Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

পরধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা

প্রকাশের সময় : ১৬ নভেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

মুফতি আনিসুর রহমান জাফরী

সাম্প্রতিক সময়ে মন্দির এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েই চলছে। যখনই এমন ঘটনা ঘটে এর জন্য ইসলাম এবং মুসলমানদের দায়ী করা হয়। অথচ এসব ঘটনার সঙ্গে ইসলামের এবং প্রকৃত মুসলমানের দূরতম সম্পর্কও নেই। কারণ ইসলামের মূল উৎস কোরআন এবং হাদিস পরধর্মের মানুষকে আপনের চেয়েও বেশি শ্রদ্ধা ও সম্মান করতে শিখিয়েছে। আমরা দেখেছি আমাদের নবী (সা.)-এর আপনজনের অনেকেই ছিল ইসলামের কট্টর দুশমন। তথাপিও নবী (সা.) তাদের প্রতি নির্যাতন তো দূরের কথা কখনো প্রতিবাদও করেননি। বরং কোন বিরোধী যখন অসুস্থ হতো তখন রাসূল (সা.) তাকে দেখতে যেতেন। রাসূলের আন্তরিকতায় ওই বিরোধীরাও কালেমার পতাকাতলে আশ্রয় নিত। এই যখন মুসলমানের নবীর চরিত্র, তাহলে তারা কীভাবে মন্দিরে হামলা করতে পারে? একজন প্রকৃত মুসলমানের পক্ষে মন্দির ভাঙ্গা তো দূরের কথা মন্দির ভাঙ্গার চিন্তা করাও সম্ভব নয়। কারণ, ইসলামের নবী মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, ‘যারা মানুষকে সাম্প্রদায়িকতার দিকে ডাকে, সাম্প্রদায়িকতার জন্য যুদ্ধ করে, সংগ্রাম করে এবং জীবন উৎসর্গ করে তারা আমাদের দলভুক্ত নয়’ (সুনানে আবু দাউদ : ৫১২৩)।
সাম্প্রদায়িকতার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে পবিত্র কোরআন। আল্লাহ বলেন, ‘ধর্মের ব্যাপারে জোরজবরদস্তি নেই। ভ্রান্ত মত ও পথকে সঠিক মত ও পথ থেকে ছাঁটাই করে আলাদা করে দেয়া হয়েছে’ (সূরা বাকার, ২:২৫৬)। সুতরাং ‘তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্য, আমাদের ধর্ম আমাদের জন্য’ (সূরা কাফিরুন, ১০৯:৫)। একে অন্যের ধর্ম পালন করতে গিয়ে কেউ কোনরূপ সীমা লঙ্ঘন কিংবা বাড়াবাড়ি করবে না। অন্য কেউ যদি ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করেও ফেলে তবে ভুলেও যেন কোন ইমানদার এ ধরনের হীন ও জঘন্য কাজের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত না করে। এ বিষয়টিই নসিহতস্বরূপ মুমিনদের উদ্দেশে আল্লাহ বলছেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যেসব দেবদেবীর পূজা-উপাসনা করে, তোমরা তাদের গালি দিও না। যাতে করে তারা শিরক থেকে আরো অগ্রসর হয়ে অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে গালি দিয়ে না বসে’ (সূরা আনআ’ম, ৬:১০৮)। যেখানে অন্য ধর্মের দেবতাকে গালি দেওয়া নিষিদ্ধ সেখানে মন্দির ভাঙচুর ও মানুষ হত্যা কীভাবে বৈধ হতে পারে? একজন প্রকৃত মুসলমান কখনোই ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত আসে এমন কোন কাজ করতে পারে না। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘কোন মুসলমান যদি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার ক্ষুণœ করে কিংবা তাদের ওপর জুলুম করে, তবে কেয়ামতের দিন আমি মুহাম্মাদ ওই মুসলমানের বিরুদ্ধে আল্লাহর আদালতে লড়াই করব’ (আবু দাউদ : ৩০৫২)’ তিনি (সা.) আরো বলেছেন, ‘অন্যায়ভাবে কোন অমুসলিমকে হত্যাকারী জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না। অথচ চল্লিশ বছরের রাস্তার দূরত্ব থেকেই ওই ঘ্রাণ পাওয়া যাবে’ (সহি বুখারি : ৩১৬৬)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘যে ব্যক্তি কোন অমুসলিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করবে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন’ (সুনানে নাসায়ী : ৪৭৪৭)। রাসূল (সা.) ও খোলাফায়ে রাশেদীনের চিরাচরিত নিয়ম ছিল, যখন কোন সেনাবাহিনী প্রেরণ করার প্রয়োজন হত তারা বিভিন্ন নসিহতের পাশাপাশি এ নসিহতটি অবশ্যই করতেন যে, ‘যুদ্ধকালীন সময়ে বা যুদ্ধের পর কোন মন্দির-গীর্জা-উপাসনালয় ভেঙ্গে ফেলবে না’ (মুসান্নাফ আবী শায়বা : ৩৩৮০৪)।
ষ লেখক : পরিচালক, মুুহিউস সুন্নাহ আইডিয়াল মাদরাসা, ডগাইর, ডেমরা, ঢাকা



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।