Inqilab Logo

বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ০২ ভাদ্র ১৪২৯, ১৮ মুহাররম ১৪৪৪
শিরোনাম

বিনিয়োগকারীরা মুক্তি পাচ্ছেন হাতাশা থেকে

বিএসইসি’র উদ্যোগ : ওটিসি কোম্পানি মূল মার্কেটে অর্থনীতিতে পুঁজিবাজারের অবদান ও কর্মসংস্থান বাড়বে : বিএসইসির চেয়ারম্যান

হাসান সোহেল | প্রকাশের সময় : ৮ জুন, ২০২২, ১২:০০ এএম

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির নিয়মনীতি পালন না করা প্রতিষ্ঠানকে মূল বাজার থেকে সরিয়ে ২০০৯ সালে গঠন করা হয়- ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি মার্কেট। কোম্পানি তালিকাভুক্তির পর নানামুখী সমস্যা তথাÑ উৎপাদনে না থাকা, নিয়মিতবার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না করা, কাগজের শেয়ার রাখা, নিয়ম অনুযায়ী বিএসইসিতে আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দেয়া, লভ্যাংশ প্রদান ও সিকিউরিটিজ আইন পরিপালন না করার দুর্বলতা থাকায় মূল মার্কেট থেকে ৬৪ প্রতিষ্ঠানকে সরিয়ে নেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রায় সাড়ে ১২ বছর পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতে তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে ওটিসি কোম্পানিকে পুনর্জ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান কমিশন। এরই মধ্যে ৮টি কোম্পানি মূল মার্কেটে ফিরেছে। এর মধ্যে ৪টি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মনোস্পুল পেপার ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড, মুন্নু ফেব্রিক্স লিমিটেড, বিডি তমিজুদ্দিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড এবং পেপার প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড মূল মার্কেটে ফিরে সকল নিয়মকানুন মেনে বার্ষিক সাধারণ সভাসহ বিনিয়োগকারীদের জন্য ভালো লভ্যাংশও ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি অনেকে আবেদন করেছে কোম্পানি বন্ধ করার জন্য। স্বাভাবিক মাকের্টে ফেরার এই সুযোগ নিতে চায় ওটিসি মার্কেটের প্রায় অর্ধেক প্রতিষ্ঠান। যা পুঁজিবাজারের জন্য ও ওইসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকরাদের জন্য সুখবর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া ওইসব কোম্পানির যে সম্পদ আছে তা থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যাতে তাদের পাওনা পান সে ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে আল-আমিন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, পারফিউম কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডসহ যেসব প্রতিষ্ঠানগুলোর এখনো সম্পদ রয়েছে তা বিক্রি করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পাওনা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। কমিশন আশা করছে, এর মাধ্যমে ৫০ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারী তাদের দীর্ঘদিনের পাওনা ফেরত পাবে। আর এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা মুক্তি পাবেন বলে মন্তব্য করেছেন, বিএসইসির চেয়ারম্যান প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। তার মতে, পুনঃতালিকাভুক্তির অনুমতির ফলে হারিয়ে যাওয়া কোম্পানিগুলো আবার অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবে।

বিএসইসি সূত্র মতে, এক সময়ে আইপিও’র মাধ্যমে বাজারে আসা প্রায় ৬৮টি প্রতিষ্ঠান তদারকির অভাবে ওটিসি মার্কেটে চলে যায়। প্রতিষ্ঠানগুলো এক রকম হারিয়ে যাচ্ছিল। বিনিয়োগকারীরা তাদের মূলধন ফিরে পাবার আশাও ছেড়ে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে না পারায় ২০০৯ সালে তাদের ওটিসি মার্কেটে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু এদের জমি, যন্ত্রপাতিসহ মূল্যবান জিনিসপত্রাদি অপচয় হচ্ছিল। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান ব্যাংকের সঙ্গে যোগসাজশ করে বেশি টাকার জমি কম টাকায় বিক্রি করে নিজেরা লাভবান হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা কিছুই পায়নি। আর তাই ওটিসি মার্কেটে থাকা কোম্পানিগুলোকে মূল মার্কেটে ফিরিয়ে আনতে দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নতুনভাবে চালু করা হচ্ছে। সফল ব্যবসায়ীরা এর হাল ধরছেন। এর মাধ্যমে কয়েক হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিনের হতাশা থেকে মুক্তি পাবে এবং পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়বে।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের প্রথমদিকে মূল মার্কেটে ফিরে তমিজুদ্দিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, মুন্নু ফেব্রিক্স লিমিটেড, বাংলাদেশ মনোস্পুল পেপার ও পেপার প্রসেসিং নামের চার কোম্পানি। এর আগে কোম্পানির সুশাসনে উন্নতি করায় ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, ওয়াটা ক্যমিকেল, সোনালি পেপার ও আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ মূল মার্কেটে ফিরে। এদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, তারা ওটিসি মার্কেট রাখবেন না। এ বাজারে এখনও ৫৮টি কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি যাচ্ছে স্বল্প মূলধনি কোম্পানি জন্য তৈরি করা বোর্ডে (এসএমই বোর্ড)। ৩০টি কোম্পানি যাচ্ছেÑ অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবিতে)। বিভিন্ন ধরনের বন্ড, অতালিকাভুক্ত কোম্পানির সিকিউরিটিজ ও বেমেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেনের জন্য এটি তৈরি করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

ওটিসি মার্কেট থেকে মূল মার্কেটে ফেরা মুন্নু ফেব্রিক্স লিমিটেডের কোম্পানি সেক্রেটারি বিনায়ক পাল ইনকিলাবকে বলেন, পুঁজিবাজারের সকল নিয়ম মেনে আমরা আবার কার্যক্রম শুরু করেছি। বাজারে এখন ভালো অবস্থায় আছি। চলতি বছর এরই মধ্যে মিড টার্ম লভ্যাংশও প্রদান করেছি।
বিএসইসি’র চেয়ারম্যান প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেছেন, এসব কোম্পানিগুলো আইপিও’র মাধ্যমে আমাদের ক্যাপিটাল মার্কেটে এসেছিল। তাতে জনগণের বিনিয়োগ এবং নিজস্ব ইক্যুইটি সবই ছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে এবং তদারকির অভাবে এই প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের ওটিসি মার্কেটে চলে যায়। সেখান থেকে আস্তে আস্তে তারা হারিয়ে যায়। কিন্তু তার যন্ত্রপাতি, জমিসহ মূল্যবান সবকিছু অপচয়ের দিকে চলে যাচ্ছিল। কমিশন চেষ্টা করছে সেগুলোকে পুনর্জ্জীবিত করতে। এজন্য দক্ষ হাতে বা দক্ষ ব্যবস্থপনার হাতে দিয়ে পুনর্জ্জীবিত করার চেষ্টা করছে। এ রকম প্রায় ৬০-৬৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০-১৫টিকে মূল মার্কেটে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বাকিগুলো হয়ে গেলে এ খাতে কয়েক হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। এর ফলে তাদের (কোম্পানির) যেসব বিনিয়োগ, যন্ত্রপাতি ও সম্পদ রয়েছে তা’ রক্ষা পাবে। এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগকারী গত ১০, ২০, ৩০ বছর থেকে আটকে ছিল, তারা সবাই মুক্তি পাবে এবং এসব কোম্পানি যখন বাজারে আসবে, তখন বাজারে আরও ডেপথ বাড়বে।

তিন বলেন, সব থেকে বড় কথা হচ্ছে- যারা আগে ছিল (কোম্পানির মালিক) তারাই হয়তো চালাবে। কিন্তু এখন যারা আসছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা নতুন, অভিজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আশা করছি, এসব বড় বড় সফল্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আন্ডারে (তত্ত্বাবধানে) এ ছোট ছোট বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো চালু হয়ে মর্যাদার সঙ্গে বেটার ম্যানেজড হয়ে অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: শেয়ারবাজার


আরও
আরও পড়ুন