Inqilab Logo

শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ১৭ আষাঢ় ১৪২৯, ০১ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

‘অটো পাশে’ ফলাফল ভালো হওয়ায় কে.বি কলেজে উৎসাহ বিল ১১ লাখ !

ময়মনসিংহ ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ২৬ মে, ২০২২, ৭:৩৯ পিএম

বিগত ২০২০ সালে অটোপাশে এসএইচসি পরীক্ষার ফলাফল ভালো হওয়ায় উৎসাহ বোনাস হিসেবে ১১ লাখ ৩২ হাজার ৮৬০ টাকা বিল করেছে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি সম্প্রতি প্রকাশ হওয়ায় সমালোচনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে-বাইরে। তবে পরীক্ষা সংক্রান্ত দ্বায়িত্ব পালন না করে কোন ধরনের প্রনোদনা বা উৎসাহ বোনাস গ্রহনের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড.গাজী হাসান কামাল।

তিনি বলেন, কাজ না করে এ ধরনের বোনাস গ্রহনের নিষেধ আছে। তারা যদি এমন করে থাকে তবে খোঁজ নিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মো: মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, এ ধরনের কোন অভিযোগ আমার জানা নেই। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

অভিযোগ উঠেছে, কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. জাকির হোসেনের নিকট আত্মীয় হওয়ায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মো: মোস্তাফিজুর রহমানকে বয়স বিধি লঙ্গন করে ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টম্বর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছেন।

অথচ শিক্ষা মন্ত্রনালয় কর্তৃক জারিকৃত বেসরকারি স্কুল-কলেজের জনবল কাঠামো ২০১৮ এর ১১(৬) অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে ‘বয়স ৬০ বছর পূর্ন হওয়ার পর কোন প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ কোন শিক্ষক-কর্মচারীকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যাবে না।’ কিন্তু জাতীয় পরিচয় পত্র অনুযায়ি বর্তমানে অধ্যাপক মো: মোস্তাফিজুর রহমানের বয়স প্রায় ৭৩ বছর।

সংশ্লিষ্ট একাধিক শিক্ষক সূত্র জানায়, ঢাকা বোর্ডে দশম স্থান অর্জনকারি এ কলেজটি অনিয়ম-দূর্নীতির কারণে বর্তমানে বিশৃংখল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পূর্বের অধ্যক্ষকে অবৈধ ভাবে অপসারনসহ নানা ঘটনায় বর্তমানে কলেজের পক্ষে-বিপক্ষে বেশ কয়েকটি মামলাও চলমান আছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বয়স সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো: মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, বর্তমানে আমার বয়স ৭৩ বছর। তবে কর্তৃপক্ষ নিয়ম মেনেই আমাকে নিয়োগ দিয়েছে, আইনের ব্যতিক্রম হলে অবশ্যই তারা তা করতেন না।

তিনি আরও জানান, অটো পাশের ফলাফল ভালো হওয়ায় উৎসাহ বোনাস ময়মনসিংহের সব কলেজেই নিয়েছে। ফলে করোনার দূর্যোগের কারণে আমার কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সবাই বলায় আমিও উৎসাহ বোনাস নিয়েছি।

এদিকে কলেজের একাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর অভিযোগ, বর্তমানে কলেজটিতে দ্বিতীয় মেয়াদে চেয়ারম্যান পদে দ্বায়িত্ব পালন করছেন বাকৃবির প্রফেসর ড. জাকির হোসেন। সম্প্রতি তিনি কলেজের দু’জন অস্থায়ী শিক্ষককে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন।

কিন্তু গত কয়েক দিন আগে কলেজের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. জাকির হোসেন কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছে। এতে চেয়ারম্যান পদটি হাত ছাড়া হবার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর এ কারণে তিনি অনৈতিক সুবিধা হাতিয়ে নিয়ে তড়িগড়ি করে এই নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করার জন্য দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

তবে এবিষয়ে জানতে চাইলে প্রফেসর ড. জাকির হোসেন বলেন, কোন প্রার্থীর সাথে আমার যোগাযোগ হয়নি। আর্থিক লেনদেনের প্রশ্নই আসে না। তাছাড়া আমি উপাচার্য পদে নিয়োগ পেলেও এখানে চেয়ারম্যান থাকতে আইনের কোন বাঁধা নেই। তবে আমি চাইলে পদ ছেড়ে দিতে পারি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ