Inqilab Logo

শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ০৪ ভাদ্র ১৪২৯, ২০ মুহাররম ১৪৪৪
শিরোনাম

কুলাউড়ায় বন্যা কবলিত আশ্রয়কেন্দ্রে দিন দিন বাড়ছে পানিবন্দী মানুষ

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৬ জুন, ২০২২, ২:১৩ পিএম

কুলাউড়ায় ৩ বছরের রিয়া নামের শিশুকন্যা। জন্মের পরেই প্রথমবারের মতো তাকে দেখতে হচ্ছে ভয়াবহ এই বন্যা। কুলাউড়া পৌর শহরের রাবেয়া স্কুলের ২য় তলায় মা হালিমা আক্তারের সাথে আশ্রিত হয়েছে সে। রিয়ার মতো শত শত কোমলমতি শিশু ভয়াবহ এ বন্যার কবলে পড়ে পরিবার পরিজনের সাথে উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে। ছোট্ট শিশুরা শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে পানির দিকে তাকিয়ে রয়েছে। এছাড়া রয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব সঙ্গে নেই কোনো স্যানিটেশন ব্যবস্থা।

সিলেট-সুনামগঞ্জে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির পর পানি কমতে শুরু করলেও হাকালুকি হাওর দিয়ে কুলাউড়া পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়নে পানি বাড়তে শুরু করেছে। শহরের উপজেলার মেইন রোডে চলছে নৌকা। নৌকার পাশাপাশি যাত্রীদের ভ্যানই চলাচলের একমাত্র ভরসা। ইতোমধ্যে নি¤œাঞ্চলের প্রায় ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যার পানি বাসাবাড়িতে ঢোকার কারণে পরিবারের লোকজন অনেকের ঠিকানা হয়েছে এখন আশ্রয়কেন্দ্রে। মানুষের পাশাপাশি তাদের গৃহপালিত পশুরও থাকার ঠিকানা হয়েছে বিভিন্ন স্কুলের আশ্রয়কেন্দ্রে। বানভাসি লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে ত্রানসামগ্রী পেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করলেও গৃহপালিত পশুদের গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

উপজেলার ৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৫৯৮টি পরিবারের শিশুসন্তানসহ প্রায় ২ হাজারের উপরে লোকজন প্রায় সপ্তাহ দশদিন থেকে কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান করছেন। বিশেষ করে পৌর শহরের ইয়াকুব তাজুল মহিলা কলেজ, রাবেয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বন্যা আশ্রয় শিবির, ব্রাম্মনবাজার ইউসুফ তৈয়বুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কাদিপুর ও ভূকশিমইল ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। এতে আশ্রিতরা বাড়িঘর ছেড়ে আসলেও আশ্রয়কেন্দ্রে এসেই আবার পানির মোকাবেলা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে আশ্রিত অনেক পরিবারের নববধূ ও যুবতী মেয়েরা গোসল ও টয়লেটের বিড়ম্বনার সম্মূখীন হতে হচ্ছে।

এছাড়াও পানিতে সাপ ও নানা কীটপতঙ্গের তৎপরতা থাকায় সেই ভয়েও রয়েছেন আশ্রিতরা। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা থেকে ত্রাণ সামগ্রী আসলেও তা পর্যাপ্ত না হওয়ায় পানি ডিঙিয়ে বাজার থেকে সদাই সামগ্রী এনে নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে তা রান্না করতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে। বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আর কতদিন থাকতে হবে জেলখানার মতো বন্দী জীবনে তা এখনো জানেন না আশ্রিত অনেকেই। অনেকে জানান, পানি কমে আসলেও ঘরবাড়ি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করতে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করতে হবে তাদের।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বন্যা পরিস্থিতি


আরও
আরও পড়ুন