Inqilab Logo

রোববার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯, ২৫ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বিপদে আমেরিকা ও ব্রিটেন

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৯ মে, ২০২২, ৮:১৩ পিএম

রাশিয়ার বিরুদ্ধে একের পর একের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এখন নিজেরাই সঙ্কটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। গত মঙ্গলবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছিলেন, পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা ‘অর্থনৈতিক আত্মহত্যা’র সমতুল্য। তার কথাই এখন সত্যি বলে প্রমাণিত হচ্ছে।

পুতিনের দূরদর্শী সিদ্ধান্তে রাশিয়া পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সফলতার সাথে মোকাবেলা করলেও কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে ব্রিটেন ও আমেরিকা। যুক্তরাজ্যের মুদ্রাস্ফীতি বিগত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত মাসে দেশটির মুদ্রাস্ফীতি সর্বোচ্চ নয় শতাংশে পৌঁছেছে। দেশটিতে গত এক বছর খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়েছে অন্তত সাত শতাংশ। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই মুদ্রাস্ফীতি দেশটির নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ জীবনধারণের ক্ষেত্রে সব ধরনের খরচ বাড়াতে পারে।

যুক্তরাজ্যের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকস বুধবার (১৮ মে) জানিয়েছে, বর্তমানের মুদ্রাস্ফীতির হার ১৯৯০-এর দশকের যুক্তরাজ্যের মহামন্দার সময়ের মুদ্রাস্ফীতির হারকেও পেছনে ফেলেছে। অনেকেই এই মুদ্রাস্ফীতির ফলে ৯০-এর দশকের আকাশছোঁয়া সুদের হারের কথাও স্মরণ করছেন। যুক্তরাজ্য বর্তমানে ইউরোপের সর্ববৃহৎ ৫ অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতি বিরাজ করছে। জি-সেভেন ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যেও যা সর্বোচ্চ।

একইভাবে, করোনাভাইরাসের প্রকোপ থেকে উঠে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই মূল্যস্ফীতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বেড়ে যাচ্ছে জিনিসপত্রের দাম, বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয় ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ। এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৮০ সালের পর কখনই পণ্যের দাম এতটা বাড়েনি। দেশটির হাউজিং মার্কেটে দেখা দিয়েছে মারাত্মক অস্থিরতা। ভোক্তাদের পকেটের টাকা বাতাসের মতো মিলিয়ে যাচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা ভয় পাচ্ছেন, ২০০৭ সালের মতো মূল্যস্ফীতি থেকে অর্থনৈতিক মন্দার দিকে ধাবিত হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার ছড়িয়ে গেছে বিগত ২২ বছরের রেকর্ড। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান জেরম পাওয়েল বলেছেন, মূল্যস্ফীতি না কমা পর্যন্ত সুদের হার বাড়তে থাকবে। ফেডারেল রিজার্ভের এমন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ওয়াল স্ট্রিটের ব্যাংকগুলো জানিয়েছে, এভাবে সুদের হার বাড়াতে থাকলে খুব দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র মূল্যস্ফীতি থেকে অর্থনৈতিক মন্দার দিকে ধাবিত হবে।

ফলে এখন পশ্চিমাদের কাছে এখন রাশিয়ার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। এতদিন ইউক্রেন যুদ্ধের মাধ্যমে তারা ফায়দা নিতে চাইলেও বর্তমানে তারা নিজেরাই সঙ্কটে পড়ে গিয়েছে। বরং, রাশিয়া সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। যার ফলে, বিচক্ষণ পুতিনের কাছে হার মানা ছাড়া পশ্চিমাদের কাছে আর খুব বেশি বিকল্প নেই বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: বিবিসি, ডেইলি সাবাহ, ইকোনমিস্ট।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ব্রিটেন


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ