Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ১৪ আষাঢ় ১৪২৯, ২৭ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ ঠেকাতে বড় বাধা এনআরএ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৯ মে, ২০২২, ১২:০৩ এএম

টেক্সাসের ইউভালডে শহরের রব এলিমেন্টারি স্কুলে নির্বিচারে গুলির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে আবারও আলোচনায় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিতর্ক। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন টেক্সাসের ঘটনার পর জাতির সামনে প্রশ্ন রেখেছেন, ‘আমরা কবে আগ্নেয়াস্ত্রের পক্ষে ওকালতি করা লবির বিরুদ্ধে অবস্থান নেব?’ মঙ্গলবার ১৮ বছর বয়সি এক বন্দুকধারী রব এলিমেন্টারি স্কুলে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালানো শুরু করে, পরে পুলিশের গুলিতে বন্দুকধারী নিজেও নিহত হয়। ঐ ঘটনায় নিহত ২১ জনের মধ্যে ১৯ জনই শিশু। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্কুলে এভাবে সশস্ত্র হামলার ঘটনা এখন মহামারির চেহারা পেয়েছে। নেভাল পোস্টগ্রাজুয়েট স্কুলের সেন্টার ফর হোমল্যান্ড ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটির কে-টুয়েলভ স্কুল শুটিং ডেটাবেইজের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত দেশটির স্কুলগুলোতে ১৩৭টি গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে হামলাকারীরা বয়সে কিশোর বা তরুণ। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, স্কুলে হামলা হলে নিরাপত্তার জন্য কী করতে হবে, সেই প্রশিক্ষণও বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, বিভিন্ন রাজ্যের আইনে সহজেই অস্ত্র কেনার বা সংগ্রহ করার সুযোগ থাকায় বন্দুকবাজি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায়ই বিক্ষোভ, সমাবেশ হয়; ডেমোক্রেটিক পার্টির রাজনীতিবিদরাও এর পক্ষে বক্তব্য দেন নিয়মিত। কিন্তু রিপাবলিকানদের শক্ত বাধার মুখে অস্ত্র বিক্রির ওপর কড়াকড়ি আরোপের সব চেষ্টাই ভেস্তে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকদের আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানা ও বহনের অধিকারের পক্ষে প্রভাবশালী যে সংগঠনটি সবচেয়ে বেশি ওকালতি করে যাচ্ছে, তার নাম এনআরএ। এ সংগঠনের ক্ষমতার উৎসও জানার চেষ্টা করেছে অনেক সংবাদ সংস্থা। তাদের বিভিন্ন তথ্যউপাত্তে বেরিয়ে এসেছে, এর পেছনে যে অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে তা হচ্ছে এনআরএ বা ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন। যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধের দুই সাবেক যোদ্ধা ১৮৭১ সালে শৌখিন শুটারদের নিয়ে এই সংগঠন গড়ে তোলেন। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে রাইফেলের গুলি ছোড়ার কৌশল শেখানো হতো এই ক্লাবে। এনআরএ রাজনৈতিক অঙ্গনে তদবিরের পথে হাঁটতে শুরু করে ১৯৩৪ সালে। ঐ সময় আসন্ন আগ্নেয়াস্ত্র বিলের তথ্য জানাতে সমিতির সদস্যদের চিঠি পাঠানো শুরু করে সংগঠনটি। ১৯৩৪ সালের ন্যাশনাল ফায়ারআর্মস অ্যাক্ট (এনএফএ) এবং ১৯৬৮ সালের গান কন্ট্রোল অ্যাক্ট (জিসিএ) পাশের পক্ষে সমর্থন জানানো হয় এনআরএর পক্ষ থেকে। কিন্তু ১৯৭০-এর দশকে জিসিএ কার্যকরের পর থেকে এ সমিতি আরো বেশি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। সরাসরি সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করতে তদবির চালিয়ে যাওয়ার জন্য ১৯৭৫ সালে তারা ইন্সটিটিউট ফর লেজিসলেটিভ অ্যাকশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। আইনপ্রণেতাদের তহবিল যোগান দিতে ১৯৭৭ সালে নিজেদের পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (পিএসি) গড়ে তোলে এনআরএ। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে শক্তিশালী লবি গোষ্ঠীগুলোর একটি এই এনআরএ। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নীতির বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যদের প্রভাবিত করার জন্য তাদের বিপুল বাজেট রয়েছে। এই লবি গোষ্ঠীর নেতৃত্বে আছেন এনআরএ-এর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েইন লাপিয়ের। এই লবি গোষ্ঠীকে ভেঙে দিতে নিউ ইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসিতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন কৌঁসুলিরা। তাদের অভিযোগ, সমিতির শীর্ষ নেতৃত্ব দাতব্য তহবিলের অপব্যবহার করেছে, তহবিলের অর্থ ব্যক্তিগত বিলাসবহুল জীবনযাপনে ব্যয় করেছে। ঐ মামলাকে একটি ‘ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে এনআরএ। বিবিসি, সিএনবিসি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ ঠেকাতে বড় বাধা এনআরএ
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ