Inqilab Logo

রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯, ০৩ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারী দেখেন রোগী!

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২২ মে, ২০২২, ৭:৩৮ পিএম | আপডেট : ৯:২১ পিএম, ২২ মে, ২০২২

অফিস সহকারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি দেন প্রেসক্রিপশন। অষ্টম শ্রেণি পাস এ কর্মচারী ছোটো খাটো অপারেশনও করেন! এছাড়াও সরকারি ওষুধ বিক্রি, কমিশনে উপজেলার অন্যান্য ক্লিনিক ও হাসপাতালে রোগী পাঠানোর অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, বরিশালের মুলাদী উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা এক প্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারী মনিরুল ইসলামের কাছে।

তার বিরুদ্ধে কর্তব্যরত চিকিৎসককে দু’দফায় শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করারও অভিযোগ আছে। সেই ঘটনার পরও বহাল তবিয়তে আছেন তিনি।

জানা গেছে, বরিশাল শহরের সাগরদী এলাকার রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক হাওলাদারের ছেলে মনিরুল ইসলাম ১৫ বছর আগে অফিস সহকারী পদে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেন।

মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চাকরিরত অন্যান্যরা অভিযোগ করে বলেন, ৮ম শ্রেণি পাস মনিরুল ইসলাম যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরও দুই থেকে তিনজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নিয়ে গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। প্রথমে সরকারি ওষুধ বাহিরে বিক্রির মধ্য দিয়ে মনির তার অপরাধজগত গড়ে তোলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে নিজেই এপ্রোন পড়ে দেখতে থাকেন রোগী। এমনকি ছোটো খাটো অপারেশনও করেন তিনি। প্রতিবাদ করলে, মনিরুল ইসলাম তখনকার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও করেন। পরে বরিশালের সিভিল সার্জন তাকে বদলি করে হিজলা উপজেলায়। সেখানে গিয়েও একই ধরনের সিন্ডিকেট গড়ে তোলে কমিশন বাণিজ্যের নেতৃত্ব দেন মনিরুল।

হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও স্বাস্থ্যসেবা উন্নত হলেও, মনিরের সিন্ডিকেট উপজেলার অন্যান্য হাসপাতালে রোগী পাঠিয়ে দিতো কমিশন বাণিজ্যে। সেখানকার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বাঁধা দিলেও, তাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে মনিরের সিন্ডিকেট। ফের তাকে একই অপরাধে বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদে বদলি করলেও আচরণে পরিবর্তন আসেনি।

অভিযোগ আছে, রাত নামতেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মনির সিন্ডিকেট বসায় মাদকের আসর। এখানে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য বেচাকেনা হয়। এজন্য তাকে ডিমোশন দিয়ে বদলি করা হয় আবারও মুলাদী উপজেলায়।

সেখানেও একই ধরনের অভয়ারণ্য গড়ে তোলেন মনির। স্থানীয় অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় মনিরুলের সিন্ডিকেট অবৈধ কাজে দাপিয়ে বেড়ালেও তার বিরুদ্ধে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বরিশাল সিভিল সার্জন।

এদিকে, সামান্য অফিস সহকারী পদে চাকরি করে বরিশাল শহরের বিভিন্ন জায়গায় জমি কিনেছেন মনিরুল। সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে হাউজিং এলাকায় গড়েছেন বাড়িও।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মনিরুলকে ফোন করা হলে সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তিনি বলেন, ‘আমি এখন ব্যস্ত আছি পরে কথা বলব।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ