Inqilab Logo

সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ০৪ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

শীতলক্ষ্যা ওয়াকওয়ে এখন ময়লার ভাগাড়

স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার প্রাণকেন্দ্র

মোঃ হাফিজুর রহমান মিন্টু, নারায়ণগঞ্জ থেকে | প্রকাশের সময় : ২০ মে, ২০২২, ১২:০২ এএম

শীতলক্ষ্যার শীতল হাওয়ায় সামান্য প্রশান্তি যেন দূর করে দেয় সারাদিনের ক্লান্তি নগরবাসীর স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে শীতলক্ষ্যা নদীর তীর ঘেষে ওয়াকওয়ে। নদী তীরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং নির্মল পরিবেশ উপভোগে বিপুল অর্থ খরচ করে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সেই নয়নাভিরাম ওয়াকওয়ে এখন পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। বিশেষ করে ৩নং ঘাটের মাছ বাজারের আবর্জনায় ওয়াকওয়ে ঘিরে তৈরী হয়েছে বৃহৎ ডাম্পিং স্পট। বাড়ছে শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ।

গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর কার্যালয় থেকে ৫নং ঘাট পর্যন্ত ওয়াকওয়ের আশপাশ কাটা মাছের রক্ত ও মাছের আশটা ছড়িয়ে ছিটিয়ে নদী পাড়ের নির্মল পরিবেশকে করে তুলেছে দুষিত। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর ডেপুটি ডাইরেক্টর পোর্ট ও ট্র্াফিক ইসমাইল হোসাইন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। মাছ ব্যবসায়ীদের পরিবেশ সুন্দর রেখে ব্যবসা করার কথা বলা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ শহরের সর্ববৃহৎ মাছ বাজার ৩নং মাছ ঘাট। এ মাছ ঘাটের সকল আবজর্নাসহ ঘাটের পার্শ¦বর্তী এলাকার আবর্জনা ওয়াকওয়ের পাশেই ফেলা হয়। ফলে যেখানে শীতল বাতাসে প্রাণ জুড়িয়ে নিতে যায় মানুষ, সেখান থেকে দুর্গন্ধে ফিরে আসে। শহরে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী এলাকায় নকশা করা টালি বিছিয়ে ওয়াকওয়ে তৈরী করা হয়েছে। নদীর ঢাল কংক্রিটে বাঁধা। পথচারীদের বসার জন্য রয়েছে কংক্রিটের বেঞ্চ। কিন্তু পুরো ওয়াকওয়ের একাধিক স্থানে রয়েছে আবর্জনার স্তুপ। বিশেষ করে মাছ বাজারের বর্জ্য। প্রতিদিনই পুরো ঘাটের বর্জ্যসহ মাছ বাজারের শুকনো বর্জ্য আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। পঁচা বর্জ্যের সঙ্গে কালো ধোঁয়ায় পার্শ¦বর্তী পথচারীদের দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হয়। এ বর্জ্যরে অংশাবিশেষ ফেলা হয় নদীতে।

সারাদিনের মাছ বাজারের বর্জ্য নদীর তীরে ফেলছেন রাজু। তার সাথে কথা হলে জানা যায়, প্রতিদিন বাজারসহ আশে পাশের বর্জ্য নদীর তীরে ফেলেন তিনি। বর্জ্য জমে জমে টিলায় পরিণত হলে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। আবর্জনার ছাই পরবর্তীতে নদীতে ফেলা দেওয়া হয়। বিআইডবিøউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর শাখার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা এই বিষয়ে বলেন, নদীর তীরে পাশের জায়গার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বিআইডবিøউটিএর। কিন্তু পরিচ্ছন্নতার এই কার্যক্রম এই দফতর থেকে করা হয়না। তবে নদীর তীরবর্তী জায়গা দখল হলে উচ্ছেদ অভিযান করে থাকে বিআইডবিøউটিএ।

আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, শীতলক্ষ্যার পাড়ের ওয়াকওয়ের শুরুর দিকের সৌন্দর্য্য এখন আর নেই। ওয়াকওয়ে হয়েছে ময়লার ভাগাড়। বিশেষ করে মাছ বাজারের উচ্ছিষ্টের তীব্র দূর্গন্ধতে পথচারীরা এখানে দাঁড়াতে পারে না।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি এ বি সিদ্দিক বললেন, নদীর তীরের ওয়াকওয়ে আবর্জনার কারণে দূষণ হচ্ছে। নদী রক্ষার আইন থাকলেও আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাবে শীতলক্ষ্যা তার যৌবন হারাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন হিরন বলেন, ৩নং মাছ বাজারের ময়লা আবর্জনা পরিচ্ছন্নের দায়িত্ব আমাদের না, যারা ইজারা দিয়েছে তাদের। বিআইডাবিøউটিএর প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান জানান, বর্তমানে শীতলক্ষ্যা পারের ডেমরা সুলতানা কামাল ব্রীজ, নগরীর খানপুর, আজিমঊদ্দীন ট্রাষ্টি, পোর্ট এলাকার ১০ কিলোমিটার এলাকায় ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজ চলছে। ওয়াকওয়ের নির্মাণ কাজ শেষ হলে ফল-ফলাদিসহ বিভিন্ন প্রকার গাছ রোপন করা হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: শীতলক্ষ্যা


আরও
আরও পড়ুন