Inqilab Logo

বৃহস্পিতবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ০৩ ভাদ্র ১৪২৯, ১৯ মুহাররম ১৪৪৪

দায় কার?

পদ্মা সেতুর নাট-বোল্ট নড়বড়ে

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৯ জুন, ২০২২, ১২:০০ এএম

২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরদিন সকাল থেকে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়। কিন্তু প্রথম দিনেই উচ্ছাসিত মানুষের ভিড়ে একটি বিনোদন স্পটে পরিণত হয় পদ্মা সেতু এলাকা। নিষেধ থাকার পরও উল্লাসিত হাজার হাজার মানুষ সেতুতে উঠেন। তারা ভিডিও, ছবি তোলা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ প্রচার ও টিকটক ভিডিও ধারণ করতে শুরু করে। এতে পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা বিঘ্নিত এবং স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়। যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

সেতুর রেলিংয়ের নড়বড়ে নাট খুলে এক যুবকের টিকটক ভিডিও প্রকাশের পর আলোড়ন সৃষ্টি হয়। নানা ধরনের কথা রটে নেট দুনিয়ায়। এরপরই নড়েচড়ে বসেছে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ। জোরদার করা হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। চলে নাট টাইট দেয়ার কাজ। গত রোববার সকাল থেকে সেতুতে নির্মাণ শ্রমিকদের কাজ করেন। রেঞ্জ দিয়ে নাট টাইট দেন তারা। সেই সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ ধরনের আঠা। সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, কয়েকটি নাট খোলার ঘটনাটি ঘটে পদ্মা সেতুর জাজিরাপ্রান্তের ভায়াডাক্ট অংশে। সময় স্বল্পতায় সেতুর রেলিংয়ের সব নাট পরিকল্পনা অনুযায়ী শক্তভাবে এঁটে দেয়া যায়নি, সেতু উদ্বোধনের পর সেই কাজটি এখন চলমান। তবে প্রশ্ন হচ্ছে এ দায় কার? এতো বড় স্থাপনার নাট-বোল্ট ডিলে করে লাগিয়েছে তাদের নাকি যে সেটা খুলে দেখিয়েছে তার?

বায়েজিদ তালহা ও কায়সার নামের দুই বন্ধু গত বোরবার প্রাইভেটকারে করে সেতুতে যায়। বায়েজিদ ড্রাইভ করে। জাজিরা প্রান্তের ৩০-৩৫ নম্বর পিলারের মাঝামাঝি জায়গায় সেতুতে নামেন তারা। এরপর সেখানে সেতুর রেলিংয়ের নাট খুলে ফেলে বায়েজিদ। এই ঘটনা ভিডিও করে তার সঙ্গী। বায়েজিদ নাট বোল্ট হাতে নিয়ে পদ্মা সেতু নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে এবং ব্যঙ্গ করে। এই ভিডিওটি অল্প সময়ের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকা থেকে বায়েজিদ তালহাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এ ঘটনার পর পটুয়াখালী সদর উপজেলার লাউকাঠি ইউনিয়নের তেলিখালী গ্রামে বায়েজিদের গ্রামের বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী।

গত সোমবার মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ বলেন, পদ্মা সেতুর নাট বোল্ট হাত দিয়ে খোলা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে সেতু কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা করে জেনেছি, এত বড় একটা স্থাপনার নাট বোল্ট হাত দিয়ে খোলা যাবে না। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বায়েজিদ নাট খোলার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি কীভাবে এ কাজ করেছেন সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য দেননি। নাট খোলার জন্য সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। যারা পদ্মা সেতুর নাট-বোল্ট খুলেছে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের বলেছেন, সেতুর রেলিংয়ে লোহা নয়, ব্যবহার করা হয়েছে স্টেইনলেস স্টিল। ভায়াডাক্ট অংশে পদ্মা সেতুর রেলিংটি বানানো হয়েছে স্টেইনলেস স্টিল দিয়ে। এসব ক্ষেত্রে বোল্টের সঙ্গে নাট টাইট করার সময়, সেখানে এক ধরনের গ্লু বা আঠা ব্যবহার করতে হয়। তবে উদ্বোধনের আগে গ্লু দিয়ে সব নাট আটকানো সম্ভব হয়নি। বোল্ট, নাট এগুলো ঠিকঠাক ও মেরামত করাকে সেতু রক্ষণাবেক্ষণের চলমান প্রক্রিয়া বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সেতুর ওপর আমাদের আরও কিছু কাজ বাকি রয়েছে। সেতুতে যান চলাচলের মাঝেই সেই কাজগুলো চলতে থাকবে। তবে পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট হাত দিয়ে খোলা সম্ভব নয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পদ্মা সেতু


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ