Inqilab Logo

বৃহস্পিতবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ০৩ ভাদ্র ১৪২৯, ১৯ মুহাররম ১৪৪৪
শিরোনাম

করোনা সংক্রমণ নিয়ে শঙ্কায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৫ জুন, ২০২২, ১২:০০ এএম

দেশে করোনা সংক্রমণ ফের বাড়তে শুরু করেছে। গত মাসেও সংক্রমণের হার এক শতাংশের নিচে ছিল। কিন্তু এখন দুই শতাংশে উঠে এসেছে সেই হার। এমন পরিস্থিতিতে শঙ্কা প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, আমরা যেভাবে অসতর্ক হয়ে চলাচল করছি, হাসপাতালে রোগী বাড়তে সময় লাগবে না।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মহাখালীতে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর’বি)-এ মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে স্বাস্থ্য গবেষণা অনুদান ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য খাতে গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য ৩৫ লাখ টাকা করে অনুদান পেয়েছেন ১০ নারী বিজ্ঞানী। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ১০ নারী বিজ্ঞানীর হাতে সনদ ও অনুদানের চেক তুলে দিয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজন আইসিডিডিআর’বির ও বাকিরা দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। এই অনুদানের জন্য ৫০০ জন গবেষককে নির্বাচিত করা হয়। পরে তাদের মধ্যে এই ১০ জনকে অনুদান দেয় অধিদফতর।

জাহিদ মালেক বলেন, করোনা সংক্রমণ আমরা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছিলাম, কিন্তু দেশে এখন আবার করোনা বাড়ছে। গত একমাস দেশে সংক্রমণের হার ছিল দশমিক ৬ শতাংশ, এখন সেটা ২ শতাংশে উঠে গেছে। প্রতিদিন যেখানে দৈনিক ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগীর করোনা শনাক্ত হতো, এখন সেটা বেড়ে হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ জন। আমরা আশঙ্কা করছি, আমাদের যদি এই মুহূর্তে পরীক্ষা বাড়ে, তাহলে সংক্রমণের সংখ্যাও আরও বেড়ে যাবে।

তিনি বলেন, আমাদের জন্য একটা ভালো বিষয় হলো আমাদের সব হাসপাতালে এখন ২০ জনের বেশি রোগী নেই। কিন্তু আমরা যেভাবে অসতর্ক হয়ে চলাচল করছি, হাসপাতালে রোগী বাড়তেও সময় লাগবে না। তাই আমাদের স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে আরও সতর্ক হতে হবে। আপনারা সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সব কাজ করবেন, এটি আমরা আশা করব। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বদাই গবেষণার বিষয়ে তাগিদ দেন। তিনি চিকিৎসা গবেষণাকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য ১০ নারী বিজ্ঞানীকে সম্মানিত করা হলো। এটি প্রমাণ করে, নারীর ক্ষমতায়নে আমরা অনেক এগিয়ে গেছি। চিকিৎসা খাতে মোট শিক্ষার্থীর ৭৫ ভাগই নারী। আমরা চাই তারা আরও এগিয়ে যাক। সকল ক্ষেত্রে তারা পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করুক।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যের বিষয়গুলো আপগ্রেড হচ্ছে। তাই আমাদেরও নিয়মিত আপডেট থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে গবেষণা আমাদের আপডেট রাখতে পারে। যেমন, দেশে এক সময় সংক্রামক রোগের ব্যাপক বিস্তৃতি ছিল। ডায়রিয়া, কলেরায় গ্রামের পর গ্রাম খালি হয়ে যেত। কিন্তু এখন নিয়ন্ত্রণে আমরা বহুলাংশেই সফল। আইসিডিডিআর’বি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আইসিডিডিআর’বির গবেষণা আমাদের এসব রোগের বিরুদ্ধে কাজ করতে সহায়তা করেছে।

সম্প্রতি ডায়রিয়ার ব্যাপক সংক্রমণ দেখা দিলে আইসিডিডিআর’বি তা মোকাবিলায় অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছে। করোনা মোকাবিলাতেও আইসিডিডিআর’বির ভূমিকা রয়েছে বলে জানান জাহিদ মালেক। সরকারের স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে মাত্র পাঁচটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ছিল। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। বর্তমানে পাঁচটি শুধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ই রয়েছে। যাদের কাজ চলমান আছে। আমাদের কোনো ইনস্টিটিউট ছিল না, এখন প্রত্যেকটি রোগের জন্য আলাদা আলাদা বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট রয়েছে।

করোনার শুরুতে আমরা কী করব জানতাম না। আমাদের আইইডিসিআর ছাড়া কোনো ল্যাব ছিল না। আমরা তখন সেটার দ্রুত ব্যবস্থা করেছি। অক্সিজেন ঘাটতি দূর করতে আমরা প্রতিটি হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের ব্যবস্থা করেছি। আলাদা হাসপাতাল তৈরি করেছি। করোনা আবার বাড়ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

আইসিডিডিআর’বির পরিচালক (মাতৃত্ব ও শিশু) ডা. শামসুল আরেফিনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদেরী ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।#



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

১৬ জানুয়ারি, ২০২২

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ