Inqilab Logo

রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯, ০৩ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

র‌্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ভারতের সমর্থন কামনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড়

সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৭ এপ্রিল, ২০২২, ১:৪৫ পিএম

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও এর কর্মকর্তাদের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য বাংলাদেশ ভারতের সমর্থন চেয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। মঙ্গলবার তার এই বক্তব্য সামনে আসতে সমালোনার ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

সমালোচকরা জানতে চান, র‍্যাবের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ভারতের ভূমিকাটা আসলে কী? তাদের প্রশ্ন, এই উত্তরটা কি দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী?

মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, র‍্যাবের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনাবাসী ভারতীয়রাও (নন রেসিডেন্ট ইন্ডিয়ান-এনআরআই) মার্কিন সরকারকে এ বিষয়ে অনুরোধ জানিয়েছে।

যদিও দুই দিন আগে গত রোববার ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেছেন, সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা ছাড়া র‍্যাবের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই।

নেটিজেনদের প্রশ্ন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ভারতের সহযোগিতা চাওয়ার পটভূমি কী? সহযোগিতা কি চিঠি দিয়ে চাওয়া হয়েছে না মুখে মুখে? কে করলেন এই আবেদন? র‍্যাব কর্মকর্তাদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য এত সিরিয়াস কেন সরকার?

এনিয়ে ফেসবুকে জৈষ্ঠ্য সাংবাদিক, কলামিস্ট ও গবেষক মেহেদী হাসান পলাশ সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘‘ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সমর্থন দিয়ে ভারত যখন নিজেই যুক্তরাষ্ট্রের চাপে চ্যাপ্টা হয়ে পড়েছে তখন বাংলাদেশ ভারতের কাছে ওকালতি নিয়ে গেল!এই ওকালতির সাফল্য নিয়ে সন্দিহান না হয়ে উপায় নেই। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ৪৫ লক্ষ ভারতীয় আমেরিকা প্রবাসী এবং তারা প্রভাবশালী। এই ৪৫ লক্ষ ভারতীয়কে নিয়ে মোদি কূটনৈতিক ভব্যতা ভুলে আমেরিকায় দাঁড়িয়ে স্লোগান তুলেছিল, 'আর বার দরকার- ট্রাম্প সরকার'। এর পরিণতি বিশ্ববাসী জানেন।

ক্লিনটনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিৎসা রাইস দিল্লিতে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়াকে ভারতের যোগ দিয়ে দেখতে চায়। সেখান থেকে দীর্ঘদিন পর আমেরিকা যখন নিজের চোখে দক্ষিণ এশিয়া তথা বাংলাদেশকে দেখা শুরু করেছে, তখন বাংলাদেশ আমেরিকাকে দেখতে চাইছে ভারতের চোখ দিয়ে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পেরিয়ে একটা স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য এটা কতটা মর্যাদার, সেই প্রশ্ন স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ভেতরে অবান্তর!’’

ক্ষোভ জানিয়ে ওসমান গনী লিখেছেন, ‘‘এই হচ্ছে আমাদের সোনার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি।বিশ্বের কোন দেশে এই রকম পররাষ্ট্রনীতি আছে কিনা সন্দেহ আছে।এই রকম পররাষ্ট্রনীতি আমাদের দেশকে বিশ্বের কাছে কলঙ্কিত করবে।ছি ছি ছি।’’

আদ্রিত গ্রহ লিখেছেন, ‘‘হিতাহিত জ্ঞান বোধ সব হারালে যা হয়।
আমেরিকার ইন্ডিয়ানরা আমাদের দেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করছে..!!
এদের ধারণা এরা যা বলবে জনগণ তাই খাবে। স্বাধীন দেশে এগুলো আসলেই লজ্জা!’’

ক্ষুব্ধ আরেকজন লিখেছেন, ‘‘কতোটা অসহায় ও অদক্ষ হলে একজন মন্ত্রী এরকম কথা বলতে পারে। এই দেশ কি ভারতের অংশ? এরা কি ভারতের কোনো স্টেটস মন্ত্রী? তার কথার ভিতরে একটা নির্লজ্জ সীমা থাকা দরকার ছিল। মনে হচ্ছে সে একটা ভিক্ষুক প্রভুর কাছে ভিক্ষা চাচ্ছে। ভারতের কাছে বাংলাদেশকে ছোট করবেন না আর এ অধিকার আপনার নাই।তাহলে কি যুক্তরাষ্ট্র যা বলছে সত্য এখন সুপারিশ দরকার।’’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সোশ্যাল মিডিয়া


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ