Inqilab Logo

বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ১৫ আষাঢ় ১৪২৯, ২৮ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

ব্রহ্মপুত্র নদের চর এলাকায় বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে প্রভাবশালীরা

এলাকাবাসী ভয়ে চুপ

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৮ মে, ২০২২, ৬:৩৪ পিএম | আপডেট : ৬:৫৪ পিএম, ২৮ মে, ২০২২

ময়মনসিংহের নান্দাইলে ইজারাবিহীন বালু উত্তোলন করে প্রকাশ্যেই রাখা হচ্ছে স্তূপাকারে। সেখান থেকে ট্রাক্টর ভর্তি করে নিয়ে যাচ্ছে। জানতে পারলে প্রশাসন অভিযান চালায় থেমে থেমে। আর ওই সময় ড্রেজার, ভেকুসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি জব্দও করা হয়। আটক করা হয় বহনকারী যানবাহন ও শ্রমিকদের, কিন্তু থেমে থাকেনি বালু উত্তোলন। যেন চোর-পুলিশ খেলা। দিনের শেষ দিকে শুরু করে রাতভর নদের বুক চিড়ে নিয়ে যাচ্ছে শত শত ট্রাক্টর ভর্তি করে বালু। অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও অনেককে ম্যানেজ করে এই অবৈধ খেলায় মেতে উঠেছেন। এ ঘটনা ঘটছে উপজেলার চরবেতাগৈর ইউনিয়নের চরভেলামারী এলাকায়। প্রভাবশালীদের আশকারা পেয়ে বালু উত্তোলন হচ্ছে। এ অবস্থায় সারা বছরই ব্রহ্মপুত্র নদে চলে ভাঙনের তা-ব। দিনের পর দিন জনবসতি, বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে যাচ্ছে। প্রভাবশালীদের ভয়ে কথা বলতে পারছে না এলাকাবাসী। ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্ব পারে নান্দাইল ও পশ্চিম পারে ত্রিশাল উপজেলা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদের পার পর্যন্ত বিস্তৃত নান্দাইল উপজেলার চরভেলামারী গ্রাম। গ্রামটিকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য নদের পারে রয়েছে বেড়িবাঁধ। বেড়িবাঁধের অনেকটা নিচ থেকে সমতল চর ভেকু দিয়ে কেটে বালু বিক্রি করা হচ্ছে। চরভেলামারী গ্রামের বেশ কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিনের বেলা ট্রাক্টরে করে বালু পরিবহন করা হয়। সন্ধ্যার পর থেকে ড্রাম ট্রাক এই কাজ করে। নদের চরে যাওয়ার সময় কথা হয় ট্রাক্টর চালক সুমনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘স্যার, আমি ভাড়ায় ট্রাক্টর চালাই। ’ কারা আপনাকে ভাড়া করেছে জানতে চাইলে সুমন বলেন, ‘আমার পেডে লাথি দেইন না যে। ঘাট থেকে অনেকটা দূরে তাকিয়ে দেখা যায়, বালুবোঝাই অনেকটি ট্রাক্টর পারের দিকে আসছে। তবে তারা কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি। ইশারা দিলেও তাদের কেউ ট্রাক্টর থামায়নি। এ সময় ছাতা মাথায় এগিয়ে আসেন মো. শমসের আলী (৪৫) নামের এক ব্যক্তি। তিনি চরভেলামারী গ্রামের বাসিন্দা ও নিজেকে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বলে দাবি করেন। শমসের আলী বলেন, ‘ভাই, এসব নিয়ে পত্রিকায় লেখালেখি করার কী দরকার। আমরা কিছু একটা করে খাচ্ছি তাতে আপনাদের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। চাইলে আপনারাও পাবেন। অনেককেই তো ম্যানেজ করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই অঞ্চলের দুটি হত্যা মামলার বেশ কয়েকজন অভিযুক্ত সহ (জামিনে মুক্ত) স্থানীয় সরকার দলীয় নেতা ও পাশের গফরগাঁও উপজেলার বেশ কয়েকজন বালু ব্যবসায়ী এই কর্মের সঙ্গে জড়িত। তাঁরা নাকি সব ম্যানেজ করেই নির্বিঘেœ বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। প্রতিদিন নিজেদের পকেটে ভরছেন লাখ লাখ টাকা। অথচ নেই কোনো ধরনের সরকারি ইজারা। এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবুল মনসুর বলেন, ‘যখন বালু উঠানোর খবর পাওয়া যায় তখনই সেখানে অভিযান চালানো হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ