিনি বলেন, বৈঠকগুলির পরে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা ডোনাল্ড লু যখন পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতের সাথে দেখা করেছিলেন, তখন তিনি জানতেন যে, তার সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করা হচ্ছে।

পিটিআই চেয়ারম্যান দাবি করেছেন, কর্মকর্তা পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতকে ‘হুমকি দিয়েছিলেন’ যে প্রস্তাবটি সফল না হলে ‘এটি পাকিস্তানের জন্য খুব কঠিন হবে’, যোগ করে তিনি বলেছেন যে অনাস্থা প্রস্তাব ‘সফল’ হলে পাকিস্তানকে ‘ক্ষমা করা হবে’। ‘আমাকে বলুন ২২ কোটি মানুষকে এর চেয়ে হতাশাজনক হুমকি আর কী দেয়া যেতে পারে?’ তিনি জানান, বৈঠকের পরে, তার ভিন্নমতের এমপিরা এবং মিত্ররা সরকারের সাথে বিচ্ছেদ শুরু করে। ‘আমাকে বলুন পাকিস্তানিরা, এটা ষড়যন্ত্র ছিল নাকি? কোন দেশকে এভাবে হুমকি দেয়া হয়?’ ইমরান জিজ্ঞেস করেন। তিনি বলেছিলেন যে, প্রাক্তন জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরি যখন ‘হুমকি’ চিঠি সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন, তখন তিনি অনাস্থা প্রস্তাবে ভোটের জন্য নির্ধারিত অধিবেশন স্থগিত করেছিলেন। ‘এর পর সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, তাই আমরা সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি কারণ আমাদের হাত বাঁধা ছিল।’

পিটিআই চেয়ারম্যান বলেন, অনাস্থা ভোটের দিন রাত ১২টায় আদালত খোলা হয়। ইমরান বলেন, ‘আমি জিজ্ঞাসা করতে চাই যে, আমি কী অপরাধ করছিলাম যে আদালত গভীর রাতে খোলা হয়েছে। আমি একজন পাকিস্তানি যে তার দলের নাম ন্যায়বিচারের নামে রেখেছে,’ বলেছেন ইমরান। তিনি জানান, তিনি ‘এখন পর্যন্ত কোনো পাকিস্তানি আইন’ ভঙ্গ করেননি এবং জনতাকে বলেছিলেন যে, তিনিই ‘একমাত্র রাজনীতিবিদ যাকে সুপ্রিম কোর্ট সাদিক এবং আমিন ঘোষণা করেছিলেন’।

‘আমি জানতাম ম্যাচটি ফিক্সড ছিল। কিন্তু যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে তা হল আমি সংবিধান লঙ্ঘন করব এই ভয়ে আদালতকে তাদের দরজা রাত ১২টায় খুলতে হয়েছিল। এ ব্যাথা সারা জীবন আমার হৃদয়ে থাকবে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টকেও জিজ্ঞাসা করেন, কেন, কেন তারা প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার উদ্ধৃত কূটনৈতিক চিঠির তদন্ত করেনি। ‘তারা (মার্কিন) জানত যে, আমাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরে কে ক্ষমতায় আসবে। মীর জাফর তার আচকান নিয়ে প্রস্তুত ছিল। তিনি বুট পালিশ করার একজন বিশেষজ্ঞ, ইমরান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি যখন তাদের বুট চেরি ব্লসম দিয়ে পালিশ করেন, তখন তারা আপনাকে সম্মান করে না।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিচার বিভাগকেও জিজ্ঞাসা করেন যে, পিটিআই এমপিরা যখন ‘তাদের ম্যান্ডেটের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন এবং নিজেদের বিক্রি করছেন’ তখন কেন তারা স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ নেয়নি। যারা তাদের ‘বিবেক’ বিক্রি করেছে তাদের ক্ষমা না করার জন্য তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।‘এ ষড়যন্ত্র সফল হলে কোনো প্রধানমন্ত্রীই আমেরিকার হুমকির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারবে না,’ দাবি ইমরানের।

‘আমি আমেরিকাকে জিজ্ঞেস করি আমার সাথে তোমার কী সমস্যা?’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির মামলায় জামিনে থাকা একজন মানুষকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকার চেয়ে দেশের জন্য ‘অসম্মানজনক’ আর কী হতে পারে। ‘তাদের নিজেদের জন্য উচ্চমান আছে, কিন্তু তারা একজন অপরাধীকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে,’ ইমরান বলেন, পশ্চিমা শক্তি অপরাধীদের সরকারের প্রধান বানিয়েছে, কারণ তারা সহজেই বিক্রিযোগ্য ছিল। সূত্র : ট্রিবিউন।



 

Show all comments
  • Bojlur Rahaman ১৮ এপ্রিল, ২০২২, ৫:২১ এএম says : 0
    Not only pressure... should be more
    Total Reply(0) Reply
  • Md Rafiqul Islam ১৮ এপ্রিল, ২০২২, ৫:২৩ এএম says : 0
    ইমরান খান শুধু পাকিস্তানেই নয়, সারা মুসলিম বিশ্বে জনপ্রিয়।
    Total Reply(0) Reply
  • Md Ali Akbar ১৮ এপ্রিল, ২০২২, ৫:২৪ এএম says : 0
    এরদোয়ান, ইমরান খান, মাহাথির মোহাম্মদ কাতারের আমির তামিম এদের মত নেতা যদি প্রত্যেক দেশে থাকতো তাহলে আবারো খিলাফত প্রতিষ্ঠা সহজ হয়ে যেত।
    Total Reply(0) Reply
  • বান্নাহ ১৮ এপ্রিল, ২০২২, ৫:২৫ এএম says : 0
    আমদানি করা সরকার বেশি দিন টিকবে না
    Total Reply(0) Reply
  • নাবিল আব্দুল্লাহ ১৮ এপ্রিল, ২০২২, ৫:৩২ এএম says : 0
    পাকিস্তানের জনগণের উচিত ইমরান খানের পাশে থাকা
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পাকিস্তানের


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ