Inqilab Logo

রোববার, ১৪ আগস্ট ২০২২, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯, ১৫ মুহাররম ১৪৪৪
শিরোনাম

নেপথ্যে বর্ণ বৈষম্য, মেন্থল সিগারেট বন্ধের পথে আমেরিকা

অনলাইন ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৬ মে, ২০২২, ৪:৪৫ পিএম

মেন্থল সিগারেট পছন্দ করেন? আপনি যদি যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা হন, তাহলে এবার থেকে আর খেতে পারবেন না পছন্দের মেন্থল সিগারেট। খুব শীঘ্রই আমেরিকায় এই সিগারেট নিষিদ্ধ হতে চলেছে।

ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন গত ২৮ এপ্রিল মেন্থল সিগারেট এবং স্বাদযুক্ত সিগারেটের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর প্রস্তাব দিয়েছে। স্বাস্থ্যকর্তারা বলেছেন এই পদক্ষেপ জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য অপরিহার্য। তবে এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য এক কারণ। আমেরিকায় এই মেন্থল সিগারেট বন্ধের অন্যতম কারণ বর্ণ বৈষম্য। কী ভাবে?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ মানুষ মেন্থল সিগারেট সেবন করেন। এফডিএ-র তথ্য অনুযায়ী, দেশের মধ্যে শেতাঙ্গ ধূমপায়ীর পরিসংখ্যান ৩৬ শতাংশ। এদিকে, শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের মধ্যে মেন্থল সিগারেট সেবনের প্রবণতা বেশি। নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফ্রিকান আমেরিকানদের প্রায় ৮৫ শতাংশ মেন্থল সিগারেট সেবন করেন।

সিডিসি-র তথ্য বলছে, মেন্থল সিগারেট সাধারণ সিগারেটের তুলনায় অপেক্ষাকৃত বেশি ক্ষতিকারক। তবে সিগারেটের মধ্যে থাকা রাসায়নিকের শোষণকে সহজ করে তোলে এই মেন্থল ফ্লেভার। মেন্থলের ধোঁয়া ইনহেল করা সহজ। ফলে এই সিগারেট সেবনের প্রবণতা বেশি।

সিডিসি-র তথ্য অনুসারে, অর্ধেকেরও বেশি নাবালক এবং মহিলারা ধূমপায়ীরা এই মেন্থল সিগারেট সেবন করে। একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ীরা মেন্থল সিগারেট দিয়েই ধূমপানে হাতেখড়ি হয়েছিল। আর এ ক্ষেত্রে মার্কিন মুলুকে কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গিয়েছে।

ফলে এই সিগারাটের উপর নিষেধাজ্ঞা ঘুরপথে তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করে তুলবে বলেই মনে করছে মার্কিন প্রশাসন। ফলে ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মত, এই পদক্ষেপ পরবর্তী প্রজন্মকে ধূমপানের নেশা থেকে মুক্ত রাখতে সহায়তা করবে।

উল্লেখ্য, ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনের পর থেকেই আমেরিকা কৃষ্ণাঙ্গদের নিয়ে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ফলে মেন্থল সিগারেট ব্যান করে কৃষ্ণাঙ্গদের সুস্বাস্থ্য রক্ষার বার্তা দেওয়া হচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ তাই মনে করছেন, এই সিগারেট নিষিদ্ধ করার নেপথ্যে রয়েছে বর্ণ বৈষম্য ফ্যাক্টর।

আবার অন্যদিকে, এফডিএ স্পষ্ট করেছে যে ধূমপায়ীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা চাপানো হবে মেন্থল সিগারেট ও স্বাদযুক্ত সিগারের উৎপাদক, পরিবেশক, পাইকারী বিক্রেতা, আমদানিকারক এবং খুচরো বিক্রেতাদের উপর। মেন্থল সিগারেটের উপর সত্যিই নিষেধাজ্ঞা চাপানো হলে তা ধূমপান বিরোধী সংগঠনগুলির জন্য অত্যন্ত খুশির খবর হবে।

কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিকদের ধূমপান থেকে বিরত রাখার জন্য যে সকল প্রতিষ্ঠানগুলি চেষ্টা চালাচ্ছে, এটি তাদের জন্যও একটা বড় জয় বলেই অনেকে মনে করছেন। অন্যদিকে, আবার তামাক শিল্প উৎপাদনকারীদের তরফে এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হতে পারে। ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো এবং ইম্পেরিয়াল টোব্যাকো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুই বৃহত্তম তামাক কোম্পানি যদিও এই নিয়ে তেমন উদ্বিগ্ন নয়।

জো বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর ২০২১ সালে সর্বপ্রথম এই মেন্থল সিগারেটের উপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করেছিলেন। ২০১৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ধূমপানের হার সর্বকালের কালে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিন্তু, ধূমপান এখনও দেশে ক্যান্সার জাতীয় রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। ধূমপানের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর ৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এমনকী, পরোক্ষ ধূমপানের কারণে ৪১ হাজারের বেশি মৃত্যু হয় সে দেশে। তার মধ্যে দেশের কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত অঞ্চলে মেন্থল সিগারেট সেবনের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত বেশি।

এফডিএ-এর তথ্য বলেছে, মেন্থলের মধ্যে মূলত পুদিনার স্বাদযুক্ত ফ্লেভারটি ধূমপানের জ্বালা এবং তীব্রতা কমায়। নিকোটিনের আসক্তির প্রভাব বাড়াতে মেন্থল সিগারেট সহায়তা করে। আর কঠোর পরিশ্রমী কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই আসক্তি সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গিয়েছে। এফডিএ আরও জানাচ্ছে, মেন্থল সিগারেটের উপর নিষেধাজ্ঞা একবার কার্যকর হলে ৪০ বছরের মধ্যে ধূমপানের পরিমাণ ১৫ শতাংশ কমে যাবে।

অন্যদিকে, এই নিষেধাজ্ঞা সরকারের রাজস্ব ক্ষতির অন্যতম মূল কারণ হবে। আবার কেউ কেউ বলেছেন যে এটি আফ্রিকান আমেরিকানদের সাহায্য করার চেয়ে বেশি ক্ষতি করবে। কৃষ্ণাঙ্গ তরুণদের আরও বেশি করে অপরাধের দিকে ঠেলে দেবে। যদিও, এই প্রস্তাবটি এখনও বাস্তবায়নের পর্যায় পৌঁছয়নি। এটি কার্যকরী করানোর আগে জনসাধারণের বক্তব্য এবং আপত্তি শোনা হবে। সূত্র: রয়টার্স।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আমেরিকা


আরও
আরও পড়ুন