Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ২১ মে ২০১৯, ০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৫ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

মীর কাসেমের মামলায় থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিলেন বিচারপতি নজরুল

প্রকাশের সময় : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : একাত্তরের মানবতা বিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর আপিল শুনানিতে আসামি পক্ষের আইনজীবী থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন হাইকোর্ট বিভাগ থেকে সদ্য অবসরে যাওয়া বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী।
আজ সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে তৃতীয় দিনের মতো মীর কাসেমের আপিলের শুনানি শুরু হলে নজরুল ইসলাম আসামি পক্ষের আইনজীবী থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দেন।
পরে সাংবাদিকদের নজরুল ইসলাম বলেন, মীর কাসেমের আপিলের শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও আইনজীবী হিসেবে এটা করার অধিকার তাঁর রয়েছে। এটা অসাংবিধানিক নয়, অনৈতিকও নয়।
তবে ‘প্রচণ্ড বৈরী’ পরিবেশের কারণে এই মামলার শুনানি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি নজরুল ইসলামের। তাঁর ভাষ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে অবসরে যান তিনি। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে একজন আইনজীবী হিসেবে আপিল বিভাগে বিভিন্ন মামলার শুনানিতে অংশ নিয়ে আসছেন। ওই সব মামলার শুনানি চলাকালে অ্যাটর্নি জেনারেল তাঁর বিষয়ে কোনো আপত্তি তোলেননি। কিন্তু মীর কাসেমের মামলায় অংশ নিলে তাঁর বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি মীর কাসেমের আপিলের শুনানিতে আসামি পক্ষে অংশ নেন নজরুল ইসলাম। শুনানির শুরুতে আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনায় নজরুল ইসলামের বিষয়ে আপত্তি জানান অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, সদ্য অবসরে যাওয়া বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী সব ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। তিনি সরকারি বাসায় আছেন, সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন। এ অবস্থায় তিনি আইনজীবী হিসেবে মামলায় অংশ নিতে পারেন কি না?
এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, তাঁর (প্রধান বিচারপতি) অনুমতি নিয়েই বিচারপতি নজরুল ইসলাম মামলায় অংশ নিয়েছেন।
সুরেন্দ্র কুমার সিনহা আরও বলেন, জাজেস কমপ্লেক্সের মর্যাদা সবাই রক্ষা করবেন। যাঁরা অবসরে গেছেন এবং যাঁরা বর্তমানে বিচারপতি আছেন, তাঁদের সবার প্রতি এ অনুরোধ থাকল।
পরে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে নজরুল ইসলাম পেপারবুক উপস্থাপন করেন। পেপারবুক উপস্থাপন শেষে আসামি পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন এস এম শাহজাহান।
ওই দিন অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, নৈতিকভাবে নজরুল ইসলাম এ কাজ করতে পারেন না। তিনি সদ্য অবসরে গেছেন এবং এখনো সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। অন্য আইনজীবীরা এ সুবিধা পাচ্ছেন না। এখানে আইন নয়, নৈতিকতার প্রশ্ন জড়িত।
পরে নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তিনি যেন সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার না করেন, সে বিষয়ে প্রধান বিচারপতি তাঁকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। তিনি প্রধান বিচারপতিকে বলেছেন, এ ব্যাপারে তিনি সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। আগেও তিনি কখনো সরকারি বাড়ি ও গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অপব্যবহার হতে দেননি।
এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম বলেছিলেন, অবসরের পর গত ৩ জানুয়ারি থেকে তিনি আপিল বিভাগে মামলা পরিচালনা করছেন। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেল তাঁর প্রতিপক্ষ ছিলেন। এত দিন তিনি কোনো প্রশ্ন তোলেননি। কিন্তু মীর কাসেমের মামলায় আপত্তি তুলেছেন।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি হিসেবে অবসরে যান নজরুল ইসলাম চৌধুরী। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের সূত্র বলেছে, উচ্চ আদালতের বিচারপতিরা অবসরে যাওয়ার পর এক বছর পর্যন্ত সরকারি গাড়ি ও বাসস্থানের সুবিধা পান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন