Inqilab Logo

রোববার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯, ২৫ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় নাস্তিক্যবাদীরা

ততদিন বাংলাদেশ থাকবে যতদিন মাদরাসা থাকবে

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২০ মে, ২০২২, ১২:০৩ এএম

কথিত নাস্তিক্যবাদী গোষ্ঠী গণকমিশন দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। ইসলাম ও মানবতার দুশমন ঘাদানিক চক্র দেশকে একটি রামরাজ্য বানাতেই শীর্ষ আলেম ও কওমি মাদরাসার বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিত্তিহীন শ্বেতপত্র জমা দিয়েছে। যতদিন কওমি মাদরাসা থাকবে ততদিন বাংলাদেশ থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রীও থাকবেন। কওমি মাদরাসাগুলো হচ্ছে মানুষ গড়ার কারিগর। কথিত গণকমিশন শ্বেতপত্রের মাধ্যমে শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম ও মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দায়েরের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দ গতকাল বুধবার মতবিনিময় সভা ও বিবৃতিতে এসব কথা বলেছেন।

ইসলামিক কালচারাল ফোরাম বাংলাদেশ ঃ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেছেন, কথিত নাস্তিক্যবাদী গোষ্ঠী গণকমিশন দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। ইসলাম ও মানবতার দুশমন ঘাদানিক চক্র দেশকে একটি রামরাজ্য বানাতেই শীর্ষ আলেম ও কওমি মাদরাসার বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিত্তিহীন শ্বেতপত্র জমা দিয়েছে। যতদিন কওমি মাদরাসা থাকবে ততদিন বাংলাদেশ থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রীও থাকবেন।

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি হলরুমে ইসলামিক কালচারাল ফোরাম বাংলাদেশ আয়োজিত কথিত গণকমিশনের ভিত্তিহীন অভিযোগ বিষয়ে আমাদের করণীয় নির্ধারনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় মাওলানা মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, কওমি মাদরাসায় কোনো জঙ্গিবাদ তৈরি হয় না। কওমি মাদরাসাগুলো আদর্শ নাগরিক তৈরি করছে। প্রধানমন্ত্রী কওমি মাদরাসা শিক্ষার স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, কথিত ঘাদানিক গণকমিশন শ্বেতপত্রের মাধ্যমে স্বনামধন্য আলেম ওলামা ও কওমি মাদরাসার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছে। এতে দেশের সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি যারা মিথ্যা শ্বেতপত্রের মাধ্যমে দেশকে অশান্ত করার উস্কানি দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিন।

সংগঠনের চেয়ারম্যান তেজগাও রহিম মেটাল জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মাহমুদুল হাসান মমতাজীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা মো. নাজমুল হকের পরিচালনায় এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মুফতি মোহাম্মদ আলী, ফরিদাবাদ মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি ইমাদ উদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের (একাংশ) আমির মাওলানা আবু জাফর কাসেমী, প্রিন্সিপাল মাওলানা আবুল কাসেম আশরাফী, মাওলানা আব্দুর রহিম, মাওলানা আব্দুল্লাহ ফিরোজী, মুফতি ওয়াহিদুল আলম, মুফতি বোরহান উদ্দিন রব্বানী, মাওলানা শামসুল হুদা, হাফেজ মাওলানা মনছুরুল হক, মাওলানা ইব্রাহিম বিন আলী, হাফেজ মাওলানা সা’দ সাইফুল্লাহ, শায়েখ ওসমান গণি ও হাফেজ মাওলানা মোতাহার। সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মাহমুদুল হাসান মমতাজী বলেন, ঘাদানিক গণকমিশন ইসলাম, মুসলমান ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম ঃ ১১৬ জন শীর্ষ আলেম ও মাদরাসার বিরুদ্ধে দুদকে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়া “গণকমিশনের” কার্যক্রমের নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম এর চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। গতকাল বিবৃতিতে হাজ্জাজ বলেন, “সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের প্রদত্ত ক্ষমতা বলে কথিত “গণকমিশন” দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত করলো ? দেশকে অস্থিতিশীল করতে সবসময় কৌশলে ইসলাম এবং উলামায়ে কেরামকে টার্গেট করা হয়। অস্বীকার করার উপায় নেই, ঐতিহাসিকভাবেই কওমি মাদরাসা এবং ওয়াজ মাহফিল এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের আবেগ এবং অনুভূতির স্থান। আমরা মনে করি, ওয়াজ মাহফিলে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রদান করা হয় কিনা সেটার তদন্ত করতে হলে শীর্ষ আলেমদের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, কোনপ্রকার এখতিয়ার এবং যোগ্যতা ছাড়া বিতর্কিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিশন ঢালাওভাবে দেশের শীর্ষ আলেমদের অপমান এবং অপদস্ত করতে যে রিপোর্ট দুদকে জমা দিয়েছে সেটা ধর্মীয় উষ্কানির শামিল। অন্যদিকে এধরণের হীন কর্মকান্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে টক-শোতে বক্তব্য রাখা একজন আলেমের বিরুদ্ধে মামলা করেছে আরেক বিতর্কিত সংগঠন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। আমরা দেখতে চাই, দুদক অর্থপাচারকারী, অবৈধ মুজদকারী, মাদক চোরাকারবারি এবং অবৈধ কালো টাকার মালিকদের তালিকা করে ব্যবস্থা নিচ্ছে যাতে দেশে আর কোন পিকে হালদার বা আব্দুল হাই বাচ্চুদের জন্ম না হয়। আমরা গণধিকৃত “গণকমিশনের”দেশের প্রচলিত আইনে ধর্মীয় উষ্কানি দেবার অপরাধে বিচার চাই।”

জাতীয় ওয়ায়েজীন পরিষদ বাংলাদেশ ঃ জাতীয় ওয়ায়েজীন পরিষদ বাংলাদেশ-এর সভাপতি আল্লামা মুজিবুর রহমান চাটগামী সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মাওলানা আবুল কালাম আজাদের সঞ্চালনা ও মাওলানা মাহবুবুর রহমান জিহাদীর তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় ওয়ায়েজীন পরিষদ বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে দোলাইর পাড়ে এক জরুরি বৈঠকে-ভুয়া, গণধিকৃত, ভুঁইফোড় গণকমিশন কর্তৃক দেশের ১১৬ শীর্ষস্থানীয় পীর-মাশায়েখ, আলেম ও জনপ্রিয় ইসলামী আলোচকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও কল্পিত অভিযোগে অভিযুক্ত করে তৈরিকৃত শ্বেতপত্র দুদকে হস্তান্তরের মতো ন্যাক্কারজনক অপকর্মের তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং এর সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনানুগ দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, আল্লামা মুজিবুর রহমান চাটগামী, মাওলানা আজহারুল ইসলাম আজমী, মাওলানা মাজহারুল ইসলাম রাশেদী, মাওলানা মাহবুবুর রহমান জিহাদী, মাওলানা আলী হায়দার গাজীপুরী, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা ইয়াসিন আকরাম চৌধুরী, মাওলানা লুৎফুর রহমান মারুফ, মাওলানা জাহিদুল ইসলাম সাদী।

বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি ঃ বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা কাজী আবু হোরায়রা, মহাসচিব মাওলানা আব্দুল মালেক নূরী,সহ সভাপতি মুফতী আখতারুজ্জামান, যুগ্মমহাসচিব মুফতী ওসমান গনি, যগ্ম মহাসচিব হাফেজ মাওলানা আবু ইউসুফ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন গতকাল এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, একশত ষোলজন স্বনামধন্য আলেম ও এক হাজার মাদরাসার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তারা দুদকে দাখিল করেছে তারা কারা? কি তাদের পরিচয়? এ অধিকার তাদেরকে কে দিয়েছে? এ দেশে তাদের পরিচয় কি? তারা এ সাহস পেল কোথায়? দেশী- বিদেশি কোন দুষ্ট চক্রের এজেন্ট হিসেবে কি তারা দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের লক্ষে মাঠে নেমেছে কিনা ইত্যাকার প্রশ্ন দেশের মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে।

তাদের এ ধরনের অবৈধ কর্মের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য আমরা তৌহিদী জনতার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আর তাদের বিরুদ্ধে বেআইনি কাজ করে দেশে অশান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করার কারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের নিকট উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মাদরাসা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ