Inqilab Logo

শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯, ১৩ মুহাররম ১৪৪৪
শিরোনাম

বায়ুদূষণ রোধে হচ্ছে বিধিমালা : সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩ জুন, ২০২২, ১২:০৪ এএম

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছেন, শিল্প-কারখানার বর্জ্য পরিশোধন কেন্দ্র বা ইটিপি (ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) অনলাইন ব্যবস্থাপনার আওতায় আসছে। এ ছাড়া বায়ুদূষণ রোধে একটি বিধিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গতকাল তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলা উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ জুন বেলা ১১টায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন। একই সঙ্গে ৫ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত পরিবেশ মেলা ও ৫ জুন থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলা উদ্বোধন করবেন।

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘অনলি অন আর্থ: লিভিং সাসটেইনেবিলিটি ইন হারমনি উইথ ন্যাচারৎ, এর ভাবানুবাদ, ‘একটাই পৃথিবী: প্রকৃতির ঐকতানে টেকসই জীবন।’ জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘বৃক্ষ-প্রাণে প্রকৃতি প্রতিবেশ, আগামী প্রজন্মের টেকসই বাংলাদেশ।’

সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন সচিব ফারহিনা আহমেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, শিল্প-কারখানাগুলো ইটিপি স্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু কোনো কোনো শিল্প-কারখানা ইটিপি স্থাপন করলেও সেগুলো চালু রাখেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। ইটিপি অনলাইনের আওতায় আসলে সেগুলো চলছে না বন্ধ আছে তা সরকার দূর থেকেই জানতে পারবে।

প্রায় প্রতি বছর ঢাকার বাতাস দূষণের শীর্ষে থাকছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শাহাব উদ্দিন বলেন, আমাদের দেশ ভারত, পাকিস্তানসহ এই উপমহাদেশের বায়ু দূষিত হয়। দেখা যায়, কখনো বাংলাদেশ এক নম্বরে, কখনো দিল্লি, আবার কখনো পাকিস্তানের করাচি এক নম্বরে থাকে। আমরা এরই মধ্যে বায়ু দূষণ রোধ করতে একটি বিধিমালা করতে যাচ্ছি। এটি আগামী সংসদে পাস হলে বায়ু দূষণ রোধ করতে সরকারের যা করণীয় তাতে হাত দেবো। আমরা এরই মধ্যে সেই কাজ করে যাচ্ছি।

বিধিমালায় কী থাকছে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমাদের পরিবেশ আইন আছে, সেটার সঙ্গে আমরা পরিবেশ দূষণ মুক্ত করতে একটি বিধিমালা প্রণয়ন করবো। এছাড়া বায়ু দূষণ হচ্ছে যেসব কারণে সেগুলো বন্ধ করতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত থাকবে বিধিমালায়।

তিনি বলেন, বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পরিমাপ যন্ত্র আমরা বসিয়েছি। এতে আমরা জানতে পারছি যে কী পরিমাণে কোথায় দূষণ হচ্ছে। আপনারা জানেন যে আমাদের উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। এই কাজের জন্য কিছু বায়ু দূষণ হয়। গাড়ির কালো ধোঁয়া, ইন্ডাস্ট্রি ও ইট ভাটাগুলো বায়ু দূষণের জন্য দায়ী। ইট ভাটাগুলোকে আমরা এরই মধ্যে নিয়ন্ত্রণে এনেছি। আমরা ২০২৫ সালে বøক ইটে চলে যাবো। এতে দূষণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

মন্ত্রী বলেন, গাড়ির কালো ধোঁয়ার বিষয়ে আমাদের পরিবেশ অধিদপ্তরের আওতায় একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর অধীনে আমরা কালো ধোঁয়া পরিমাপ যন্ত্র বসিয়ে সেটাকে মাপা হবে। এটার তথ্য সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হবে, যেন সেই গাড়ি আর ফিটনেস না পায়। এ ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।

শাহাব উদ্দিন বলেন, আমরা গাড়ি ও কারখানার কালো ধোঁয়া, ইটের কালো ধোঁয়া, উন্নয়নের কারণে দূষণ এবং ইন্ডাস্ট্রিগুলো যে দূষণ করছে এর পুরোটাকেই আমরা ইটিপির আওতায় নিয়ে আসবো এবং অনলাইনে নিয়ে আসবো। যেন অফিসে বসেই দেখা যায় এই ইটিপিগুলো চালাচ্ছে কিনা।

তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদফতর বিভিন্নমুখী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। ইটভাটা সৃষ্ট দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি জমির উর্বর মাটি রক্ষার লক্ষ্যে সরকার ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯)’ জারি করেছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে গত ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত ১ হাজার ৫১৬টি অভিযান পরিচালনা করে ২ হাজার ৫৯৪টি ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮২৮টি অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ বা কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে এবং ৬২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমের অধীন পরিবেশ অধিদপ্তর জলাশয় ভরাট, পাহাড় বা টিলা কর্তন, কৃষি জমির ক্ষতি, নদীর পানি দূষণ, বায়ুদূষণসহ পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার ক্ষয়-ক্ষতির জন্য দূষণকারী নয় হাজার ৪১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে থেকে ২২৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে।
জাতীয় জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনা ও মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যান প্রণয়য়ের কাজ চ‚ড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান পরিবেশমন্ত্রী।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পরিবেশমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ