Inqilab Logo

সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ০৪ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

আমতলীতে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে একই বাড়ীর ১১ জন অচেতন, হাসপাতালে ভর্তি!

বরগুনা জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৭ মে, ২০২২, ৩:৪৭ পিএম

বরগুনার উপজেলার উত্তর খেকুয়ানী গ্রামে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে খলিফা বাড়ীর শিশু, বৃদ্ধ, নারী পুরুষসহ ১১ জনকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাতের খাবারের সাথে চেতনানাশক স্প্রে করে দুর্বৃৃত্তরা। ওই খানা খাওয়ার পরে উপজেলার উত্তর খেকুয়ানী গ্রামের আয়জুদ্দিন খলিফা, ফজলু খলিফা ও আলতাফ হোসেন খলিফা বাড়ীর শিশু, বৃদ্ধ, নারী পুরুষসহ ১১ জনকে অচেতন হয়ে পড়েন।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ১১ জন হলেন, আয়জদ্দিন খলিফা (৭০) ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৬০), আলতাফ হোসেন খলিফা (৫৫) তার স্ত্রী শেফালী বেগম (৫০), মেয়ে কল্পনা বেগম (৩০), জামাতা সুজন (৩৫), নাতি ইমরান (১২) সানজিনা (৭) এবং ফজলু খলিফা (৪০) ও তার স্ত্রী মাজেদা বেগম (৩৫)।

ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রতিবেশী চাচাতো ভাই আবুল বাশার আয়জুদ্দিন খলিফা, ফজলু খলিফা ও আলতাফ হোসেন খলিফা ঘরের দরজা খোলা দেখে কাছে গিয়ে দেখেন একেক জন একেক জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তখন তিনি কাছে গিয়ে তাদের ডাকাডাকি করে কোন সারাশব্দ না পেয়ে ভয় পেয়ে পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী শানু হাওলাদার ও শাহানুর হাওলাদারকে ডেকে আনেন। তারা ঘটনাস্থলে এসে তাদের অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে রাতেই তাদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। বর্তমানে ওই হাসপাতালেই তাদের চিকিৎসা চলছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের জ্ঞান ফেরেনি।

ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞাত দুর্বৃৃত্তরা রাতের খাবারের সাথে চেতনা নাশক ঔষধ স্প্রে করে ওই তিন পরিবারের সকলকে অচেতন করে ঘরে ঢুকে কি কি পরিমাণ মালামাল হাতিয়ে নিয়েছে তা এখনও জানা যায়নি।

আয়জদ্দিন খলিফার পুত্র মোঃ খলিল খলিফা বলেন, ঘটনার রাতে আমি বাড়ীতে ছিলাম না। রাতে ঘটনা শুনে আমি স্থানীয় প্রতিবেশিদের সহযোগিতায় আমার বৃদ্ধ বাবা মাসহ অন্যান্যদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য আমতলী হাসপাতালে এনে ভর্তি করেছি। অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে কি কি পরিমাণ জিনিষপত্র হাতিয়ে নিয়েছে তা এখনও বলতে পারছিনা।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ সুমন বিশ্বাস মুঠোফোনে বলেন, খাবারের সাথে চেতনা নাশক ঔষধ স্প্রে করে ওই তিন পরিবারের সকলকে অচেতন করা হয়েছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চেতনা নাশক ঔষধের কার্যকারিতা কমে আসলেই তাদের জ্ঞান ফিরে আসবে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) রনজিৎ কুমার সরকার বলেন, ঘটনা শুনে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তাদের জ্ঞান ফিরলে বিস্তারিত যেনে পরবর্তি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: হাসপাতালে ভর্তি


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ