Inqilab Logo

বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ০২ ভাদ্র ১৪২৯, ১৮ মুহাররম ১৪৪৪
শিরোনাম

রাত আটটার পর বিদ্যুৎ বন্ধ

রাজধানীর দোকান-শপিংমল-মার্কেট-বিপণি বিতান-কাঁচাবাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন সিদ্ধান্ত কঠোর ভাবে কার্যকর করতে হবে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৯ জুন, ২০২২, ১২:০১ এএম

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে একদিকে তৈরি হয়েছে অর্থনৈতিক মন্দার শঙ্কা। অন্যদিকে চোখ রাঙাচ্ছে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস। বিশ্বের বহু দেশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে রাত ৮টার পরে দেশে দোকান, শপিংমল, মার্কেট, বিপনি বিতান, কাঁচাবাজার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মো. আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকির স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ নির্দেশনা জানানো হয়। শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিবকে লেখা এই চিঠি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে জানানো হয়েছে।

বিশিষ্টজনরা বলছেন, সরকারকে এ সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকার অনেক সিদ্ধান্ত কঠোর ভাবে বাস্তবায়ন করেছে দেশের স্বার্থে। কিন্তু রাজধানীর দোকান, শপিংমল, মার্কেট, বিপনী বিতান, কাঁচাবাজারগুলো সরকারের এই ধরনের সিদ্ধান্তি উপেক্ষা করে কৌশলে রাতে খোলা রাখা হচ্ছে। জাতীয় স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে। তবে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন বলেছেন, সরকার যদি মনে করে রাত ৮টার পর দোকান মার্কেট বন্ধ রাখতে সমস্যার সমাধান হবে। তাহলে আমরা সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নেব।

চিঠিতে বলা হয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ১১৪ ধারার বিধান প্রতিপালনে দেশে রাত ৮টার পর দোকান, শপিংমল, মার্কেট, বিপনী বিতান, কাঁচাবাজার খোলা না রাখার বিষয়টি যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। চিঠিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দফতরসহ মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন। তবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগেই সমন্বয়হীনতায় ভুগছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়। শিল্প মন্ত্রণালয় মনে করে এক্ষেত্রে তাদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। অন্যদিকে এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর লেবার ল এবং লেবার রুলস অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানায়। এখনও এ বিষয় নিয়ে কাজ করছে উত্তর সিটি। তারা ব্যবস্থা নেবে বিদ্যমান আইনেই। অন্যদিকে মনিটরিং করবে দক্ষিণ সিটি, তবে সংস্থাটি মনে করে ইমপ্লিমেন্টেশনের দায়িত্ব পুলিশের। খেইহারা অবস্থা পুলিশ বিভাগের। তারা জানায়, এখনও এ বিষয়ে কোন চিঠিই পায়নি। তবে তৎপর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। রাত ৮টার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়ার কথা ভাবছে তারা। কাজ শুরুর আগেই এমন পরিস্থিতি খুব ভালো ইঙ্গিত নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ইতিপূর্বে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন দেখা গেছে খুবই কম।

আগামী ১ জুলাই থেকে ঢাকা শহরে রাত ৮টার পর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রেস্তোরাঁ ও অত্যাবশ্যকীয় জিনিসপত্রের দোকান ছাড়া বাকি সবকিছু বন্ধ রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা জারির পর তা আর কার্যকর নয়, বরং সেই নির্দেশনা মেনেই বর্তমানে এগিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ। তিনি বলেন, এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় যেহেতু সারা বাংলাদেশের নিয়ম করে দিয়েছে, সেহেতু সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আলাদা বিজ্ঞপ্তি জারির প্রয়োজন নেই। ওই প্রজ্ঞাপনে যেভাবে বলা হয়েছে সেভাবেই হবে। যেহেতু ১৬ জুলাই প্রজ্ঞাপনটি জারি হয়েছে সেহেতু ১৭ তারিখ থেকেই তা কার্যকর।

দক্ষিণ সিটির আওতায় থাকা দোকানপাট-শপিংমল রাত ৮টার পর খোলা রাখলে কি পদক্ষেপ নেবেন? এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিএসসিসির সিইও বলেন, এখানে অনেক মন্ত্রণালয়কে কপি দেয়া হয়েছে, অনেক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। সুতরাং পুলিশ পুলিশের দায়িত্ব পালন করবে, আমরা আমাদের মতো মনিটরিং করবো, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাদের কাজ করবে-যে যার দায়িত্ব পালন করবে। তবে মূলত ইমপ্লিমেন্টেশনের দায়িত্বটা পুলিশ বিভাগ করবে। আর আমাদের পক্ষ থেকে আমরা মনিটরিং করবো।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আসলে এটা বাস্তবায়নে জনগনের সহযোগিতা লাগবে। তারপরেও আমরা চিন্তা করছি কিভাবে করবো। বিদ্যমান যে আইনকানুন আছে সেগুলোর মাধ্যমেই চেষ্টা করবো। আমরা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দোকান মালিকদের সঙ্গে বসবো। যেভাবে নির্দেশনা এসেছে আমরা চেষ্টা করবো সেভাবেই বাস্তবায়ন করার। তারপরও আমরা আলোচনা করে নিবো যাতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতিটাও যাতে বেশি না হয়।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের মহাপরিদর্শক নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা সারা জেলাতে আজকেই পৌঁছে দিচ্ছি। চিঠি ইস্যুর তারিখ থেকেই এটা কার্যকর, এটা বলার কোন অপেক্ষা রাখে না। আজকে থেকে সব জেলা-উপজেলা-প্রশাসনের সহযোগিতায় এটা কার্যকর করার উদ্যোগ নিচ্ছি। লেবার ল এবং লেবার রুলস অনুযায়ী যে আইনি বিধান নেয়ার ক্ষমতা সরকার আমাকে দিয়েছে আমরা সে বিধান পরিপালন করবো।
শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চিঠিতে শিল্প মন্ত্রণালয় যুক্ত থাকলেও তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে এখানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে মন্ত্রণালয়ের অধীন কিছু প্রতিষ্ঠান আছে সেগুলো যাতে বন্ধ থাকে সেজন্যই এই পদক্ষেপ। অন্যদিকে এ বিষয়ে এখনও কোন কার্যকরি সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন জানান, আমরা দু’একদিনের মধ্যেই দোকান মালিকদের সাথে বসবো। তাদেরকে জানিয়ে দেবো রাত ৮টার পর বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যাবে। সেভাবে তাদেরকে প্রস্তুতি নেয়ার সময় দেয়া হবে, একেবারে হঠাৎ করেই এটা করা হবে না। রোববার বা সোমবার তাদের সাথে বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা অফিসিয়ালি কোন নির্দেশ পাইনি। পিএম কার্যালয়ের চিঠির অনুলিপি অনুযায়ী পাওয়ার কথা থাকলেও তিনি কোন চিঠি পাননি। তিনি বলেন, আমরা এখনও চিঠি পাইনি। পেলে ব্যবস্থা নেবো।

এদিকে রাত আটটার পর দোকান, শপিংমল, মার্কেট, বিপনী বিতান, কাঁচাবাজার খোলা না রাখার বিষয়টি ঈদুল আজহা পর্যন্ত স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা। গতকাল এফবিসিসিআই’তে স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে এ অনুরোধ জানিয়ে তারা বলেন, সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের সহায়তা নিয়ে ব্যবসায়ীরা দেশের অর্থনীতি পুণরুদ্ধারে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় রাত আটটার পর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা ব্যাহত হবে। তার ঈদুল আজহা পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান তারা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিদ্যুৎ


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ