Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ১৪ আষাঢ় ১৪২৯, ২৭ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

টানা সাত কার্যদিবস সূচকের পতন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৯ মে, ২০২২, ১০:১৬ পিএম

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়েছে। এর মাধ্যমে টানা সাত কার্যদিবস পতনের মধ্যে থাকলো শেয়ারবাজার। এতে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক প্রায় ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে। সূচকের পতনের সঙ্গে ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। গতকাল বৃহস্পতিবার ডিএসইর পাশাপাশি অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। পাশাপাশি লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে।
শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হতেই একের পর এক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমতে থাকে। এতে লেনদেনের ১০ মিনিটের মাথায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ৭৫ পয়েন্ট কমে যায়। আর লেনদেনের এক ঘণ্টার মাথায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক কমে ৮০ পয়েন্ট। এরপর অবশ্য বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ে। এতে বড় পতন থেকে বেরিয়ে এক পর্যায়ে সূচক ঊর্ধ্বমুখীতার দেখা পায়। দুপুর ১টা ২৫ মিনিটের মাথায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক আগের দিনের তুলনায় ১৫ পয়েন্ট বেড়ে যায়।
তবে সূচকের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। লেনদেনের শেষ ঘণ্টায় এসে আবার অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমে যায়। ফলে বড় পতন দিয়েই শেষ হয় দিনের লেনদেন। এতে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫১ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ২৫৮ পয়েন্টে নেমে গেছে। এর মাধ্যমে টানা সাত কার্যদিবস পতনের মধ্যে থাকলো শেয়ার বাজার।
এই সাতদিনে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক কমেছে ৪৪০ পয়েন্ট। এমন টানা পতনের কারণে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচকটি গত বছরের ১২ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১৯ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৩১৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ আগের দিনের তুলনায় ৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৮৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৬৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৬৩টির। আর ৫০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৬৬৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৭৬২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। সে হিসেবে লেনদেন কমেছে ৯৪ কোটি ৫ লাখ টাকা।
ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ৫৩ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইসলামী ব্যাংকের ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ২৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে শাহিনপুকুর সিরামিক। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, ওরিয়ন ফার্মা, এনআরবিসি ব্যাংক, এসিআই ফরমুলেশন, আরডি ফুড এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৩৫ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেওয়া ২৮৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২০৮টির এবং ২৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ