Inqilab Logo

রোববার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯, ২৫ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

আজ চুকনগর গণহত্যা দিবস

ডি এম রেজা সোহাগ, খুলনা থেকে : | প্রকাশের সময় : ২০ মে, ২০২২, ১২:০২ এএম

চুকনগর গণহত্যা দিবস আজ। ১৯৭১ সালের ২০ মে পাকিস্তানি বাহিনী ও তার দোসররা খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগরে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল।
দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার বেলা প্রায় ১১টা। পাকবাহিনী আসে চুকনগর শহরে। শুরু হয় গুলি। গুলির শব্দে এখানে আসা নারী-পুরুষের চিৎকারে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে। চারিদিকে শুধু কান্নার শব্দ ও হুড়োহুড়ি আর দৌড়াদৌড়ি। এরপর সবকিছুই এক সময় নীরব হয়ে যায়। চারিদিকে শুধু লাশের সারি। সেদিন চুকনগর শহর, মন্দিরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় ঢুকে নিরীহ মানুষকে অকাতরে গুলি করে হত্যা করে হানাদারেরা। কোথাও লুকিয়ে ওদের হাত থেকে কেউ রক্ষা পায়নি। চুকনগর সেদিন মৃত নগরীতে পরিণত হয়েছিল। তাদের তাণ্ডবে চুকনগরের সবুজ মাটি মুহূর্তের মধ্যে লাল হয়ে উঠেছিল। চুকনগরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা ভদ্রা নদীতে ছিল লাশের বহর ও তাজা রক্তের স্রোত।
সেদিন চুকনগরে কত মানুষ মারা গেছে তার কোন সঠিক হিসাব ছিল না। তবে তখনকার লাশ বহনকারী ২২ জনের অন্যতম আব্দুল জব্বার ও শের আলী সরদারসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, আমরা ৪,৪০০ পর্যন্ত গণনা করার পর আর পারিনি। তবে ১০/১৫ হাজারের মত নিরীহ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল পাকবাহিনী। এত অল্প সময়ে এক জায়গাতেই এত লোককে হত্যা করা হয়েছে তার কোন নজির আজও কোথাও বিশ্বের কোন স্থানে পাওয়া যায়নি। চুকনগরের এ নৃশংস ঘৃন্যতম দৃশ্য পৃথিবীর ইতিহাসে সব গণহত্যার চেয়ে বর্বর বলে অনেক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে এটি নিষ্ঠুর ও জঘন্যতম দিন। এ দিনটি শুধু চুকনগরের জন্য নয়, বাংলাদেশের জন্য একটি ভয়াল দিন ও শোকাবহ দিন। স্বাধীনতা যুদ্ধের একটি অবিস্মরণীয় ঘটনা।
চুকনগর গণহত্যা দিবস উপলক্ষে সকাল ৯টায় বধ্যভূমিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন, বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ অর্পণ, ভদ্রা নদীতে ফুলের পাপড়ি ভাসানো, আলোচনা সভা শেষে লাইট শো ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃিতক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ