Inqilab Logo

সোমবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১০ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী
শিরোনাম

আন্তর্জাতিক মানে উন্নিত হচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দর

কক্সবাজার বাসীর জন্য খুশির খবর

শামসুল হক শারেক | প্রকাশের সময় : ৮ জুন, ২০২২, ৪:৩৪ পিএম

সমুদ্রে ১হাজার ৭শত ফুট রানওয়ে নির্মাণসহ এগিয়ে চলছে সম্প্রসারণ কাজ।

আগামী বছর ডিসেম্বরে (২০২৩) শেষ হবে উন্নয়ন প্রকল্প।
দেশি-বিদেশি সরাসরি ফ্লাইট সংখ্যার পাশাপাশি বাড়বে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতাও।
ব্যাপক প্রভাব পড়বে পর্যটন শিল্পে।
আরো বাড়বে কক্সবাজারে দেশি-বিদেশি পর্যটকের আনাগোনা।

আরো বেশি পর্যটক আকর্ষণে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নিত করার কাজ এগিয়ে চলছে। এলক্ষে প্রায় ১১ হাজার ফুট রানওয়ে নিয়ে দেশের ৪র্থ বৃহত্তর বিমানবন্দর হতে যাচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দর। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিরামহীন এগিয়ে চলছে টার্মিনাল নির্মাণসহ

রানওয়ে সমপ্রসারণ উন্নয়ন কাজ। আগামী ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে উন্নয়ন কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করে আরো বেশি দেশী-বিদেশী পর্যটক আসবে কক্সবাজারে। সারা বছর চাঙ্গা থাকবে হোটেল মোটেলসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা খাত। এলক্ষে গত ২০২১ সালের ২৯ আগষ্ট ভার্চুয়ালী কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগ সরকার ৭০ টির মত মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে কক্সবাজারে। সরকারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নিত করা। এলক্ষ বাস্তবায়নে সমুদ্রের উপর এক হাজার ৭০০ ফুট রানওয়ে সম্প্রসারণ করে ৯ হাজার ফুট থেকে ১০ হাজার ৭০০ শত ফুটে উন্নিত করা হচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ে। এই পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে সরকার এ প্রকল্পে বরাদ্দ দিয়েছে এক হাজার ৫৬৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়নে
সিভিল অ্যাভিয়েশন বাংলাদেশ এর পক্ষে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রজেক্ট ডাইরেক্টর মোহাম্মদ ইউনুচ এ প্রসঙ্গে বলেন, সরকার কক্সবাজার বিমানবন্দরকে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নিত করার যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তার কাজ বিরামহীনভাবে এগিয়ে চলছে। এপর্যন্ত ১৭ ভাগ কাজের অগ্রগতির কথা জানিয়ে আগামী ২০২৩ সালের ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্পের কাজ শেষ হতে পারে বলে জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার বিমানবন্দর ম্যানেজার মুর্তজা হুসাইন বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দর অচিরেই একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত হতে যাচ্ছে। এটি গোটা দেশের জন্য বটেই কক্সবাজার বাসীর জন্য একটি খুশির খবর। এখন টার্মিনাল নির্মাণসহ সাগরে ১হাজার ৭০০ ফুট রানওয়ে সম্প্রসারণ কাজ এগিয়ে চলছে। তিনি আরো বলেন এখন বিমানবন্দর অনেকটা সিকিওর। চারপাশে বিমানবন্দরের বাউন্ডারি ওয়াল সংস্কার করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, বিমানবন্দরের ৯শত ৮২ একর ভূমির প্রায় ২শত একর ভূমি এখনো কর্তৃপক্ষের বেদখল রয়েছে। তবে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের লক্ষে আরো ৬ শত ৮২ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই এলাকার অধিবাসীদের পর্শ্ববর্তী খুরুস্কুল শেখ হাসিনা আশ্রায়ন প্রকল্পে স্থানান্তর করা হয়েছে।

জানা গেছে, দুই পর্যায়ে এই সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া সম্পাদনের মাধ্যমে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে একটি আধুনিক সুযোগ সুবিধা প্রদানে সক্ষম বিমানবন্দর হিসাবে রূপান্তর করা হবে। এতে করে সুপরিসর বিমান গুলোকে উড্ডয়ন-অবতরণ ও পার্কিং এর জন্য ভাল সুবিধা প্রদান করতে পারবে।

এখন প্রতিদিন কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ ইয়ার লাইন্সসহ বিভিন্ন কোম্পানির অর্ধশত ফ্লাইট উঠানামা করছে। রানওয়ে সম্প্রসারণ হলে দিন-রাত এই বিমানবন্দরে বিশ্বের সবচেয়ে সুপরিসর উড়োজাহাজ বোয়িং ৭৭৭ ও বোয়িং ৭৪৭ এর মডেলের যাত্রী বোঝাই বিমানও এই বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারবে। এছাড়া এখানে রিফুয়েলিংয়ের ব্যবস্থাও থাকবে। সব মিলিয়ে এই বিমানবন্দরে দেশি-বিদেশি সরাসরি ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে এবং কক্সবাজারে দেশি-বিদেশি পর্যটকের আনাগোনা আরো বাড়বে।
দেশে এই প্রথমবারের মত সমুদ্রবক্ষের ওপর নির্মিতব্য ১ হাজার ৭০০ ফুট রানওয়েসহ কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫৬৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। যার পুরোটাই অর্থায়ন করছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। রানওয়ের অন্তত ৭০০ ফুট থাকছে উত্তর দিকে সমুদ্রের পানির ওপর। চীনের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চাংজিয়াং ইচাং ওয়াটার ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো (সিওয়াইডব্লিউসিবি) ও চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন-জেভি যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এই পুরো কার্যক্রমের জন্য বাংলাদেশ সরকার চীনের সাথে ১ হাজার ৬০০ কোটি বাংলাদেশি টাকার ঋণ চুক্তি সই করেছে বলেও জানা গেছে।

বর্তমানে বিমানবন্দরের ৬হাজার ৭৯০ ফুট দৈর্ঘ্য রানওয়ে থেকে বাড়িয়ে এটিকে ১০হাজার ৭০০ ফুটে এবং ১৫০ প্রস্থ থেকে বাড়িয়ে ২০০ ফুটে উন্নীত করা হবে। সুপরিসর বিমানের জন্য রানওয়ের ধারণক্ষমতাও বাড়ানো হবে। এর সাথে রানওয়ের লাইটিং ফ্যাসিলিটিজ ও নেভিগেশন এইড বাড়ানো হবে। দূরত্ব পরিমাপক সরঞ্জাম, ডপলার ওমনি ডিরেকশন রেঞ্জ, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা হালনাগাদ করা হবে। যান্ত্রিক অবতরণ ব্যবস্থা ও স্বয়ংক্রিয় মেট্রোলজিক্যাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

এপ্রসঙ্গে কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নিত করা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত প্রকল্প। বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মানে উন্নিত হলে দেশী-বিদেশী পর্যটক বাড়বে। ব্যাপক প্রভাব পড়বে কক্সবাজার এর পর্যটন শিল্পে। আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট, কক্সবাজারের সাথে রেল যোগাযোগসহ কক্সবাজারে বাস্তবায়নাধীন মেগা প্রকল্পগুলো সমাপ্ত হলে কক্সবাজার একটি আন্তর্জাতিক শহরে পরিণত হবে।

গত বছর ২৯ আগষ্ট সকাল সাড়ে ১০ টায় রানওয়ে সম্প্রসারণ কাজের ভার্চুয়ালী উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই অনুষ্ঠানে ঢাকার প্রান্তে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কক্সবাজার বিমানবন্দর প্রান্তে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুব আলী, সচিব মোঃ মোকাম্মেল হোসেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ কামরুল হাসান এনডিসি, বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম. মফিদুর রহমান, কক্সবাজারের সংসদ সদস্যবৃন্দ যথাক্রমে-সাইমুম সরওয়ার কমল, জাফর আলম, আশেক উল্লাহ রফিক, শাহীন আকতার চৌধুরী, কানিজ ফাতেমা আহমদ উপস্থিত ছিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার বিমানবন্দর


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ