Inqilab Logo

বৃহস্পিতবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ০৩ ভাদ্র ১৪২৯, ১৯ মুহাররম ১৪৪৪

আসামের মেঘ ডাকছে বন্যা

উত্তর-পূর্ব ভারতে ভারী বৃষ্টির ঘনঘটা নদ-নদীসমূহের উজানে বাড়বে পানি

শফিউল আলম | প্রকাশের সময় : ২৬ জুন, ২০২২, ১২:০০ এএম

গত কয়েকদিনে বৃষ্টিপাত কমলেও, উত্তর-পূর্ব ভারতে বিশেষ করে আসাম অঞ্চলে (বরাক অববাহিকা) আবারও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আবহ তৈরি হয়েছে। চলতি সপ্তাহ থেকে আসাম ও এর আশপাশ অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিচ্ছে বৈশি^ক আবহাওয়া সংস্থাগুলো। যদিও আসাম-মেঘালয়ে ইতোমধ্যে রেকর্ড-ছাড়ানো বৃষ্টিপাত হয়েছে। ঢল-বন্যায় লণ্ডভণ্ড হয়েছে বিস্তীর্ণ অঞ্চল। বর্তমানে শুধুই উত্তর-পূর্ব ভারতেই নয়; চীন থেকে শুরু করে আফগানিস্তান অবধি দক্ষিণ এশিয়ার বিশাল অংশজুড়ে বর্ষার মৌসুমী বায়ুর সক্রিয় বলয় তৈরি হয়ে আছে। তার ঘনঘোর মেঘমালা জেঁকে বসেছে। মৌসুমী বায়ু ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। এর প্রভাবে বাড়ছে দুর্যোগময় বর্ষণ। বাড়ছে জনদুর্ভোগ।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ সূত্র জানায়, বঙ্গোপসাগর থেকে বাংলাদেশ, উত্তর-পূর্ব ভারত, নেপালসহ বিরাট এই অঞ্চলের দিকে অবিরাম আসছে প্রচুর মেঘমালা ও জলীয়বাষ্প। তাছাড়া বর্ষারোহী মৌসুমী বায়ু এবার আগেভাগেই সক্রিয় এবং বিস্তার লাভ করেছে। এর ফলে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে ঢল-বান গড়াবে ভাটিতে বাংলাদেশের দিকে। যা আরো বান-বন্যার পদধ্বনি। কেননা ভারী বর্ষণ ও বন্যাপ্রবণ এই ভরা বর্ষা মৌসুমের বেশিরভাগই সামনে রয়ে গেছে। ক্রমেই পুঞ্জিভূত হচ্ছে ঘনঘোর মেঘ। ফের ডাকছে বন্যা।

চলমান বন্যার ঠিক আগেই উত্তর-পূর্ব ভারতে শতবর্ষের রেকর্ড-ভাঙা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়। যা ভারতের আসাম, মেঘালয় এবং দেশের সিলেট বিভাগসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সর্বনাশা বন্যা ডেকে আনে। এ সময়ে মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়- গত ১২ জুন ৩৫৪ মিলিমিটার, ১৩ জুন ২৯৩ মি.মি. এবং ১৫, ১৬ ও ১৭ জুন যথাক্রমে ৮১২ মি.মি., ৬৭৪ মি.মি. ও ৯৭২ মি.মি.। এ সময়ে আসাম, অরুণাচল, সিকিমেও ভারী বর্ষণ হয়েছে। যদিও মেঘালয়ের তুলনায় তার পরিমাণ ছিল কম। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ বলছে, মেঘালয় ও আসামে বছরের এ সময়ের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের তুলনায় ১৩৪ শতাংশ বেশিই বৃষ্টি ঝরেছে। এতে করে প্রবল বন্যায় প্লাবিত বাড়িঘর ছেড়ে লাখ লাখ মানুষ আশ্রয়ের সন্ধানে অন্যত্র ছুটেছে।

এদিকে মৌসুমী বায়ুতাড়িত বর্ষা মৌসুমের বেশিরভাগ সময় সামনেই রয়ে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাতের ৭০ শতাংশই ঝরে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে। ধানসহ যাবতীয় ফল-ফসলের জন্য বৃষ্টিপাত অপরিহার্য। তবে অতিবৃষ্টিতে উঠতি ফল-ফসলের জমি তলিয়ে যায়। এতে করে ব্যাপক ফসলহানি ঘটে। সৃষ্টি হয় অনাকাক্সিক্ষত দুর্যোগ-দুর্বিপাক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়া-জলবায়ুর নেতিবাচক ধারায় পরিবর্তনের কারণে ফল-ফসলের আবাদ-উৎপাদনে বিপর্যয় ঘটছে। সেই সাথে দুর্যোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৈশি^ক উষ্ণতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়লেই দক্ষিণ এশিয়ায় বর্ষারোহী মৌসুমী বায়ু জোরদারে সহায়ক অআর্দ্রতার হার অন্তত ৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৈশি^ক তাপমাত্রা ইতোমধ্যে ১ দশমিক ১ থেকে ১ দশমিক ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া-জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সাথে বর্ষার বর্ষণের মতিগতি অস্থির ও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।

দেশের প্রধান ও অভিন্ন নদ-নদীসমূহের অববাহিকা অঞ্চলজুড়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আবহ বিরাজ করছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের আসাম, মেঘালয়, অরুণাচল, ত্রিপুরা, হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম, বিহার, নেপাল ও চীনে একযোগে বর্ষণ হচ্ছে। বাংলাদেশের অন্তত ৫৪টি অভিন্ন নদ-নদীর পানির ৯০ শতাংশই আসে উজান থেকে। সেই সঙ্গে উজানের অববাহিকায় ভারত নিজেদের বন্যামুক্ত করতে গিয়ে সব বাঁধ-ব্যারাজ খুলে একযোগে পানি ছেড়ে দেয়ায় অর্থাৎ পানি নিয়ন্ত্রণের কারণে ভাটিতে বাংলাদেশ বার বার বন্যা কবলিত হচ্ছে। বন্যার পূর্ব-প্রস্তুতি ও সতর্কতার জন্য উজানে পানি প্রবাহ ও নদ-নদীর গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে যথেষ্ট আগেভাগে তথ্য মিলেনা।

এদিকে আবহাওয়া বিভাগ জানায়, বর্ষার মৌসুমী বায়ুর একটি বলয় ভারতের বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানা গেছে, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেই সাথে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বন্যা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ