Inqilab Logo

সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯, ১৬ মুহাররম ১৪৪৪

মূলধন কমলো পাঁচ হাজার কোটি টাকা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৫ জুন, ২০২২, ১২:০১ এএম

অব্যাহত দরপতেন দেশের শেয়ারবাজারের জন্য গেলো সপ্তাহ ছিল চরম অস্বস্তির। সপ্তাহজুড়ে লেনদেনে অংশ নেয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের সঙ্গে সঙ্গে কমেছে মূল্যসূচক। এতে গত সপ্তাহে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা কমে গেছে। এর মাধ্যমে নতুন অর্থবছরের (২০২২-২৩) প্রস্তাবিত বাজেটের পর টানা দুই সপ্তাহ পতনের মধ্যে থাকলো শেয়ারবাজার। দুই সপ্তাহের এ টানা দরপতনে ডিএসই’র বাজার মূলধন কমেছে আট হাজার কোটি টাকার ওপরে।
গেলো সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসই’র বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ১৪ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৫ লাখ ১৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা। অর্থাৎ গেলো সপ্তাহে ডিএসই’র বাজার মূলধন কমেছে ৪ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহে বাজার মূলধন কমে ৩ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। এতে দুই সপ্তাহের টানা পতনে ডিএসইর বাজার মূলধন কমলো ৮ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা।
বাজার মূলধন কমার পাশাপাশি গেলো সপ্তাহে ডিএসইতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ৭৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৯৭টির। আর ১৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে গেলো সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৯৮ দশমিক শূন্য ৮ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ৫৪ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট বা দশমিক ৮৪ শতাংশ। গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৭৬৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৮৬০ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ৯৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বা ১১ দশমিক ১১ শতাংশ। আর গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৮২২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ৪ হাজার ৩০০ কোটি ৪ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে ৪৭৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বা ১১ দশমিক ১১ শতাংশ।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩১৮ কোটি ৮৭ লাখ ৮ হাজার টাকা, যা মোট লেনদেনের ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মূলধন কমলো পাঁচ হাজার কোটি টাকা
আরও পড়ুন

ব্যাংকগুলোর দ্রুত রফতানি আয় নগদায়নের নির্দেশ

খোলাবাজারে ডলারের দাম যখন সর্বোচ্চ ১২০ টাকায় ঠেকেছে। তখন সংকটে লাগামহীন বৈদেশিক মুদ্রা ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে রোববার (১৪ আগস্ট) বিকেলে ব্যাংক প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) সঙ্গে বৈঠকে বসে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈঠকে চলমান সংকট নিরসনে ব্যাংক প্রধানদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি দিক নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সভাশেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, আমদানি ব্যয় কমে যাওয়ায় শিগগিরই ডলারের বাজারে স্বস্তি ফিরবে। এছাড়া ব্যাংকগুলোকে রফতানি আয়ের দ্রুত নগদ আদায়ের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।   গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কি দামে ডলার বেচাকেনা করছে, তার রিপোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংকে দেয়ার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে চলার কথা জানান ব্যাংকাররা।   এ দিকে রোববার (১৪ আগস্ট) খোলাবাজারে ডলারের দাম পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বর্তমানে কার্ব মার্কেটে ডলার বিক্রি হচ্ছে ১১২ থেকে ১১৪ টাকায়। মতিঝিলের কয়েকটি মানি এক্সচেঞ্জের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে তারা ১১০ থেকে ১১১ টাকা দরে ডলার কিনছে এবং বিক্রি করছে ১১২ থেকে ১১৪ টাকা দরে। তবে ডলার ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম কমায় বলা যাবে না বাজার স্থিতিশীল হয়েছে। যতদিন না টাকার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাড়ছে, বাজার স্থিতিশীল হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত ডলারের বাজার দোদুল্যমান থাকার শঙ্কা করেছেন ব্যবসায়ীরা।  

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ