Inqilab Logo

শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯, ১৪ মুহাররম ১৪৪৪

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে বাধ্যতামূলক হচ্ছে ডোপ টেস্ট

দেশে ৮ মিলিয়ন মাদকাসক্তের ৮০ ভাগই যুবক সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৭ জুন, ২০২২, ১২:০১ এএম

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট (মাদক গ্রহণ করে কি না) বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সে জন্য প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আইন সংশোধন করা হবে।
মাদকের অপব্যবহার রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং মাদকাসক্তির চিকিৎসার বিষয়ে সর্বসাধারণকে অবহিত ও উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে প্রতি বছর ২৬ জুন জাতিসংঘ ঘোষিত ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে। মাদকের করাল গ্রাস থেকে বিশ্ববাসীকে রক্ষা করার জন্য জনসচেতনা সৃষ্টি এবং মাদকের ভয়াবহতার মর্মস্পর্শী ও করুণচিত্র বিশ্বের সর্বস্তরের জনগণের সামনে তুলে ধরার মাধ্যমে মাদকবিরোধী ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলাই এ দিবস পালনের মূল লক্ষ্য।
গতকাল রোববার সচিবালয়ে মাদকদ্রব্যের অপব্যাবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তজার্তিক দিবস ২০২২ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, ২০২১ সালে বিপুল পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্ধ করে ২১ হাজার ৯৯২ জনের বিরুদ্ধে ২০ হাজার ৫৯২টি মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদকের চাহিদা কমাতে পরিচালিত মাদকবিরোধী গতানুগতিক প্রচার কার্যক্রমের পরিবর্তে অধিদপ্তর সৃজনশীল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ মাদকদ্রব্য উৎপাদনকারী দেশ নয়। এ দেশে বাইরের দেশ থেকে বিভিন্ন পথে মাদকদ্রব্য পাচার হয়ে আসে। আমাদের দেশে মাদকদ্রব্যের পাচার এবং এর অবৈধ ব্যবহার বন্ধ করার জন্য পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র‌্যাব, কাস্টমস ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।

মিয়ানমার থেকে মাদকদ্রব্য আসছে, সেখানে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না কেন এমন প্রশ্নেন জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইয়াবা ও আইস নামে একটি ভয়ঙ্কর মাদক মিয়ানমার থেকে এসেছে। মিয়ানমারকে আমরা বহু অনুরোধ করেছি, তারা অনেক কথা বলে কিন্তু কোনটাই তারা কার্যকর করে না। প্রতিশ্রুতি অনেক কিছুই দেন কিন্তু কোনটাই কার্যকর করে না। তাদের ইয়াবা সরবরাহ বন্ধ করার জন্য বলেছি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অনেকেই মিয়নমার থেকে ইয়াবা আনছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা ফাঁক-ফোকর দিয়ে ইয়াবা আনার চেষ্টা করছে। যেখানে অভিযোগ পাচ্ছি, সেখানে আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা আমাদের সক্ষমতা বাড়াচ্ছি। বর্ডার লাইনে একটা সেন্সর করারও পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে গতকাল সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২২ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রায় আট মিলিয়নের (৮০ লাখ) বেশি মানুষ মাদকাসক্ত। এই আক্রান্তদের মধ্যে ৮০ ভাগই যুবক। তাদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ শিক্ষিত, আর বাকি ৪০ শতাংশ অশিক্ষত। মাদকের এই ভয়বহতা দূর করতে আইন সংশোধন হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনাদের কি মনে আছে, সেই ঐশির কথা কিংবা কেরানীগঞ্জের সেই পরিবারটির কথা। কী ভয়াবহ মাদকের ছোবল ছিল পরিবারগুলোর ওপর। মাদকের এই ছোবল থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হলে পরিবারের মাধ্যমে পরিবর্তন হতে হবে। পরিবার সচেতন হলে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সহজ কবে। মনে রাখবেন মাদকের সঙ্গে জড়িতদের শেষ গন্তব্য কিন্তু কারাগার। তাছাড়া ধুকে ধুকে তাদের মরতে হবে।

আসাদুজ্জামান বলেন, আক্রান্তরা অধিকাংশই ইয়াবা খায়, এরপর হেরোইন। এখন নতুন আইস বার এসেছে। এসব মাদকের কারবার লাভজনক হওয়ায় যুবসমাজ ঝুঁকে পড়ছে। আমাদের নিজেদের কর্তব্য আমাদের পালন করতে হবে। এ জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে ভয়াবহতা অপেক্ষা করছে। সচেতনার মাধ্যমেও পরিবর্তন সম্ভব। এখন ১০ ভাগ মানুষ সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। মাদকে একবারেই আসক্ত হয় না, প্রথমে সিগারেট, পরে গাঁজা খেয়ে সে শূন্যে ভেসে বেড়ায়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে জিরো টলারেন্স। প্রধানমন্ত্রীর ভিশন রয়েছে ২০৪১, যেখানে মাদকমুক্ত উন্নত দেশ গড়ার। আমরা মাদক থেকে বাঁচতে পারলে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগবে না।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ