Inqilab Logo

শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯, ০২ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

শ্রীলঙ্কার বিক্ষোভ নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় বিরুপ মন্তব্য

রুহুল আমিন | প্রকাশের সময় : ১১ মে, ২০২২, ১:০২ পিএম | আপডেট : ১:৩৭ পিএম, ১১ মে, ২০২২

কয়েকদিন ধরেই চলছে শ্রীলঙ্কায় বিক্ষোভ। ইতোমধ্যেই বিক্ষোভ দমাতে দেশটিতে কেউ সরকারি সম্পত্তি লুটপাট বা ব্যক্তিগত ক্ষতি করলে তার ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশটির সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীকে এ নির্দেশ দেয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বর্তমানে দেশটিতে কারফিউ চলছে। আজ বুধবার পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে।


শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়েও জনরোষ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না মাহিন্দা রাজাপক্ষে। বিক্ষুব্ধ হাজারো মানুষ ঢুকে পড়েছিলেন তাঁর সরকারি বাসভবনে। একপর্যায়ে পালিয়ে সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভবন ছাড়েন তিনি। পরে ঠাঁই নিয়েছেন একটি নৌঘাঁটিতে। ওই নৌঘাঁটির বাইরেও বিক্ষোভ চলছে।

গতকাল মঙ্গলবারও কারফিউ ভেঙে রড-লাঠি হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন বিক্ষুব্ধ লোকজন। মাহিন্দার ছোট ভাই প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের পদত্যাগের দাবি করছেন তাঁরা। বিরোধী দলগুলোও তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছে।

গত সোমবার দুপুরে শুরু হওয়া সংঘর্ষ রাতে আরও বড় আকার ধারণ করে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ছাড়াও হাম্বানটোটায় তাঁদের পৈতৃক বাড়িতে হামলা হয়। পুড়িয়ে দেওয়া হয় পারিবারিক জাদুঘর। এ ছাড়া ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের অর্ধশতাধিক বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এসব নেতার মধ্যে অনেক মন্ত্রী-এমপি রয়েছেন। এসব সহিংসতার ঘটনায় মঙ্গলবার পর্যন্ত অন্তত ৮ জন নিহত এবং ২ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এই সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ।

এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সোস্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে নেটিজেনরা।

ফেসবুকে দেবেব রাতা সাহা নামে একজন লিখেছেন, বিশে^র ক্ষমতাশীল দেশগুলোর মদদপুষ্ট ছিল শ্রীলঙ্কা। বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফ এক সময় শ্রীলঙ্কাকে এশিয়ার উদীয়মান বাঘ বলে আখ্যায়িত করেছেন। এখন এই বাঘ কেনো বিড়াল হয়ে গেল। দেশে জিডিপি বাড়লেই কি সাধারণ মানুষ শান্তিতে থাকতে পারে। তাদের দেশে তো জিডিপি অনেক বেশি। তাহলে তাদের কেনো এ ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হলো।

মেহেদী হাসান পলাশ নামে একজন লিখেছেন, বিশে^র কিছু দেশে কোনো না কোনো রাজনৈতিক সংঘাত লেগেই থাকে। শ্রীলঙ্কায় বিক্ষোভকারীদের মার থেকে এখন সরকারি দলও রেহায় পাচ্ছেন না। কয়েকদিন আগে পাকিস্তানের এমন হাল হলো। তিনি আরও লেখেন, এরপর কোন দেশ এ বিপদে পড়বে?

 

জাকির হোসেন নামে একজন লিখেছেন, শ্রীলঙ্কায় দুর্নীতিবাজ এমপি-মন্ত্রীদেরকে গণপিটুনি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই একজন এমপিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এখনো সংঘর্ষ অব্যাহত আছে।
তিনি আরও লেখেন, অনেক ভিআইপি কাপড়-চোপড় খুলে উলঙ্গ হয়েও জনগণের গণপিটুনি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। যা খুবই দুঃখজনক। ঘটনাটি দুঃখজনক হলেও সত্য। এটাই মনে হয় তাদের প্রাপ্য ছিল। কারণ তারা দুর্নীতি করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে দেশটাকে অধপতনে ফেলেছে।

সাকিব নামে একজন লিখেছেন, সব দেশের দালালরা সাবধান হও। এখনো সময় আছে। জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেলে ক্ষমতাশীলদের এ ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে।

আবদুর রহমান মজুমদার নামে একজন লিখেছেন, যারা মানুষের ওপর জুলুম করে ক্ষমতায় টিকে থাকে তাদেরকে এমনি করা উচিত।

মোহসিন নামে একজন লিখেছেন, সময়ের সঠিক কাজ সঠিকভাবে শ্রীলঙ্কার জনগণ করতে পেরেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের ওপর অন্যায় করে ক্ষমতায় টিকে ছিল। তাদের কারণে শ্রীলঙ্কার ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়েছে।

কবির নামে একজন লিখেছেন, সাময়িক ক্ষমতার জন্য যে বা যারা অন্যর ওপর জুলুম ও অন্যায় করতেছে বা করছেন ভবিষ্যৎয়ে এজন্য সাবধান হন। টাকা ও ক্ষমতা চিরদিন থাকে না। জনগণের রোষানলে পড়লে কেউ টিকে থাকতে পারে না।

আবার এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে ফেইসবুকে অনেকেই পোস্ট দিয়েছেন। তারা বলেছেন, বিশ^ নেতারা যাতে এ সংঘাত থামানোর ব্যাপারে উদ্বেগ নেয়। তা না হলে দেশটিতে দুর্ভিক্ষ হতে পারে বলেও উল্লেখ করেছেন।

এছাড়া অনেকেই বলেছেন, এ সংঘাত কোনো সমাধান নয়। দ্রুত আলোচনা করে আপনারা সমাধান করুন। নয়তো এ পরিণতি জনগণ থেকে সবার ভোগ করতে হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সোশ্যাল মিডিয়া


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ