Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬, ২৩ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

রাষ্ট্রধর্মের বিরুদ্ধে ড. রাজ্জাকের বক্তব্য ও পুনরায় আপিল একসূত্রে গাঁথা-বিভিন্ন ইসলামী নেতৃবৃন্দ

প্রকাশের সময় : ১৬ নভেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করতে হবে ড. রাজ্জাকের এ ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেছেন বিভিন্ন ইসলামী দল ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পৃথক পৃথক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ড. আবদুর রাজ্জাকের বক্তব্য এবং রাষ্ট্রধর্মের বিরুদ্ধে আপিলের মধ্যে পৃঃ ২ কঃ ১
রাষ্ট্রধর্মের বিরুদ্ধে ড. রাজ্জাকের বক্তব্য
যোগসূত্র রয়েছে। ঔদ্বত্যপূর্ণ বক্তব্যের জন্য ড. রাজ্জাককে দল থেকে বহিস্কার করে তাকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নিয়ে চক্রান্তের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলন ঢাকা মহানগর ১৮ নভেম্বর রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
ইসলামী আন্দোলন
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেছেন, ড. আব্দুর রাজ্জাক উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে মুসলমানদের ঈমানে চরম আঘাত করেছে। তার এই বক্তব্য হাজার বছরের ঐতিহ্য সাম্প্রদায়িকতা ও সকল ধর্মের সহাবস্থান ও সম্প্রীতি ধ্বংসের গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।
গতকাল বিকেলে পুরানা পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক মতিবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান ও মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, আলহাজ আমিনুল ইসলাম, প্রকৌশলী আশরাফুল আলম, কে এম আতিকুর রহমান, মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম প্রমুখ।
ইসলামী আন্দোলন ঢাকা জেলা
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা জেলা সভাপতি আলহাজ সৈয়দ আলী মোস্তফা বলেছেন, ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশে ইসলামধর্ম নিয়ে কটুক্তি করলে মুসলমানরা নিরবে বসে থাকবে না। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক ইসলামধর্ম তুলে দেয়ার হুমকি মুসলমানের ঈমানের উপর চরম আঘাত। তাকে দল থেকে বহিস্কার করতে হবে। তিনি বলেন, হিন্দুদের খুশি করতে ড. আবদুর রাজ্জাক মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত করে নাস্তিকদের সাথে শামিল হয়েছে।
গতকাল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা জেলা শাখার নির্বাহী পরিষদের এক সভায় তিনি একথা বলেন। সেক্রেটারি আলহাজ শাহাদাত হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার নেতৃবৃন্দ।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, ড. আব্দুর রাজ্জাক যে সময় রাষ্ট্রধর্ম বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছে তারপর দিনই গোবিন্দ সরকার গোস্বামী রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের বিরুদ্ধে আপিল করেছে এতে প্রমাণিত হয় ড. আব্দুর রাজ্জাকের বক্তব্যের সাথে যোগসূত্র রয়েছে।
ইসলামিক বুদ্ধিজীবী ফ্রণ্ট
ইসলামিক বুদ্ধিজীবী ফ্রন্টের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ আব্দুল হান্নান আল হাদী বলেছেন, হিন্দুদের এক সাংস্কৃতিক সভায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সুবিধাজনক সময়ে বাদ দেয়া হবে।” মন্ত্রিত্ব থেকে বাদ পড়া এই ড. আব্দুর রাজ্জাক রাষ্ট্রধর্ম বিষয়ে না জেনে না বুঝেই রাষ্ট্রধর্ম বাদ দেয়ার কথা বলেছেন। এই বক্তব্যের জন্য তাকে দল থেকে বহিস্কারসহ কঠোর শাস্তি দিতে হবে। তিনি ড. আব্দুর রাজ্জাকের উদ্দেশে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সনদে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যান। বঙ্গবন্ধু আরও বলেছিলেন, ইসলামের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছি। এটা মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের সাথে আমাদের অঙ্গীকার। এই ঘোষণা পরিবর্তন করা যাবে না। বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রেখেছেন। অথচ ড. আব্দুর রাজ্জাক গংরা বিপরীত অবস্থান নিয়েছেন। তাই ড. আব্দুর রাজ্জাককে বহিস্কার করে বিচার করতে হবে। আর তখন প্রধানমন্ত্রী জনগণের পক্ষ থেকে আরেকবার বাহবা পাবেন।
ইসলামী ছাত্রসমাজ

দূর্নীতিবাজ আবদুর রাজ্জাকের রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের বিরুদ্ধে বক্তব্য সাম্প্রদায়িক উস্কানীমূলক। অবিলম্বে আবদুর রাজ্জাককে দল থেকে বহিস্কার করে বিচারের মুখোমুখী করতে হবে। অনথ্যায় দেশের ছাত্রসমাজ আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। ইসলামী ছাত্রসমাজের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাসউদ খান ও মহাসচিব মুহাম্মাদ নুরুজ্জামান গতকাল এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।
তারা বলেন, দূর্নীতির দায়ে মন্ত্রীত্ব হারানো ড. রাজ্জাকের এই বক্তব্য সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের চিন্তা-চেতনা ঈমান আক্বিদার পরিপন্থি। সরকার একদিকে নাস্তিক্যবাদীদের দিয়ে এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সম্পর্কে ড. রাজ্জাকের অযৌক্তিক বক্তব্য এদেশের জনগণ কোনদিন মেনে নিবে না।
তাহফিজে হারামাইন
তাহফিজে হারামাইন পরিষদ বাংলাদেশ এর সভাপতি মাওলানা সাদেক আহমদ সিদ্দিকী বলেছেন, বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইসলামে সাম্প্রদায়িকতার কোন স্থান নেই। ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম। সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকার কারণে সব ধর্মের মানুষের এদেশে বসবাস করতে অতীতে কোন অসুবিধা হয়নি। তাছাড়া মুসলমানদের কারণে পৃথিবীর কোথাও অশান্তি ও সাম্প্রদায়িকতার সৃষ্টি হয়েছে এমন ইতিহাস নেই।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ