Inqilab Logo

শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯, ১৪ মুহাররম ১৪৪৪

ছাত্রলীগের তাণ্ডবের পশ্চাতে রয়েছে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক মতলব

মোবায়েদুর রহমান | প্রকাশের সময় : ৩১ মে, ২০২২, ১২:০৭ এএম

ছাত্রদলের ওপর গত ২৩ মে থেকে ছাত্রলীগের যে হামলা শুরু হয়েছে এবং যেটি বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে সে সম্পর্কে আজ লিখবো। তবে তার আগে দুই একটি টুকরো খবরের উল্লেখ করবো যেগুলো খবর হিসাবে আয়তনে ক্ষুদ্র হলেও জাতীয় জীবনে যার গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এসব খবরের মধ্য দিয়েই দেখা যাবে, অনিয়ম এবং দুর্নীতি প্রশাসনকে কিভাবে গ্রাস করেছে।

পত্রিকান্তরে কয়েক দিন আগে একটি অবিশ্বাস্য খবর প্রকাশিত হয়েছে। ঐ খবরে দেখা যায়, সরকারের একজন সিনিয়র সচিব সরকারি খরচে নেদারল্যান্ডস এবং স্পেন সফর করে গত শনিবার দেশে ফিরেছেন। অথচ দেশে ফেরার ঠিক পরদিন অর্থাৎ রবিবার তিনি অবসরে চলে গেছেন। যে লোকটি দেশে ফেরার পরদিন রিটায়ারমেন্টে গেলেন তাকে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে বিদেশ ঘুরিয়ে আনা হলো কেন? তিনি তো আর নিজে নিজেই নিজের বিদেশ ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না এবং নিজেই সেই ভ্রমণের খরচ বরাদ্দ করতে পারেন না। এই সিনিয়র সচিবের নাম হলো হেলাল উদ্দিন আহমেদ। তিনি অবসরে যাওয়ার আগের দিন পর্যন্ত স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব ছিলেন। কেন এই রিটায়ারিং অফিসারকে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে বিদেশ পাঠানো হলো সেই জবাব কাউকে না কাউকে দিতে হবে। সেই জবাব দেওয়ার প্রাথমিক দায়িত্ব পড়ে এই সচিবের ইমিডিয়েট বস স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর ওপর। তাকে যে ১০ দিন বিদেশ ঘোরানো হলো তার ফলে সেই সফর সরকার বা দেশের কোন কাজে লাগবে? বলা হয়েছে এটি নাকি শিক্ষা সফর। তিনি যে শিক্ষা নিয়ে আসলেন সেই শিক্ষা সরকারের কোন কাজে দেবে? মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী হেলাল উদ্দিন আহমেদ গত ১১ মে থেকে ২০ মে নেদারল্যান্ডসে ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ এবং স্পেনে গ্লোবাল ওয়াটার সামিটে অংশ নেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ সফর নৈতিকতার ঘাটতি ও দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয়। এই হেলাল উদ্দিন হুদা কমিশন নামক নির্বাচন কমিশনের সচিব ছিলেন। হুদা কমিশন নির্বাচন ব্যবস্থাকে যেভাবে ধ্বংস করেছে, সেখানে এই হেলাল উদ্দিনের অনেক বড় অবদান আছে। নির্বাচন কমিশনকে অকার্যকর ও ফালতু করার পুরস্কার হিসাবে হেলাল উদ্দিনকে চাকরি শেষে নেদারল্যান্ডস এবং স্পেনে প্রমোদ ভ্রমণে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে মাত্র। পর্যবেক্ষক মহলের মতে, এই ধরনের সরকারি অর্থ অপব্যয়ের আরো অনেক নজির রয়েছে।

দ্বিতীয়টি হলো হাজী সেলিমের মাত্র এক রাত জেল খানায় কাটিয়ে পরদিন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া। হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় তার ১০ বছর কারাদন্ড হয়। আসলে তার কারাদন্ড হয়েছিল ১৩ বছর। নিম্ন আদালতের এই রায়ের কিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে আপিল করেন। ঐ আপিলের রায়ে তার সাজা তিন বছর কমিয়ে ১০ বছর করা হয়। আইন মোতাবেক হাইকোর্ট তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলেন। তিনি নিম্ন আদালতে জামিন চেয়ে আত্মসমর্পণ করেন। কিন্তু নিম্ন আদালত তার জামিনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। সন্ধ্যার পর তিনি কারাগারে ঢোকেন। পরদিন সকালে তাকে কারা কর্তৃপক্ষ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেন। সমস্ত আইন বিশেষজ্ঞ বলছেন, হাইকোর্টের রায়ের পর তার আর সংসদ সদস্য পদ থাকার কথা নয়। কিন্তু তিনি সংসদ সদস্য পদের মর্যাদা নিয়ে পিজি হাসপাতালে ভিআইপি কেবিনে বহাল তবিয়তে বসবাস করছেন। হাজী সেলিমের মাত্র ১২ ঘণ্টা কারাবাস এবং অতঃপর ভিআইপি মর্যাদায় পিজি হাসপাতালে বসবাস নতুন কোনো ঘটনা নয়। ইতোপূর্বে একটি নয়, একাধিক ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেছে। শাসক দল আওয়ামী লীগ বা যুবলীগের সাথে সম্পৃক্ত কোনো নেতার কারাদন্ড হলে তাকে বেশি দিন জেল খাটতে হয়নি। জেলে যাওয়ার কয়েক দিন পরেই তারা ভিআইপি মর্যাদা নিয়ে পিজি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং বছরের পর বছর পিজি হাসপাতালেই বহাল তবিয়তে বসবাস করেছেন। যুবলীগের অন্যতম শীর্ষ নেতা সম্রাট কোটি কোটি টাকার ক্যাসিনো কেস এবং মানি লন্ডারিং মামলার আসামী হওয়া সত্বেও বছরের পর বছর ধরে পিজি হাসপাতালে বসবাস করেছেন। এই ধরনের তামাশা শুধুমাত্র হাজী সেলিম বা সম্রাটের ক্ষেত্রেই নয়, আরো অনেকের সাথেই করা হয়েছে। এটি আজকে আমাদের আলোচনার মুখ্য বিষয় নয় বলে অনুরূপ অন্যান্য উদাহরণ আর তুলে ধরলাম না। আমাদের শুধু একটিই প্রশ্ন। সেটি হলো, আদালত, বিচার ব্যবস্থা এবং আইনানুগ শাস্তির বিধান এবং ব্যবস্থাকে কত খেলো করা হচ্ছে। দলের কয়েক জন নেতাকর্মীকে স্পেশাল ফেভার করার জন্য যে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। তার ফলে সমগ্র বিচার ব্যবস্থার ওপরে জনগণের আস্থা উঠে যাচ্ছে। আমরা এখন মূল প্রসঙ্গে ফিরে যাচ্ছি।

॥দুই॥
ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় এবং তার আশে পাশে গত ২৩ তারিখ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত ছাত্রলীগ ছাত্রদল এবং সাধারণ ছাত্রদের ওপর হামলার যে তাণ্ডব চালায় সেটা কিসের ইঙ্গিত বহন করে? দেশের প্রায় প্রত্যেকটি দৈনিক পত্রিকায় এই হামলার শুধুমাত্র খবরই প্রকাশিত হয়নি, বরং যারা হামলা করেছে তাদের ছবি প্রকাশিত হয়েছে এবং সেই সাথে তারা যে দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করেছে সেই অস্ত্র সহ তাদের ছবি প্রকাশিত হয়েছে। অথচ তারপরেও শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের কাউকেই গ্রেফতার করা হয়নি। বরং পুলিশ কয়েক শত অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভাইস চ্যান্সেলর ড. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী এবং সেইসাথে এদেশের অসংখ্য সচেতন জনগণ প্রশ্ন করেছেন, যেসব অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের হামলার যে ভিডিও চিত্র ভাইরাল হয়েছে তাদেরকে অজ্ঞাত কেন বলা হচ্ছে?

আনোয়ার উল্লাহ বলেছেন, এই দেশের লক্ষ লক্ষ পাঠক পত্রিকায় দেখেছেন কার হাতে লাঠি, হকি স্টিক ও রামদা ছিল। তাহলে ৪০০ জনের বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা হিসাবে মামলা দায়ের কেন? তাদের একজনকেও গ্রেফতার না করে ছাত্রদলের ছেলেদেরকে গ্রেফতার করলেন কেন? আরো অবাক ব্যাপার হলো এই যে, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের জরুরী বিভাগ থেকে ছাত্রদলের ছেলেরা যখন মিছিল নিয়ে টিএসসির দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত সাংবাদিক সমিতির অফিসের দিকে রওয়ানা হয় তখন তারা আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরীর ভাষায় ‘সরকারি গুন্ডা দলের’ ভয়ে এতই তটস্থ ছিল যে মিছিল থেকে একটি শ্লোগান পর্যন্তও উচ্চারিত হয়নি। অথচ তারপরেও সেই মিছিলে হামলা করা হলো। তিনি অভিযোগ করেন যে তিনি যখন ঢাকা ইউনিভার্সিটির ভিসি ছিলেন তখন শামসুন্নাহার হলে পুলিশ ঢুকেছিল। সেই কারণে তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। অথচ এখন হরহামেশাই বিশ^বিদ্যালয় চত্বরে পুলিশ ঢুকছে। কই, একজন শিক্ষকও তো পদত্যাগ করছেন না। তিনি অভিযোগ করেন যে, আজ বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বলে কিছু নাই। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের নামে ভোটার নিয়োগ করা হচ্ছে। নিয়োগের সময় দেখা হচ্ছে, তার বাপ দাদাদের মধ্যে কেউ বিএনপি বা জামায়াত করতো কিনা।

ঐ তিনদিন ছাত্রলীগ কী তাণ্ডব করেছে তার বিস্তারিত বর্ণনায় যাবো না। কারণ আপনারা ইতোমধ্যেই সেগুলো পত্রপত্রিকায় পড়েছেন। কারা এই হামলা করেছে সে জন্য পুলিশ নাকি হন্যে হয়ে তাদেরকে খুঁজছে। হন্যে হয়ে খোঁজার দরকার নাই। ২৮ মে শনিবার দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত প্রধান সংবাদটি দেখা যেতে পারে। চার কলাম ব্যাপী সংবাদটির শিরোনাম দেওয়া হয়েছে। শিরোনামটি হলো: ‘ঢাবিতে হামলাকারীরা চিহ্নিত।’ এই সংবাদের সাথে প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত ৫ জন হামলাকারীর পরিচয় দেওয়া হয়েছে ক্যাপশনে। ক্যাপশনে বলা হয়েছে, ‘ঢাবি এলাকায় ছাত্রলীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষের সময় বৃহস্পতিবার ক্যামেরায় ধড়া পড়া (বাঁ থেকে) ঢাবির এসএম হল ছাত্রলীগকর্মী নাজিমুদ্দিন, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি তিলোত্তমা, সাবেক চুয়েট সভাপতি সৈয়দ ইমাম, ছাত্রলীগকর্মী মাহমুদ চৌধুরী ও শহীদুল্লাহ হল সভাপতি শরিফ আহমেদ।’ এই ৫ জনের ছবি আমরা এই কলামে ছেপে দিলাম। একই সাথে ২৮ মে দৈনিক ইনকিলাবের প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত প্রধান সংবাদের সাথে ৫ কলাম ব্যাপী যে ছবি প্রকাশিত হয়েছে সেটিও আপনারা দেখুন। সেই ছবিটিও আমরা এই কলামে ছাপিয়ে দিলাম। ইনকিলাবের ঐ সংবাদটির শিরোনাম হলো, “ছাত্রলীগের হাতে জিম্মি দেশের পাবলিক বিশ^বিদ্যালয় / শিক্ষাঙ্গনে আজব নিয়ম / ভিসি-প্রক্টর-হল প্রভোস্ট ‘নাচের পুতুল’।”

॥তিন॥
ইনকিলাবের ঐ খবরে বলা হয়েছে, ‘গত এক যুগ ধরে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষার্থীরা এখন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে! বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই সংগঠনটির নেতাকর্মীদের ‘নাচের পুতুল’ হয়ে গেছে। তারা যেমনি নাচায় ভিসি, প্রো-ভিসি, প্রক্টর তেমনি নাচেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোন শিক্ষার্থী হলে থাকবে, কে থাকবে না সে সিদ্ধান্ত নেয় ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতারা। কারা ক্যাম্পাসে আসতে পারবে, কারা পারবে না সেটাও যেন হয়ে গেছে ওই সংগঠনের নেতাদের সিদ্ধান্তের বিষয়। এমনকি কোন দাবিতে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি পালন করবেন, কথা বলবেন সেটিও ঠিক করে দেয় ছাত্রলীগ। মনোঃপুত না হলেই শিক্ষার্থী, ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর চালানো হয় হামলা, হলে হলে রাতভর চলে নির্যাতন, শুরু হয় রড, হকিস্টিক, রামদা, লোহার পাইপ, আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশিয় অস্ত্রের ব্যবহার ও মহড়া। ছাত্রসংগঠনগুলোর অভিযোগ, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ক্যাম্পাসগুলো নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ছাত্রলীগ। নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে প্রতিপক্ষ, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ঘটেছে অসংখ্য সংঘর্ষের ঘটনা। এতে আহত হয়েছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, ঘটেছে অঙ্গহানীর মতো ঘটনা, মৃত্যুবরণ করেছে শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিশুও। এ এক আজব কাণ্ড!’

॥চার॥
এ সম্পর্কে আর বিস্তারিত বর্ণনায় যাবো না। তবে পত্রপত্রিকাগুলো এ সম্পর্কে কি বলেছে এবং কি ছবি ছেপেছে তার একটি আইডিয়া দিচ্ছি। শুক্রবার ২৭ মে ইংরেজি ডেইলি স্টারের প্রথম পৃষ্ঠার প্রধান সংবাদের শিরোনাম, BCL POUNCES ON JCD, AGAIN. বাংলা অনুবাদ: ছাত্রদলের ওপর আবার ঝাঁপিয়ে পড়েছে ছাত্রলীগ। সেইসাথে হামলাকারীদের ৪ কলামব্যাপী ছবিও ছেপেছে। ২৬ মে বৃহস্পতিবার ইংরেজি ডেইলি স্টারের সম্পাদকীয় নিবন্ধের শিরোনাম, WHAT GIVES BCL THE RIGHT TO ATTACK ANYONE? / DU MAYHEM PUTS IT AT ODDS WITH PM’S DIRECTIVE. বাংলা অনুবাদ: যে কাউকে আক্রমণের অধিকার ছাত্রলীগকে কে দিল? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাণ্ডব প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরিপন্থী। ২৮ মে ডেইলি স্টারের প্রথম পৃষ্ঠার দ্বিতীয় প্রধান সংবাদের শিরোনাম, AFTER ATTACKS, CASES STALK BNP ACTIVISTS. বাংলা অনুবাদ: ছাত্রলীগের হামলার পর মামলা তাড়া করছে ছাত্রদলকে। ২৭ মে শুক্রবার দৈনিক সমকালের প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত সংবাদের শিরোনাম, আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, গুলি আহত অন্তত ৪৫ / হাইকোর্ট চত্বরেও হামলা / সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক। সেই সাথে ছাপা হয়েছে চার কলাম ব্যাপী হামলাকারীদের ছবি। দৈনিক প্রথম আলোর ২৭ মে শুক্রবার প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠার প্রধান সংবাদের শিরোনাম, সর্বোচ্চ আদালত চত্বরেও হামলা। প্রথম পৃষ্ঠায় আরেকটি ইনসেট আকারে সাব-হেডিং দেওয়া হয়েছে। সেটি হলো, “সহিংসতার উদ্দেশ্যে ছাত্রদল যখনই ক্যাম্পাসে আসবে, তখনই তাদের প্রতিহত করা হবে। লেখক ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।’ সেই সাথে ছাপা হয়েছে হামলাকারীদের ৪ কলাম ব্যাপী ছবি। ২৭ মে শুক্রবার প্রথম আলোর সপ্তম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত দুইটি সংবাদের একটি শিরোনাম, ‘খুলনা ও পটুয়াখালীতে ক্ষমতাসীনদের হামলায় বিএনপির কর্মসূচি পন্ড।’ দ্বিতীয় সংবাদটির শিরোনাম, ‘মানিকগঞ্জে ছাত্রদল ও যুবদল নেতার মাথা ফাটালো ছাত্রলীগ।’ ২৮ মে শনিবার প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে যে, খুলনায় তিনটি স্থানে ছাত্রদলের ওপর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ হামলা করেছে। অথচ মামলা হয়েছে বিএনপির ৯২ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।

প্রিয় পাঠক, এরপর আর ছাত্রলীগের অপকর্মের বর্ণনা দেওয়ার প্রয়োজন নাই। দেশের বোদ্ধা এবং সচেতন মহল ভাবছে, গত ৭ মে প্রধানমন্ত্রী যেখানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে বলেছেন যে, বিরোধী দলকে সভা সমাবেশ ও মিছিল করতে দেওয়া হবে, সেখানে তার মাত্র ১৫ দিন পর ছাত্রদলের ওপর এই হামলা কিসের আলামত? আজ থেকে আর এক বছর ৮ মাস পর দেশের জাতীয় নির্বাচন। তার আগে এই হামলা, যেটা শুধু ঢাকাতেই নয়, সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, সেটার পেছনে অবশ্যই একটি মতলব রয়েছে। কি সেই মতলব? আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা করা যাক। সব জানা যাবে।

Email: [email protected]



 

Show all comments
  • jack ali ৩১ মে, ২০২২, ১১:৩৪ এএম says : 0
    আমরা দেশ স্বাধীন করেছিলাম পাকিস্তান বর্বর হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে স্বাধীনতার পরপরই আরম্ভ হলো হত্যা খুন গুম লুটপাট আর সেই বাহিনী এখন বাংলাদেশে করছে এ কিভাবে মানুষকে হত্যা করছে খুন করছে সম্পদ লুন্ঠন করছে ধর্ষণ করছে আর মুখের মুখের কথায় বলে আমেরিকা-ইউরোপ হয়ে গেছে আমাদের বাংলাদেশে আমরা কি কানা হয়ে গেছি আমরা জানিনা আমেরিকা গুলো কত সুন্দর কত পরিষ্কার তারা নিজেদের নিজেদের সবকিছু তৈরি করে আর আমরা বিদেশ থেকে সবকিছু আমদানি করতে হয় আমাদের দেশটাকে দেখলে মনে হয় একটা ময়লার ভাগাড়
    Total Reply(0) Reply
  • jack ali ৩১ মে, ২০২২, ১১:৩৭ এএম says : 0
    পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত কারো ক্ষমতায় চিরস্থায়ী হয় নাই আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা তাদের ক্ষমতা ও শেষ হয়ে যাবে তখন তারা কোথায় যাবে বাংলার জনগণ তাদেরকে গোশত ছিড়ে ছিড়ে ফেলবে যেমন অতীতে যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে তাদের সরকার লোহার চিরুনি দিয়ে শরীর থেকে গোশত সব ছিড়ে ফেলত সেই ভাবেই আমরা করবো ইনশাআল্লাহ
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন