Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট ২০২২, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯, ১২ মুহাররম ১৪৪৪
শিরোনাম

পাচার অর্থ বিনা প্রশ্নে দেশে আনার প্রস্তাবে সমর্থন বিজিএমইএ’র

উৎসে কর ০.৫০ শতাংশ বহাল রাখার দাবি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৪ জুন, ২০২২, ১২:০০ এএম

প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল কোনো প্রশ্ন ছাড়া নামমাত্র কর দিয়ে পাচার হওয়া অর্থ দেশে আনার যে সুযোগ দিয়েছেন তাকে সমর্থন জানিয়েছে পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, দেশের এই সঙ্কটকালে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ সন্তোষজনক রাখা খুবই প্রয়োজন। সেজন্য প্রচুর ডলার প্রয়োজন। এ অবস্থায় বিভিন্ন সময়ে যারা দেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন, তারা যদি সরকারের দেয়া সুযোগে সাড়া দিয়ে সেই অর্থ কর দিয়ে দেশে ফেরত আনতে চায়-সেটাকে আমরা সমর্থন করি। তিনি বলেন, আমাদের অনেক সময় অনেক কিছু মেনে নিতে হয়। বর্তমান বাস্তবতায় সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাকে আমরা মেনে নেবো।

জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী ২০২২-২৩ অর্থবছরের যে বাজেট প্রস্তাব করেন তাতে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে আয়কর অধ্যাদেশে নতুন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সে অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থিত কোনো সম্পদের ওপর কর পরিশোধ করা হলে আয়কর কর্তৃপক্ষসহ সরকারের কেউ এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন তুলবে না। বিদেশে অর্জিত স্থাবর সম্পত্তি দেশে না আনলে এর ওপর ১৫ শতাংশ, অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ এবং নগদ অর্থের ওপর ৭ শতাংশ কর বসানোর সুপারিশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট ঘোষণার পর থেকেই ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন এই সুবিধার বিরোধিতা করছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি, সানেমসহ অনেক অর্থনীতিবিদও অর্থমন্ত্রী এই প্রস্তাবের সমালোচনা করে এটাকে ‘অনৈতিক’ বলছেন। এর ফলে সৎ করদাতারা নিরুৎসাহিত হবেন এবং দেশ থেকে অর্থ পাচারের পরিমাণ আরও বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। আবার দেশের স্বার্থে এটাকে যথার্থ ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তও বলেছেন অনেকে। এ অবস্থায় দেশের রফতানি আয়ের প্রধান খাত পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ বিষয়টিতে সমর্থন দিল।
আমদানি-রফতানির আড়ালে ওভার ইনভয়েসিং-আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়। দেশের আমদানি-রফতানির সিংহভাগই করে থাকেন পোশাক শিল্পমালিকরা। এই পাচার বন্ধে বিজিএমইএ কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না- এমন প্রশ্নের উত্তরে সংগঠনের সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, অর্থ পাচার শুধু ওভার ইনভয়েসিং-আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে হয় না। নানা প্রক্রিয়ায় হয়। অর্থ পাচার বন্ধে সরকার যে ব্যবস্থা নেবে বিজিএমইএ তাকে সমর্থন করবে।
উৎসে কর ০.৫০ শতাংশ বহাল রাখার দাবি
নতুন বাজেটে অর্থমন্ত্রী পোশাক রফতানির উপর উৎসে কর দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন। এ বিষয়ে ফারুক হাসান বলেন, নতুন করে করের বোঝা না বাড়ালেও বরং পোশাক শিল্পে রফতানি বাড়িয়ে বাড়তি করের সমান কর সরকারি কোষাগারে দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি জানান, আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪৫ বিলিয়ন ডলার রফতানি হলে ৯২ টাকা এক্সচেঞ্জ রেটে টাকার অঙ্কে রফতানি হবে ৪ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা। শূণ্য দশমিক ৫০ শতাংশ হারে উৎসে ২ হাজার ৭০ কোটি টাকা কর দেয়া হবে। আমরা যদি প্রতিযোগী সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রফতানি বাড়াতে পারি, তাহলে কর হার না বাড়িয়েও রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে করে সামষ্টিক অর্থনীতি উপকৃত হবে। তাই পোশাক রফতানির উপর উৎসে কর দশমিক ৫০ শতাংশ বহাল রাখার দাবি জানান ফারুক হাসান।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, পোশাক রফতানির উপর উৎসে কর ১ শতাংশ করা হলে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শিল্পের জন্য অত্যন্ত দুরুহ হবে; যখন কিনা শিল্প মহামারি থেকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। আমরা মনে করি কর বাড়ানোর জন্য এটি সঠিক সময় নয়। বর্তমানে অস্থিরতাময় বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতি আমাদের পোশাক শিল্পের জন্যও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আমরা মনে করি, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই উৎসে কর বৃদ্ধির প্রস্তাব পোশাক শিল্পের টিকে থাকার সংগ্রামটি আরও কঠিন করে তুলবে। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে পোশাক শিল্পে উৎসে কর বর্তমানে যে অবস্থায় রয়েছে, সে অবস্থায় রাখার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী সুবিবেচনায় রাখবেন। আমাদের একান্ত অনুরোধ, রফতানির বিপরীতে প্রযোজ্য দশমিক ৫০ শতাংশ উৎসে কর আগামী ৫ বছর পর্যন্ত কার্যকর রাখলে শিল্পটি বর্তমান সংকটকালে স্বস্তিতে থাকবে। সেইসঙ্গে নন-কটন খাতে বিনিয়োগ ও রফতানি উৎসাহিত করতে নন-কটন পোশাক রফতানির উপর ১০ শতাংশ হারে বিশেষ প্রনোদনা প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান তিনি।
রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোয় আগুনে নিহতদের জন্য দোয়া ও মোনাজাত হয়। বিজিএমইএ সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম, এসএম মান্নান কচি, পরিচালক আব্দুল্লাহিল রাকিব, মো. মহিউদ্দিন রুবেলসহ সংগঠনের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পাচার অর্থ বিনা প্রশ্নে দেশে আনার প্রস্তাবে সমর্থন বিজিএমইএ’র
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ