Inqilab Logo

শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯, ১৪ মুহাররম ১৪৪৪

বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি দুর্ভোগ চরমে

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৮ জুন, ২০২২, ১২:০০ এএম

সিলেটে সুরমা নদীর পানি হঠাৎ বেড়েছে। তবে এতে ভয়ের কোনো কারণ নেই জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি না থাকলেও পাউবো’র পানির পরিমাপে গতকাল হঠাৎ পানি প্রবাহের পরিমাণ বেশি লক্ষ করা যায়। পাউবো তথ্যমতে, সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। গত রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওই পয়েন্টে পানি ছিল ১৩ দশমিক ৪৬ সেন্টিমিটার। তবে কুশিয়ারা নদীর শেওলা পয়েন্টে পানি গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৩ দশমিক ৫৯ সেন্টিমিটার দিয়ে অপরিবর্তিতভাবে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ ছাড়া নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেট পানি কমছে ধীরগতিতে। নেত্রকোনা বন্যার পানি নেমে গেছে। কিছু উপজেলায় নিম্নাঞ্চলে এখনো ৫০ শতাংশ এলাকার মানুষ পানিবন্দি আছে। আর হাওড়াঞ্চল মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরিতে ৬৮ শতাংশ এলাকায় পানি আছে এখনও। বন্যা দীর্ঘায়িত হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। কুড়িগ্রাামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দুর্ভোগ কমেনি বন্যাকবলিত মানুষের। পানি কমায় বানভাসি মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। কিন্তু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া এখনই উঠতে পারছে না তারা। সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি কমে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যাকবলিত এলাকার কিছু কিছু বসতবাড়ি থেকে নামতে শুরু করেছে পানি। এছাড়া যমুনায় পানি কমায় অন্যান্য নদ-নদীর পানিও কমছে।
সিলেট ব্যুরো জানায়, ছারছীনা দরবার শরীফের অরাজনৈতিক দ্বীনি সংগঠন বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর হেমায়েতে ইসলাম মিশনের উদ্যোগে সিলেটের বন্যা কবলিত এলাকা সীমারবাজার, বেইটাপাড়া, পংখিভাংগা (উত্তর), কইকান্দিরপাড় হাওড় এবং সুনামগঞ্জ জেলার সৈয়দপুর, দোয়ারা, জামালগঞ্জ, মঙ্গলকাটা, বিশম্বপুর, মোল্লাপাড়া, সুনামগঞ্জ সদরে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছারছীনা দরবার শরীফের ছারছীনা দারুসসুন্নাত কামিল মাদরাাসা ও ছারছীনা দারুসসুন্নাত জামেয়া এ নেছারীয়া দীনিয়া’র শিক্ষক ও ছাত্রবৃন্দ।
সুনামগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা জানান, ভয়াবহ বন্যায় রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ী ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানিতে ভেসে গেছে ঘরের মূল্যবান আসাবাবপত্র ও সাংসারিক উপকরণ। বেশীরভাগ মানুষের খাবারের ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে মালামালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অসংখ্য খামারীদের মাছ, হাঁস, মোরগ, গবাদি পশু মরে বানের জলে ভেসে গেছে। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বই খাতা ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এস.এস.সি পরীক্ষার্থীরা পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। বই খাতা কেনা নিয়ে দরিদ্র পরিবারের অভিভাবকরা পড়েছেন বেশী বিপদে। সুনামগঞ্জ পৌর কলেজের অধ্যক্ষ শেরগুল আহমদ জানান, প্রতিটি কলেজ, স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বই খাতার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বেশীর ভাগ শিক্ষার্থীর বই কেনার সামর্থ্য নেই। দ্রুত বই সরবরাহ করে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান তিনি। এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ইনকিলাবকে জানান, পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আমরা অবশ্যই শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেব। যাদের প্রবেশপত্র হারিয়েছে বা নষ্ট হয়েছে, তাদের দ্রুত সেগুলো সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। আবার যাদের বইপত্রের সমস্যা আছে, কেনার সামর্থ্য নেই, আমরা কিনে দেব।
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, আটমূল সালাফীয়া মাদরাসা শিবগঞ্জ বগুড়ার উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুবুর রহমানের সহযোগিতায় ত্রাণা পেল বন্যার্তরা। গতকাল সকালে উপজেলার চর পাত্রখাতা, শরিফেরহাট, ডেমনারপাড়, চিলমারী ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এসময় বন্যার্ত মানুষের মাঝে চাল, ডাল, তেল, আলুসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করা হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বন্যা


আরও
আরও পড়ুন