Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট ২০২২, ০১ ভাদ্র ১৪২৯, ১৭ মুহাররম ১৪৪৪
শিরোনাম

কলারোয়ায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার নামে সরকারি অর্থ তসরুপ

কলারোয়া (সাতক্ষীলা) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৯ জুন, ২০২২, ১২:০২ এএম

কলারোয়ায় ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষার নামে সরকারি অর্থ তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, ৮ থেকে ১৪ বছর বয়স্ক প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ঝরেপড়া শিক্ষার্থী নিয়ে ২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে কলারোয়ায় ৭০টি উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সাস ও উন্নয়ণ পরিষদ (উপ) নামে দুটি এনজিও যৌথভাবে উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। শিক্ষার্থীদের মাসিক উপবৃত্তি ১২০ টাকা, পোশাক, স্কুল ব্যাগ দেয়ার কথা থাকলেও কিছুই দেয়া হয়নি।
সরেজমিনে পূর্ব কয়লা উপ-আনুষ্ঠানিক বিদ্যালয়ের অস্বিত্ব খুজে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে এই স্কুলের শিক্ষিকা নাসরিনের সংগে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গৃহ না থাকায় তিনি বুইতা গ্রামে স্কুল পরিচালনা করছেন। উত্তর বাটরা উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ পেয়ে শিক্ষিকা মমতাজের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার স্বামী জানায়, মমতাজ বাড়িতে আছে। শ্রীপতিপুর ঋষিপাড়া শিক্ষাকেন্দ্রে যেয়ে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর স্থলে ৫ থেকে ৬ বছর বয়স্ক প্রায় ২০ শিশুকে দেখা যায়। এদিকে ২ দিন যেয়ে কে এল হাইস্কুলের বাউণ্ডারী ওয়াল সংলগ্ন খাসপুর ঋষিপাড়া উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষাকেন্দ্র বন্ধ পাওয়া যায়। কেএল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল ইসলামসহ স্থানীয়রা জানায়, প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থী ও কিছু শিশু নিয়ে মাঝে মাঝে স্কুল চলে। লাঙ্গলঝাড়া বাজার শিক্ষাকেন্দ্রের সাইন বোর্ড ঝুলানো রয়েছে রান্নার কাঠ রাখা ঘরে। শিক্ষিকা আত্মীয় বাড়ি বলে প্রতিবেশীরা জানায়। লাঙ্গলঝাড়া পশ্চিমপাড়া কেন্দ্রের সাইনবোর্ড এলাই নামক ব্যক্তির বাসভবনে ঝুলানো থাকলেও শিক্ষিকা বা শিক্ষার্থীর কোন হদিস পাওয়া যায়নি। আলাইপুর কেন্দ্রের হদিস না পেয়ে শিক্ষিকা খাদিজা সুলতানার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ৮ কি.মি. দূরে দেয়াড়া গ্রামে আত্মীয় বাড়ি আছে জানায়। তবে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা শুরু করেন। এভাবে সাইনবোর্ড সর্বস্ব অধিকাংশ শিক্ষাকেন্দ্রে অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থী নিয়ে নামকাওয়াস্তে উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা চলছে বলে সুত্র জানায়। এসব কেন্দ্র দেখে ফেরার পথে কতিপয় উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা সুপার ভাইজার পথরোধ করে নিউজ বন্ধের জন্য ঘুষের প্রস্তাব করেন।
উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তর সাতক্ষীরার সহকারী পরিচালক বলেন, কলারোয়ার অভিযোগ শুনতে শুনতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের জরিপ অনুযায়ী ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪.৫৫% অর্থাৎ ১২৮৭ জন, কিন্তু ৭০ কেন্দ্রে ২১০০ ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থী কোথায় পেয়েছেন সে প্রশ্নের কোন জবাব দেননি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন