Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট ২০২২, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯, ১২ মুহাররম ১৪৪৪
শিরোনাম

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগ

২০২১ সালে ক্যাপিটলে তাণ্ডব

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১১ জুন, ২০২২, ১২:০৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন গণতন্ত্রের প্রতীক ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল ভবনে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে হামলা ও সহিংসতার মাধ্যমে দাঙ্গা সৃষ্টি করে তিনি অভ্যুত্থান চেষ্টা করেছিলেন বলে দেশটির কংগ্রেসের শুনানিতে অভিযোগ আনা হয়। কমিটির রিপাবলিকান দলীয় ভাইস চেয়ারম্যান লিজ চেনি বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই হামলার ঘটনায় ‘আগুনে ঘি ঢেলেছিলেন’। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট দলীয় সদস্য বেনি থম্পসন বলেছেন, ওই দাঙ্গা আমেরিকার গণতন্ত্রকে সংকটাপন্ন করে তুলেছিল।
২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ওই হামলা চালিয়েছিল ট্রাম্প সমর্থকরা। তখন কংগ্রেস সদস্যরা প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জয়কে আনুষ্ঠানিক করার প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছিলেন। প্রায় এক বছর তদন্তের পর ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদের সিলেক্ট কমিটি স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কার্যক্রম শুরু করে। শুরুতেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ যারা ছিলেন তাদের সাক্ষাৎকারের ভিডিও ক্লিপ দেখানো হয় সেখানে। কমিটির সামনে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল বিল বার যে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাতে তিনি বলেছেন, নির্বাচনে কারচুপির যে অভিযোগ ট্রাম্প করেছিলেন, তা ভিত্তিহীন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা এমন বিশ্বে বাস করতে পারি না যেখানে ক্ষমতায় থাকা প্রশাসন তাদের মতের ভিত্তিতেই ক্ষমতায় থাকবে, যার সমর্থনে কোনো প্রমাণাদি নেই যে নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে।’
শুনানিতে ট্রাম্পের কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্পের সাক্ষ্যও দেখানো হয়। সেখানে তিনিও তার বাবার ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ সম্পর্কে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল বারের মতামত গ্রহণ করে নেন। তবে বৃহস্পতিবার এ শুনানি শুরুর আগে ট্রাম্প একে ‘রাজনৈতিক ভাঁওতাবাজি’ আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সাবেক এই প্রেসিডেন্ট ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন রাজনৈতিক মহলে। একই সাথে তিনি গত নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অসমর্থিত দাবি করেই যাচ্ছেন। মিসিসিপির আইনপ্রণেতা ও কমিটির চেয়ারম্যান বেনি থম্পসন শুনানিতে বলেছেন, ‘৬ জানুয়ারি ছিল একটি অভ্যুত্থানের সর্বোচ্চ চেষ্টা। সরকার উৎখাতের একটি নির্লজ্জ চেষ্টা। সহিংসতা কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। এটা ছিল ট্রাম্পের শেষ চেষ্টা।’
লিজ চেনি বলেন, ‘যারা ক্যাপিটল হিলে আগ্রাসন চালিয়েছিল ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে লড়াই করেছিল, তারা ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কর্তৃক অনুপ্রাণিত। তাদেরকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন যে নির্বাচনে চুরি হয়েছে এবং তিনিই বৈধ প্রেসিডেন্ট। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হাঙ্গামাকারীদের ডেকেছেন, জমায়েত করেছেন এবং হামলায় আগুনে ঘি ঢেলেছেন।’ ওই হামলায় প্রথম আহত হয়েছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা ক্যারোলিন এডওয়ার্ডস। নিজের সাক্ষ্যে তিনি বলেছেন, জ্ঞান হারানোর আগেও দাঙ্গাকারীরা তাকে ‘বিশ্বাসঘাতক ও কুকুর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ক্যাপিটল হিলের দাঙ্গায় প্রায় একশ পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছিলেন, যার মধ্যে চার জন পরে আত্মহত্যা করেন।
রিপাবলিকানরা টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এই শুনানিকে প্রত্যাখ্যান করে একে মার্কিনিদের দৃষ্টিভঙ্গি সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন থেকে সরানোর চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে নভেম্বরের ওই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেস ও সিনেটে নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। ক্যাপিটল হিলে হামলা নিয়ে সোমবার শুনানি আবার অনুষ্ঠিত হবে। সূত্র : বিবিসি বাংলা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ট্রাম্প

২৯ জানুয়ারি, ২০২২

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ