Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯, ১০ মুহাররম ১৪৪৪ হিজরী

ঢাবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৯ জুন, ২০২২, ১২:০০ এএম

সম্প্রতি ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপির মুখপাত্র নূপুর শর্মা এক টেলিভিশন বিতর্কে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এর জেরে পুরো মুসলিম বিশ্বে নিন্দার ঝড় উঠেছে। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিন্দার দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই মানববন্ধন করেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আনাস ইবনে মুনীরের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী সৈয়দ মেসবাহ, মোসাদ্দিকা আফরিন দোলা, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আকরাম হোসেন, হাসিব আল ইসলাম, আইন বিভাগের সাখাওয়াত জাকারিয়া প্রমুখ।

মোসাদ্দেকা আফরিন দোলা বলেন, ভারতে বিজেপি নেতা রাসুল সা. এবং আয়েশা রা. কে নিয়ে কটূক্তি করেছে। মুসলিম রাষ্ট্রগুলো এই কটূক্তির রাষ্ট্রীয়ভাবে নিন্দা জানিয়েছে কিন্তু আমাদের সরকার এখনও কোনো প্রতিবাদ বা নিন্দা জানায়নি। আমরা বিভিন্ন সময় দেখেছি ভারত হিন্দু এবং মুসলমানদের মধ্যে বিভিন্ন মন্তব্য করে অসাম্প্রদায়িকতার বন্ধন নিশ্চিহ্ন করতে চায়। আমরা চাই এ ধরনের মন্তব্য যেন আর না হয়। হযরত মুহাম্মদ সা. মুসলিম এবং মুসলিম রাষ্ট্রে একজন ভালোবাসার স্থান। তাকে নিয়ে কেউ কটূক্তি করে সেটি একজন মুসলমান হিসেবে আমরা মেনে নেব না।

আবু হুজাইফা জাবেদ বলেন, হিন্দু ও মুসলমানদের মাঝে যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে তা নষ্ট করার এটি একটি অপচেষ্টা। আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাই অতি দ্রুত রাষ্ট্রীয়ভাবে এর নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি দেয়া হোক।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদ বলেন, আমরা দেখতে পাই ভারতের বিজেপির ওই নেতার বক্তব্যে হযরত মুহাম্মদ (স.) কে নিয়ে কটূক্তির ফলে আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো যেভাবে ভারতের পণ্য বয়কটসহ নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে আমাদের দেশ থেকেও সরকারিভাবে প্রিয় নবীকে কটূক্তির কারণে এরকম পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

আকরাম হোসেন বলেন, ভারতে বিভিন্ন সময়ে মুসলিম বিদ্বেষ হয়, বিষয়টা কিন্তু শুধু তা নয়, বরং বাংলাদেশেও বিভিন্ন সময় হিজাব পরার কারণে কটূক্তির শিকার হতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব, পাঞ্জাবি পরার কারণে বিভিন্ন সময়ে মুসলিম শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের যে কোনো জায়গায় হওয়া মুসলিম বিদ্বেষের বিপক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্র্থীরা অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ভারতে বিভিন্ন সময়ে আমরা দেখেছি মুসলিম নির্যাতন হয়, এনআরসি, সিএএ কর্তক মুসলমানদের নাগরিকত্বহীন করে দেয়া, মুসলমানদের রাষ্ট্রহীন করার এক চক্রান্ত চলছে এই বিজেপি সরকারের মাধ্যমে। তারই একটি অংশ ছিল রাসূল (সা.)-কে অবমাননা। আমরা ভারতের মুসলমানদের পক্ষে আছি এবং বিশ্বের মুসলিম দেশগুলো যেভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে সেভাবেই আমাদের দেশের পক্ষ থেকে সরকারকে পদক্ষেপ গ্রহণ করার বিনীত অনুরোধ করছি।

এদিকে বিশ্বনবী (সা.) কে অপমান করে ভারতের বিজেপি সরকার ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ। গতকাল সংগঠনটির সভাপতি নূরুল করীম আকরাম ও সেক্রেটারি জেনারেল শেখ মুহাম্মাদ আল-আমিনের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতের মুসলিম জনতা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানালে বিজেপি সরকার নগ্ন হস্তক্ষেপ গ্রহণ করে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

নেতৃদ্বয় বলেন, মুসলমানদের কাছে প্রিয়নবীর সম্মান নিজের জীবনের চেয়েও মূল্যবান। যা ঈমানের সাথে সরাসরি জড়িত। আরব বিশ্ব ইতোমধ্যে এর প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে। ভারতীয় পণ্য বয়কটের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তাঁরা। এটা প্রিয়নবীর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
আল্লাহর নবী সম্পর্কে কটূক্তি ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য মূর্খতা এবং তূলনামুলক ধর্মতত্ত্ব সম্পর্কে অজ্ঞতার প্রমাণ। দোষী ব্যক্তিদের শুধু দলীয় পদ স্থগিত নয়; বরং তাদেরকে যথাযথ শাস্তির আওতায় আনা এবং প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান নেতৃদ্বয়।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় চলমান সংসদ অধিবেশনে ও ভারতীয় হাইকমিশনকে ডেকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্বনবীর সম্মান রক্ষার্থে ইসলাম ও মুসলমানদের পক্ষে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতে আহ্বান জানান।#



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ঢাবি


আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ