Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

ইসলামী কর্মতৎপরতা : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

প্রকাশের সময় : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেছেন, মানুষের মনগড়া মতবাদ দ্বারা দেশের স্থায়ী শান্তি ও মানবতার কাক্সিক্ষত মুক্তি সম্ভব নয়। মানুষের জ্ঞানে রচিত গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ দ্বারা মানুষের শান্তি আসতে পারে না। শান্তির জন্য প্রয়োজন ইসলামী শাসনের। কারণ ইসলাম যারা মেনেছেন তারা কখনো অন্যায় ও মিথ্যার আশ্রয় নেয় না। তাদের দ্বারা দেশের সম্পদও কুক্ষিগত হয় না।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ইসলামী আইনজীবী পরিষদের এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান শেখের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহতারাম প্রেসিডিয়াম সদস্য আলহাজ ডা. মোখতার হোসাইন, মাওলানা আবু জাফর আহমদ উল্লাহ, আলহাজ রফিক উদ্দীন আহমদ, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সহকারী মহাসচিব মাওলানা ইমতিয়াজ আলম ও আলহাজ মোহা. আমিনুল ইসলাম, অ্যাড. হুমায়ুন কবির, অ্যাড. আব্দুল মতিন, অ্যাড. মুহিব্বুল্লাহ, অ্যাড. সর্দার মোহা. মানিক মিয়া, অ্যাড. আলমগীর হোসেন প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার মসজিদে জুমআর খুৎবাহ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিলে ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট উত্তেজিত করে তুলবে। কাজেই এধরনের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানাই।
পীর সাহেব চরমোনাই
আলেম-ওলামাদেরকে সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর জন্য একটি মহল উঠেপড়ে লেগেছে। সেই মহলটিই ইমাম ও খতীবদের খুৎবাহ নিয়ন্ত্রণের নামে জাতিকে বিষিয়ে তুলছে। এতে করে ইসলামী মহল উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই। পীর সাহেব চরমোনাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার হত্যাকা- পরবর্তীতে মামলা ও হয়রানি এবং প্রশাসনের কিছু অতি উৎসাহী লোক জনগণের ক্ষোভকে প্রশমিত না করে উত্তপ্ত করে তুলছে। আলেম-ওলামাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হলে উলামায়ে কেরাম পুনরায় মাঠে নেমে আসবে।
তিনি বলেন, মাদরাসার বিরুদ্ধে কোন প্রকার চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করলে সরকারের জন্য ভালো হবে না। পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, সরকার ইমাম খতীবদের খুৎবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। সরকার উলামাদেরকে সরকারের মুখোমুখি করে তুললে ইসলামী জনতা সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আসবে।
খেলাফত আন্দোলন
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী এক বিবৃতিতে মাদ্রাসা ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সার্বিক পরিস্থিতি উন্নয়নে ওলামায়ে কেরামদের সাথে সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া ছাত্র ও মাদ্রাসার উপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং নিহত ও আহতদের যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণসহ সকল প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, অন্যথায় আবারো ধর্মপ্রাণ মানুষ গর্জে উঠবে এবং ২০০১ সালের মতো সরকার পতন তরান্বিত হবে।
তিনি বলেন, আবারো প্রমাণ হয়েছে, প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে কিছু তাপস কুমার ও আকুল চন্দ্র মার্কা ইসলামী ও মুসলিমবিদ্বেষী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দলীয় লোকজন আছে। তারাই দেশের সর্বনাশ ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করছে। এই সকল বামপন্থী, রামপন্থী, খোদাদ্রোহী নাস্তিকদের দমনে ব্যর্থ হলে অতীতের মতো বর্তমান সরকারও ডুববে।
মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, কোনো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীনতম ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলীয় শ্লোগান দিয়ে হামলা হতে পারে না। এটা দুশমনদের সুপরিকল্পিত হামলা। মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে দলীয় সন্ত্রাসীরা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। হামলাকারীরা শুধুমাত্র ইসলাম, মানবতা, শান্তি-শৃঙ্খলারই দুশমন নয়, তারা দেশেরও বড় দুশমন।
মাওলানা হামিদী বলেন, মসজিদ-মাদ্রাসায় জঙ্গি-সন্ত্রাসী না খুঁজে নিজ দলের সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ করুন। দেশে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণ থাকবে না। এদেশ ৯৫ ভাগ মুসলমানদের দেশ। কোনো নাস্তিক ও ইহুদী-খৃষ্টান ও ব্রাহ্মণ্যবাদীদের দালালদের কাছে দেশ ইজারা দেয়া হয় নাই। নাস্তিকদের আস্ফালন বন্ধ করতে ঐক্যবদ্ধ্যভাবে কঠিন কর্মসূচি আসবে ইনশাআল্লাহ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর