Inqilab Logo

বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ০২ ভাদ্র ১৪২৯, ১৮ মুহাররম ১৪৪৪

সরকার প্রতি মুহূর্তে ক্ষমতা চলে যাওয়ার দুঃস্বপ্ন দেখছে

আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে তিন দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৮ জুন, ২০২২, ১২:০১ এএম

সরকার প্রতি মুহূর্তে ক্ষমতা চলে যাওয়ার দুঃস্বপ্ন দেখছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিমুহূর্তে দুঃস্বপ্ন দেখছে যে, তাদের ক্ষমতা চলে যাচ্ছে।সেজন্য তারা নানা মিথ্যাচার করছে। গতকাল মঙ্গলবার গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। গত ৬ জুন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির সভায় সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডে ও বিস্ফোরণের ঘটনায় অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে দূর্ঘটনার মূল কারণ উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা এবং আহতদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপুরনের দাবিও জানানো হয় বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।

সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণ ঘটনায় সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করে মির্জা ফখরুল বলেন, ডিপোতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার জন্য সরকারের অবহেলা, সমন্বয়হীনতা ও অযোগ্যতা দায়ী। সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি, অযোগ্যতা, জবাবদিহিহীনতার কারণেই এতোগুলো প্রাণ চলে গেলো এবং সামগ্রিক ক্ষতি হলো। কনটেইনার ডিপোর কিছু রুলস-রেগুলেশন আছে, সরকারের কনট্রোলিং অথোরিটি আছে যারা এসব নিয়ন্ত্রণ করবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এগুলো কেউ মনিটরিং করে না। যাদের দায়িত্ব আছে সমন্বয় করা, ঠিক মতো নিয়ম-নীতি মানা হচ্ছে কিনা সেগুলো দেখা। কিন্তু তারা সেটি করছে না দেখেই এসব দুর্ঘটনা ঘটছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজ করছে না। এটা একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। কেউ কারো কাছে জবাবদিহি তো নেই, তাই যার যা ইচ্ছা করে চলেছে।
বিএম কনটেইনার ডিপোর লাইসেন্স নবায়ন না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আসলে হত্যার অভিযোগ নিয়ে আসা উচিত তাদের বিরুদ্ধে, দেশের মানুষ চায় যে, হত্যার অভিযোগ তাদের ট্রায়াল হওয়া উচিত। বিস্ফোরণে নিহতের পরিবার ও অগ্নিদগ্ধ আহতের পাশে দাড়ানোর জন্য দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে সাবেক প্রেসিডেন্ট আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের লেখা একটি বইকে উদ্ধৃত করে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে উদ্দেশ্যে প্রণোতিতভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যাচার ছড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পুত্র এবং তার আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, প্রেসিডেন্ট আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ‘অ্যাট বঙ্গভবন: লাস্ট ফেজ’ নামে ইংরেজীতে লেখা বইটির কোথাও ‘অস্ত্রের মুখে জিয়া প্রেসিডেন্ট আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিলেন’ এমন কথা উল্লেখ নেই। অথচ একরম মিথ্যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং কিছু গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পুত্রসহ আওয়ামী লীগের অনেকেই। আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম এএফপি বিষয়টির ফ্যাক্ট চেক করে সোমবার একটি অনুসন্ধানি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সেখানে তথ্যপ্রমাণসহ উঠে এসেছে যে, শহীদ জিয়াকে নিয়ে খবর প্রকাশের বিষয়টি ছিলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার আর ইতিহাস বিকৃতির প্রচেষ্টা। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে তার উত্তরসূরি জিয়াউর রহমান জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করেছিলেন এমন একটি তথ্য বিকৃত করে অবাধে ফেসবুকে ছড়ানো হয়। মূল ইংরেজী বইতে জিয়া সম্পর্কে এরকম কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়টি সাজানো বলে তথ্য পেয়েছে এএফপি। বইটির বাংলা অনুবাদক নিজেও এএফপিকে জানিয়েছে ফেসবুকে এনিয়ে যা ছড়ানো হয়েছে তা বিভ্রান্তিকর।

অধিকারের নিবন্ধন বাতিলের নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, স্থায়ী কমিটি মনে করে সরকারের এই পদক্ষেপ মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোগকে ব্যাহত করবে। সরকারের মানবাধিকারের লংঘনের প্রবনতাও বৃদ্ধি পাবে। গুম, বেআইনীভাবে আটক, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা আরও বৃদ্ধি পাবে। অবিলম্বে অধিকারের নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

তিন দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা: গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে তিনদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কর্মসূচির মধ্যে আছে ৯ জুন ঢাকাসহ সকল মহানগরে এবং ১১ জুন জেলা সদরে বিক্ষোভ এবং ১৩ জুন উপজেলা পর্যায়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি। মির্জা ফখরুল বলেন, গ্যাসসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং মূল্য হ্রাসের দাবি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। দলের সকল অঙ্গসংগঠনসমূহও এই কর্মসূচি পালন করবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মির্জা ফখরুল


আরও
আরও পড়ুন