Inqilab Logo

শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ০৪ ভাদ্র ১৪২৯, ২০ মুহাররম ১৪৪৪

রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক নিয়ে দোটানায় ইউরোপ

বন্ধুত্ব না শত্রুতা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৫ জুন, ২০২২, ১২:০৩ এএম

পূর্বে রাশিয়ার অগ্রগতির কাছে জায়গা হারিয়ে, ইউক্রেন সোমবার পশ্চিমা নেতাদের কাছে যুদ্ধের পদ্ধতির পুনর্বিবেচনা করা এবং আরও বেশি পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্র দেয়ার দাবি করেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইতালির নেতারা ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে তাদের প্রথম সফরের পরিকল্পনা করছেন, তাদের এবং অন্যান্য পশ্চিমা নেতাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, ইউক্রেনকে আরও বেশি অস্ত্র দেয়া হবে নাকি যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মস্কোর সাথে আলোচনার জন্য কঠোর চাপ দিতে হবে।

ইভান ক্রাস্টেভ, যিনি বুলগেরিয়ার সোফিয়ায় সেন্টার ফর লিবারেল স্ট্র্যাটেজিসের প্রধান, ইউরোপের বিভাজনগুলোকে ‘ন্যায়বিচার পার্টি’ এর মধ্যে লড়াই বলে অভিহিত করেছেন। যেখানে এক পক্ষ চায় রাশিয়ান বাহিনীকে পিছনে ঠেলে দিতে এবং শাস্তি দিতে। আরেক পক্ষ চায়, যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে চায়, যা স্বল্পমেয়াদে মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি কমিয়ে দেয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, আরও অস্ত্রের আহ্বান জানিয়েছেন এবং হারানো অঞ্চল পুনরুদ্ধার করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন।

এই ধরনের বিশাল অনুরোধগুলি বাস্তবসম্মত নয়। উদাহরণস্বরূপ, ইউক্রেনীয়রা যত দ্রুত হাউইৎজার পেয়েছে তত দ্রুত তারা সেটি ব্যবহার করার জন্য প্রশিক্ষিত হতে পারছে না। পশ্চিমা নেতারা একমত যে, ইউক্রেনের রুশ আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা অনেকাংশে নির্ভর করবে তাদের দেশগুলি কত দ্রুত এবং কী পরিমাণে ভারী অস্ত্র সরবরাহ করতে পারে তার উপর। তারা রাশিয়ার উপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, ইউক্রেনে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ও সামরিক সহায়তা সরবরাহ করেছে এবং প্রকাশ্যে জোর দিয়েছিল যে কীভাবে এবং কখন রাশিয়ার সাথে আলোচনা করতে হবে তা ইউক্রেনের নিজস্ব, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতাদের উপর নির্ভর করে।

কিন্তু তারা এও চিন্তিত যে, একটি দীর্ঘ যুদ্ধ ন্যাটো দেশগুলোকেও এর মধ্যে জড়িয়ে ফেলবে এবং রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে একে প্রচারণা হিসাবে ব্যভহার করবেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ, বিশেষ করে, দুবার বলেছেন ‘রাশিয়াকে অপমান না করা’ গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় কর্মকর্তারা মুদ্রাস্ফীতি এবং উচ্চ জ্বালানির দামের দ্বারা তাদের নিজস্ব অর্থনীতির ক্ষতি এবং সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে উদ্বিগ্ন। এবং ইউরোপের অনেকেই একটি উপায় খুঁজতে আগ্রহী, এমনকি এটি একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি হলেও, ইউক্রেনীয় শস্য রপ্তানি পুনরায় শুরু করার জন্য কারণ বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দাম বেড়েছে এবং বিশ্বের কিছু অংশ দুর্ভিক্ষের হুমকির সম্মুখীন। সূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রাশিয়া-ইউক্রেন


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ