Inqilab Logo

সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ০৪ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

প্রেমিকাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা : খুমেক হাসপাতালের আরএমও’র বিরুদ্ধে মামলা

খুলনা ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ৩০ এপ্রিল, ২০২২, ১২:০৩ পিএম

পূর্বের বিয়ের ঘটনা না জানিয়ে ডা. মন্দিরা মজুমদারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা: সুহাস রঞ্জন হালদার। বিয়ের প্রলোভন দিয়ে গড়ে তোলেন শারিরিক সম্পর্ক। সম্পর্কের এক পর্যায়ে ডা. মন্দিরা মজুমদার আগের বিয়ের ঘটনাটি জেনে যান। বিয়ের জন্য বারবার চাপ দিলে ডা. সুহাস রঞ্জন সম্পর্ক অস্বীকার করেন। রাগে ক্ষোভে এবং নিজ সম্মান রক্ষায় গত ২৮ এপ্রিল বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যায় নিজের শয়নকক্ষের সিলিং ফ্যানের হুকের সাথে ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেন মন্দিরা ।

আত্মহত্যার এ ঘটনায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে ডা: সুহাস রঞ্জন হালদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মৃতের বাবা প্রদীপ মজুমদার। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মমতাজুল হক। তিনি জানান, মন্দিরা ও সুহাস রঞ্জন উভয় চিকিৎসক। তাদের মধ্যে ভালবাসার সম্পর্ক ছিল। সুহাস বিয়েতে অস্বীকৃতি জানালে মন্দিরা আত্মহত্যা করেন। মৃতের বাবা খুমেক এর আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা সুহাস রঞ্জন হালদার ও সিথি রানী হালদারের নাম উল্লেখ করে সোনাডাঙ্গা থানা আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগ এনে এজাহার দায়ের করেন, যার নং ২১। মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। তবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে খুলনা গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় মন্দিরা মজুমদার (২৬) । মজিদ স্মরণীর ৮৮/১ এর বাড়িতে থেকে বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এর আগে একই বছরের ৩০ এপ্রিল মন্দিরার পিতা প্রদীপ মজুমদার পিত্তথলি সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। যার অপারেশনের দায়িত্ব পড়ে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালটেন্ট সংযুক্ত কেএমসি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা সুহাস রঞ্জন হালদারের ওপর। শিক্ষানবিশ চিকিৎসক হওয়ায় উভয়ের মধ্যে পরিচিতি হয়। সুহাস রঞ্জন হালদার পূর্বে বিয়ের ঘটনা না জানিয়ে প্রেম নিবেদন করলে মন্দিরা সেটি গ্রহণ করে। সিথি রানী হালদার নামে নিকট আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে গিয়ে একাধিকবার রাত্রিযাপন করেন মন্দিরার সাথে। পরে সুহাস রঞ্জনের বিয়ের বিষয়টি জানতে পেরে মন্দিরা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। মন্দিরাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান সুহাস রঞ্জন। বারবার বিয়ের কথা বললে মন্দিরাকে হত্যাসহ বিভিন্ন ধরণের হুমকি দেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় একই বছরের ১৫ নভেম্বর বেড়ানোর কথা বলে মন্দিরা মজুমদারকে মোটরসাইকেলে নিয়ে যায় সুহাস রঞ্জন। বিয়ের কথা বললে তাকে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেওয়া হয়। পরে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন মন্দিরা।
মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে মন্দিরা মজুমদার নিজের শয়ন কক্ষের দরজা বন্ধ করে ফ্যানের হুকের সাথে ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে। বাবা প্রদীপ মজুমদার বাইরে থেকে ফিরে এসে মেয়েকে ডাকাডাকি করে কোন সাড়া না পেয়ে বাড়ির মালিকের মাকে ঘটনাটি জানান। পরে দরজা ভেঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ