Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার , ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

ম্যাকাওকে গুড়িয়ে গ্রুপ সেরা বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৪ নভেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

এশিয়ান হকি ফেডারেশন (এএইচএফ) কাপ টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে বিশাল জয়ে ‘এ’ গ্রুপে সেরা হয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল বিকালে হংকং কিংস পার্ক হকি স্টেডিয়ামের টার্ফে লাল-সবুজরা অনেকটা যেন ছেলেখেলাই খেললো ম্যাকাওকে নিয়ে। ম্যাচে নবীন পেনাল্টি কর্নার (পিসি) স্পেশালিস্ট আশরাফুল ইসলামের হ্যাটট্রিকের সুবাদে বাংলাদেশ ১৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে ম্যাকাও হকি দলকে। প্রথমার্ধে বিজয়ীরা ৬-০ গোলে এগিয়ে ছিল। দলের পক্ষে আশরাফুল একাই করেন পাঁচ গোল। সারোয়ার হোসেন তিনটি, রোমান সরকার দু’টি এবং হাসান যুবায়ের নিলয়, মাইনুল ইসলাম কৌশিক ও খোরশেদুর রহমান একটি করে গোল করেন। এই বিশাল জয়ে বাংলাদেশ এএইচএফ কাপ টুর্নামেন্টে ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন প্রি-কোয়ালিফাইং রাউন্ডে (সেমিফাইনালে) জায়গা করে নিলো। এই পর্বে আগামী শনিবার ‘বি’ গ্রুপ রানার্সআপদের (সিঙ্গাপুর অথবা শ্রীলঙ্কা) বিপক্ষে টার্ফে নামবে লাল-সবুজরা।
স্বীকৃত এবং পরীক্ষিত তিন খেলোয়াড়কে বাইরে রেখেই কাল একাদশ সাজান বাংলাদেশের জার্মান কোচ অলিভার কার্টজ। দলের দুই অভিজ্ঞ খেলোয়াড় অধিনায়ক ফরোয়ার্ড রাসেল মাহমুদ জিমি, ডিফেন্ডার মামুনুর রহমান চয়ন এবং বর্তমান সময়ের সেরা গোলরক্ষক অসীম গোপ ছাড়াই ম্যাকাওকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে দিলো বাংলাদেশ।
আগের দু’ম্যাচে বাংলাদেশ দলের যারা রিজার্ভ বেঞ্চে বসে ছিলেন ম্যাকাওয়ের বিপক্ষে তাদের তিনজনকে খেলিয়ে যোগ্যতা পরীক্ষা করেন কোচ অলিভার কার্টজ। অসীমের জায়গায় জাহিদ, চয়নের স্থানে খোরশেদ ও আশরাফুল থাকলেও জিমির বদলে একাদশে ছিলেন না তার মানের কোনো ফরোয়ার্ড। তারপরও পুস্কর ক্ষিসা মিমো ও হাসান যুবায়ের নিলয়কে দিয়েই কাজ চালিয়েছেন কোচ। ফলাফলও পেয়েছেন তিনি। কোচের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন সবাই। রিজার্ভ বেঞ্চের খেলোয়াড়রাও তৃপ্তি পেয়েছেন নিজেদের পারফরম্যান্সে।  যা পরবর্তী পর্বে ভালো ফল বয়ে আনতে বেশ কাজে লাগবে।
গতকাল ম্যাচ শুরুর প্রথম এগারো মিনিটের মধ্যেই হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তরুণ পিসি স্পেশালিস্ট আশরাফুল ইসলাম। ২ ও ১০ মিনিটে পিসি থেকে এবং ১১ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। এ ছাড়া ৪০ ও ৫৮ মিনিটে পিসি থেকেই বাকি দু’গোল করেন আশরাফুল। ১৯ মিনিটে চতুর্থ গোলটি আসে রোমান সরকারের স্টিক থেকে। তার এই ফিল্ড গোলের পর ম্যাচের ৬২ মিনিটে রোমান আরও একটি ফিল্ড গোল করেন। ২৩ মিনিটে সারোয়ার ফিল্ড গোল করে দলকে পঞ্চম গোলের স্বাদ দেন। এরপর ৬১ ও ৬৩ মিনিটে পিসি থেকে আরও দু’গোল পান তিনি। এর আগে ৩৫ মিনিটে হাসান যুবায়ের নিলয় করেন একটি ফিল্ড গোল। এবং ৬৯ মিনিটে কৌশিক ও ম্যাচের যোগকরা সময়ে (৭০+২ মিনিটে) খোরশেদুর পিসি থেকে গোল করে বাংলাদেশের বিশাল জয় নিশ্চিত করেন।
টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে বাংলাদেশ গোল করেছে ২০টি। আর হজম করেছে চার গোল। যেখানে আশারফুলের গোল সংখ্যা ছয়টি। সারোয়ার হোসেন, রোমান সরকার, মামুনুর রহমান চয়ন এবং রাসেল মাহমুদ জিমি করেছেন সমান তিনটি করে গোল।
এশিয়া কাপ হকির মূলপর্বে খেলার টিকিট পাওয়ার লক্ষ্যেই এএইচএফ কাপে খেলতে গেছে বাংলাদেশ। সেরা হতে পারলে এশিয়ান হকির শ্রেষ্ঠত্বের আসরে খেলতে পারবেন জিমিরা। বাছাইপর্বের এ আসরে বাংলাদেশের রেকর্ড বেশ ভাল। ২০০৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সর্বশেষ ২০১২ সালেও শিরোপার স্বাদ পায় তারা। এবারও নিজেদের গ্রুপে ফেবারিট হিসেবে খেলে ইতোমধ্যে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে জিমি বাহিনী।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ