Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট ২০২২, ০১ ভাদ্র ১৪২৯, ১৭ মুহাররম ১৪৪৪
শিরোনাম

ছাত্রলীগ কর্মীকে সালাম না দেয়ায় জুনিয়রকে চড় থাপ্পড় লাথি!

ঘটনাস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৬ মে, ২০২২, ১২:০১ এএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টার দ্য সূর্যসেন হলে সালাম না দেয়ায় এক জুনিয়রকে চড়, থাপ্পড় ও লাথি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে হল ছাত্রলীগের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার রাতে সাড়ে এগারোটার সময় এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। এ প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হল প্রভোস্ট বরাবর একটি অভিযোগ পত্র দায়ের করেন।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীর নাম মানিকুর রহমান মানিক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। মানিক হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিয়াম রহমানের খুব ঘনিষ্ঠ বলে জানা গেছে। সিয়াম রহমান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের অনুসারী। অপরদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম সাজ্জাদুল হক সাঈদী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

অভিযোগ পত্রে সাজ্জাদ লিখেন, আমি হলের ২৪৯ নাম্বার রুমে অনলাইন ক্লাস করার সময় ২০১৭-১৮ সেশনের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মানিকুর রহমান মানিক আমার রুমে এসে বাবা-মা নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। পরে তিনি আমাকে তার কাছে যেতে বললে আমি তার কাছে যায়, ঠিক তখনি আকস্মিকভাবে সে আমার মুখে এবং কানে চড় মারে এবং সাথে সাথে এলোপাতাড়ি গায়ের সর্বশক্তি দিয়ে আমাকে লাখি মারে, আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই আমাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারার মাধ্যমে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত ও নির্যাতন করে। ফলশ্রুতিতে আমি এখন কানে শুনতে পারছিনা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইনকিলাবকে বলেন, রাত প্রায় সাড়ে এগারোটার দিকে আমি আমার একটা কোচিংয়ের ক্লাস করছিলাম। এমতাবস্থায় মানিক ভাই আমার রুমে আসে। আমি উটে সালাম দেইনি বলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং রুমে যেতে বলে। ওনার রুমে যাওয়ার পর এলোপাতাড়ি গায়ের সর্বশক্তি দিয়ে চড় থাপ্পড় আর লাথি মারে। আমার বাবা মাকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমাকে হল থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেয়। এখন আমি শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত হয়েছি এবং মানসিক ভাবে আমি বিপর্যস্ত। আমি এর ন্যায় বিচার চাই।

তিনি বলেন, আমরা হলে থেকেও কারা ছাত্রলীগের প্রোগ্রাম ও কথিত গেস্টরুমে যাই না তাদের খোঁজ নেয়ার জন্যই তিনি রুমে এসেছিলেন।
অভিযুক্ত মানিকের বিরুদ্ধে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ফুলার রোড ও শহীদ মিনার সহ ক্যাম্পাস এলাকায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছিনতাইয়ের ঘটনার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
হল সূত্রে জানা যায়, মানিকের আচরণে হলের সব শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরাই বিরক্ত। নিজেকে মোস্ট পলিটিক্যাল প্রমাণ করতে জুনিয়রদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করা ও অনেক ছাত্রকে রাতে হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানতে অভিযুক্ত মানিককে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিয়াম মানিককে নিজের অনুসারী বলে দাবি করলেও মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেননি। তিনি বলেন, তাদের মাঝে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, আমি মিটমাট করে দিয়েছি। হলের প্রভোস্ট প্রফেসর মোহাম্মদ মকবুল হোসেন ভূইয়াকে একাধিক বার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ঢাবি


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ