Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯, ০৫ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

ফিনল্যান্ড-সুইডেনকে হুঁশিয়ারি রাশিয়ার

বেলারুশের সেনা মোতায়েন, আরো কোণঠাসা কিয়েভ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৭ মে, ২০২২, ১২:০০ এএম

রাশিয়া ফিনল্যান্ড এবং সুইডেনকে বলেছে যে, তাদের ন্যাটো সামরিক জোটে যোগদানের সিদ্ধান্ত সুদূরপ্রসারী পরিণতিসহ একটি গুরুতর ভুল এবং তাদের মনে করা উচিত নয় যে, মস্কো চুপ করে বসে থাকবে। এদিকে, বেলারুশ ইউক্রেনের সাথে তার সীমান্তে বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করেছে। ফলে, আরও কোনঠাসা হয়ে পড়েছে কিয়েভ।

গতকাল সোমবার ফিনল্যান্ড সীমান্তে অদূরে রুশ সুখোই যুদ্ধবিমানের মহড়া শুরু করেছে রাশিয়া। এতে এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, ইউক্রেনের পরে এবার ফিনল্যান্ডেও হামলা চালাতে পারে রুশ সেনা। এরই মধ্যে রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন, ‘ন্যাটো জোটে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়ে মারাত্মক ভুল করেছে ফিনল্যান্ড।’ এরই মধ্যে সোমবার ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সান্না মারিন সে দেশের পার্লামেন্টে বক্তৃতায় ন্যাটো জোটে যোগদানের জন্য আবেদনের কথা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার মারিন জানিয়েছিলেন, অবিলম্বে ন্যাটোয় যোগ দিতে আবেদন জানাবেন তারা। জানিয়েছিলেন, সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে আবেদন জানানো হতে পারে। দিন কয়েক আগে সুইডেনের তরফেও একই ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল। বিশেষত, ফিনল্যান্ডের এ উদ্যোগ রাশিয়ার নিরাপত্তার পক্ষে বড় আশঙ্কা বলে মনে করছে ভøাদিমির পুতিনের সরকার। ফিনল্যান্ডের সঙ্গে প্রায় ১২৮৮ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে রাশিয়ার। অতীতে দু’দেশের একাধিকবার যুদ্ধও হয়েছে। সোমবার ন্যাটোয় যোগ দেয়া প্রসঙ্গে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট সাওলি নীনিস্তো ও প্রধানমন্ত্রী সান্না মারিনের যে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয় তার বয়ান অনুযায়ী, ‘ন্যাটোর সদস্যপদ ফিনল্যান্ডের নিরাপত্তা আরও জোরদার করবে। পরিবর্তে ন্যাটোর সদস্য হিসেবে গোটা প্রতিরক্ষা অক্ষটির শক্তি বাড়াবে ফিনল্যান্ডও।’ এর প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন, ‘অবশ্যই যা ঘটছে তার আলোকে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হচ্ছে। এর ফলে ফিনল্যান্ড এবং সুইডেনের নিরাপত্তা জোরদার হবে না তা আমাদের কাছে খুব স্পষ্ট।’

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের গোড়ায় ন্যাটোতে যোগদানের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এর পরেই কিয়েভের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা শুরু করে মস্কো। রাশিয়ার পুতিন সরকারের অভিযোগ, আমেরিকা এবং ন্যাটো গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলো রাশিয়াকে ভৌগোলিক ভাবে ঘিরে ফেলার ছক কষছে। সে কারণেই ইউক্রেন, ফিনল্যান্ড-সহ প্রতিবেশি দেশগুলিকে ন্যাটোয় অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

আরও কোনঠাসা কিয়েভ : ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার বলেছে যে, বেলারুশ ইউক্রেনের সাথে তার সীমান্তে বিশেষ বাহিনী এবং দেশের পশ্চিমে প্রশিক্ষণ রেঞ্জে বিমান প্রতিরক্ষা, আর্টিলারি এবং ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট মোতায়েন করছে। বেলারুশিয়ার বাহিনী সরাসরি সংঘাতে জড়িত ছিল না, যদিও এর অঞ্চলটি কিয়েভ এবং চেরনিহিভে রাশিয়ার অগ্রগতির জন্য একটি প্রাথমিক মঞ্চ হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। রাশিয়াও বেলারুশ থেকে বিমান হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সীমান্তের কাছে বেলারুশিয়ান সৈন্যদের উপস্থিতি ইউক্রেনের সেনাদের সেখানে আটকে রাখতে পারে, তাদের ইউক্রেনের পূর্ব শিল্প কেন্দ্রস্থল ডনবাসে পাল্টা আক্রমণকে সমর্থন করতে যেতে বাধা দেয়।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, তাদের সেনারা ইউক্রেনের তিনটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রুশ বাহিনী মায়কোলাইভের ইয়েভহেনিভকার কাছে একটি এসইউ-২৫ ও খারকিভের কোমেসুভাকায় আরেকটি এসইউ-২৫ বিমান গুলি করে মাটিতে নামায়। অন্যদিকে কৃষ্ণ সাগরের স্নেক আইল্যান্ডের কাছে একটি এসইউ-২৪ বিমান ভূপাতিত করার দাবি জানিয়েছে তারা। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন মিসাইল খারকিভের দুটি কমান্ড পোস্টেও আঘাত হেনেছে। এছাড়া অস্ত্রের গুদামও উড়িয়ে দেয়ার দাবি করেছে তারা। এই গুদামে ইউক্রেনের সেনা ও অস্ত্র মজুদ করা ছিল। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, তাদের সেনারা দোনেৎস্ক ও লুহানেস্কেও একই রকম হামলা চালিয়েছে।

এদিকে, রাশিয়ার ন্যাশনাল গার্ড খারকিভে ইউক্রেনীয় নাৎসিদের কাছ থেকে বিদেশি তৈরি অস্ত্র উদ্ধার করেছে। সোমবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়ে রুশ সেনা জানায়, ‘খারকিভ অঞ্চলে পুনরুদ্ধার অভিযানের ফলে, রাশিয়ান ন্যাশনাল গার্ডের বিশেষ বাহিনী আগ্নেয়াস্ত্র এবং অন্যান্য বিদেশী তৈরি অস্ত্র উন্মোচন এবং বাজেয়াপ্ত করেছে, যার মধ্যে ট্যাঙ্ক-বিরোধী সিস্টেম, হাতে ধরা গ্রেনেড লঞ্চার এবং বিমান প্রতিরক্ষা অস্ত্র রয়েছে।’ সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান, আল জাজিরা, রয়টার্স, তাস।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রাশিয়া ফিনল্যান্ড
আরও পড়ুন