Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯, ১০ মুহাররম ১৪৪৪ হিজরী

লালমনিরহাটে তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি ফের বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত

পানি বাড়ায় তীব্র ¤্রােতে বিলিন হচ্ছে বসতবাড়ি

লালমনিরহাট জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৯ জুন, ২০২২, ৭:৩৩ পিএম

লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির এক সপ্তাহ পর আবারো অবনতি হয়েছে প্রায় ১০ দিন পর ২৯ জুন বুধবার সকাল থেকে তিস্তার পানি ব্যারেজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে । ধরলার পানিও জেলার কুলাঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবৃদ্ধির কারনে জেলার শতাধিক চরের মানুষ পরিবার-পরিজন ও গবাদি পশু নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র, উঁচু রাস্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের উপর। পানি বাড়ার সাথে সাথে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙ্গন । গত ২৪ ঘন্টায় তিস্তা ধরলায় শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
বুধবার বিকেল ৩টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ব্যারেজ পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৭০ সেন্টিমিটার। যা স্বাভাবিক (৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার) চেয়ে ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে টানা ২৪ ঘণ্টা বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় তিস্তার পানি। ফলে নি¤œাঞ্চলে শুরু হয় বন্যা। যা ক্রমে কমে গিয়ে বন্যার উন্নতি ঘটে। এর রেশ কাটতে না কাটতে বুধবার (২৯ জুন) ফের উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তিস্তা ব্যারেজ রক্ষার্থে সব জলকপাট খুলে দিয়ে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ। পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার ৫টি উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী নি¤œাঞ্চলের প্রায় ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে এসব এলাকার আমন বীজতলা, বাদাম, তিল, পাট, ভুট্টা ও সবজী খেত। পানিবন্দী মানুষকে দিন কাটাতে হচ্ছে অনাহারে-অর্ধাহারে। নলকূপ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় পাওয়া যাচ্ছে না বিশুদ্ধ পানি। বাড়ি ছেড়ে রাস্তা ও বাঁধের উপর আশ্রয় নেওয়া মানুষজন গবাদিপশু নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। শুকনো খাবার পাউরুটি, চিড়া, মুড়ি, গুড় খেয়ে বাঁচতে হচ্ছে তাদের।
এদিকে তিস্তা- ধরলার পানির তীব্র ¯্রােতে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। সদর উপজেলার চর গোকুন্ডা, আদিতমারীর কুটিরপাড়, চন্ডিমারী, দক্ষিণ বালাপাড়া, কালীগঞ্জের শৈলমারী চর, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, সিন্দুর্না, ডাউয়াবাড়ি ও গড্ডিমারীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ৩ দিনে জেলার শতাধিক বসতবাড়ি তিস্তা ধরলার গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে কয়েকশ ঘরবাড়ি, স্থাপনা ও ফসলি জমি। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে তিস্তাপাড়ের মানুষের।
হাতীবান্ধার গড্ডিমারী ও সানিয়াজান ইউপির বানভাষী মানুষগুলো জানান, তিস্তার পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। বুধবার রাতে বেশ কিছু বসতভিটা তিস্তা গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
লালমনিরহাটের পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল কাদের জানান, গত ২৪ ঘন্টায় তিস্তা ধরলার ভাঙ্গনে ৮৮ টি বসতবাড়ি বিলিন হয়েছে। তবে ভাঙ্গনরোধে সংশ্লিষ্ট এলাকায় জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ